English Version

সাইবার সিকিউরিটি – দ্বিতীয় পর্ব

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক:

ইন্টারনেট সিকিউরিটির গুরুত্ব বাড়ছে কেন?? যতই দিন যাচ্ছে মানুষ ততই ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। তাই সাইবার অপরাধ, হ্যাকিংও দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে। সহজে মানুষের কনফিডেন্সিয়াল তথ্যগুলো হাতিয়ে নিচ্ছে সাইবার ক্রিমিনাল বা হ্যাকাররা। তাই ইউজাররা বিভিন্ন প্রকার সিকিউরিটি অপশন বা সফটওয়্যার ব্যবহার করে শক্তিশালী নিরাপত্তা গড়ে তোলার করা হচ্ছে।

এখন সাধারণত দেখা যায় যে অনেক বড় পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইউজাররা। যাতে সহজে পাসওয়ার্ড হ্যাক করা না যায়। তাছাড়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ভয়েজ রিকোগনাইজেশন, ফেইস রিকোগনাইজেশন, রেটিনা রিকোগনাইজেশন, ইউএসবি পোর্ট নাম্বার স্ক্যানিং, কিউআর কোড ইত্যাদির মাধ্যমে সিকুরিটিকে যথেষ্ট শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সাইবার ক্রিমিনাল বা হ্যাকাররাও থেমে নেই। তারাও নিরন্তর ভাবে নতুন নতুন পদ্ধতিতে, কিংবা বিভিন্ন টুল ব্যবহার সিকুরিটি হ্যাক বা দুর্বল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যার ফলে ইন্টারনেট সিকুরিটির গুরুত্ব দিনদিন বেড়েই চলছে।

আরো পড়ুন: সাইবার সিকিউরিটি – প্রথম পর্ব

ব্রেইনপ্রিন্ট বা মস্তিষ্কের বায়োম্যাট্রিক স্ক্যানিং কি? তথ্য নিরাপত্তা বা সাইবার সিকিউরিটির কে আরো শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য সাইবার বিজ্ঞানী, স্পেশালিষ্টরা প্রতিনিয়ত নতুন কিছু উদ্ভব করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর ধারাবাহিকতায় এসেছে ব্রেইনপ্রিন্ট বা মস্তিষ্কের বায়োম্যাট্রিক স্ক্যানিং। এটি একটি বহু ফ্যাক্টর বিশিষ্ট একক ধাপের পদ্ধতি। এর মাধ্যমে সহজে কোনো সিস্টেম বা একাউন্টের প্রকৃত ইউজারকে শনাক্ত করে নিরাপত্তার সাথে প্রবেশ করা সহজ হবে।

এই পদ্ধতিতে মস্তিস্কের স্ক্যানিং করার মাধ্যমে, কোনো সিস্টেম, সার্ভার ও একাউন্টের প্রকৃত ইউজাররা সাইবার বা কম্পিউটারে বা বিভিন্ন অনলাইন একাউন্ট যেমন গুগল ড্রাইভ, এভারনোট ইত্যাদি কিংবা সার্ভারে তথ্য সংরক্ষণ বা এক্সেস করা এবং তথ্যের শক্তিশালী নিরাপত্তা দিতে সম্ভব হবে। ফলে সাইবার ক্রিমিনাল বা হ্যাকারদের পক্ষে অন্য ইউজারের একাউন্টে প্রবেশ বা কোন সার্ভারে সাইবার আক্রমন করা অতিমাত্রায় কঠিন হবে বলে সাইবার বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

ফেসবুক পেইজে দেখুন

ব্রেইনপ্রিন্ট কিভাবে কাজ করে?
এই পৃথিবীতে প্রত্যেকটি মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট, চোখের মনি, DNA এর মত মস্তিস্কের কোষগুলোও একে অন্যের থেকে অালাদা। এই মস্তিস্কের কোষগুলোর অন্যান্য অঙ্গের মত নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে থাকে। যা প্রকৃতপক্ষে স্বতন্ত্র বা ইউনিক।

সাইবার বিজ্ঞানীরা ব্রেইনপ্রিন্ট গবেষণাটি করার জন্য বেশ কিছু সংখ্যক মানুষকে পরীক্ষার জন্য বেছে নেন। তারপর তাদের উপর ইলেক্ট্রো-এনসেফ্লো-গ্রাম (Electro-Encephalo-Gram=EEG) পরীক্ষা করা হয়। এতে তাদের মস্তিস্কের প্রতিক্রিয়াগুলোকে বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ হিসাবে নিয়ে রেকর্ড করা হয়। যা সংক্ষেপে ইইজি নামে পরিচিত।

গবেষণায় দেখা যায়, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়াগুলো প্রতিটি ব্যক্তির জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের প্রতিক্রিয়াগুলোর বৈদ্যুতিক কার্যকলাপকে কম্পিউটার দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, কম্পিউটার নির্ভুলভাবে ৯৪ শতাংশ ব্যক্তিকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। গবেষণায় আরও দেখা যায় যে, এই প্রতিক্রিয়াগুলো দীর্ঘস্থায়ী এবং ৬ মাস পরেও নির্ভুল সনাক্তকরনের হার একই। বিজ্ঞানী ও স্পেশালিষ্টরা সনাক্তকরন নির্ভুলতাকে ১০০% এ করার জন্য জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কম্পিউটার, বিভিন্ন একাউন্ট এবং সার্ভারে প্রবেশের ক্ষেত্রে, EEG পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যগুলোর সাথে বর্তমান প্রাপ্ত তথ্য সাথে ম্যাচিং বা মিল করানো হয়। তাতে কেবল তথ্যগুলো মিল হলেই এক্সেস করতে সক্ষম হবে। এতে তথ্য হ্যাক করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং দুর্বোধ্য পাসওয়ার্ড মনে রাখার মত কষ্ট করা লাগবে না। তথ্যগুলো নিরাপত্তার সাথে রাখা সহজ হবে আশা করা যায়, ব্রেইন প্রিন্ট বা মস্তিকের বায়োমেট্রিক স্ক্যানিং সাইবার জগতে নতুন দিগন্ত বয়ে আনতে সহায়ক হবে। বিডিটুডেস/আরএ/০৬ জুলাই, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

3 × 3 =