English Version

আজকের চাকরির খবর লাইভ খেলা দেখুন

সুস্থ গর্ভধারণের কিছু মৌলিক প্রস্তুতি!

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক: সুস্থ ও স্বাভাবিক গর্ভধারণ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী সন্তান প্রসবের সম্ভাবনা সুনিশ্চিত গর্ভধারণের প্রাক-প্রস্ততির গরুত্ব অপরিসীম। এ জন্য দরকার যথাযথ শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক প্রস্ততি গ্রহণ। গর্ভাবস্থায় প্রতিমুহুর্তেই যেমন সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি ঠিক তেমনি গর্ভধারণের আগেও বেশ কিছু বিষয়ে বাড়তি সচেতনতা দরকার। দর্ভধারণের অন্তত দুই মাস আগে থেকে কিছু মৌলিক বিষয়ে প্রস্ততি নেয়া আবশ্যক।

আরো পড়ুন:- স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যায়াম এর প্রয়োজনীয়তা ও নিয়মাবলী!

প্রি-কনসেপশন চেকআপ: গর্ভধারণসংক্রান্ত প্রাথমিক প্রস্ততি হিসেবে একজন গাইনি চেকআপ করিয়ে নিতে হবে। চিকিৎসক পারিবারিক ইতিহাস, ওষুধসংক্রান্ত বা মেডিক্যাল হিস্ট্রি বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তরিকতা ও খোলাখুলিভাবে কো-অপারেশন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রোগী বর্তমান স্বাস্থ্য চেকআপ, কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন কি না, সেটি কনসেভ করার আগেই বন্ধ করা দরকার বা পরিবর্তন দরকার কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জরুরি। কারণ কিছু কিছু ড্রাগ গর্ভবতীর শরীরের চর্বিতে জমে তেকে পরবর্তীকালে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। টিকা বা ভ্যাক্সিনেশন: সকল টিকা নেয়া আছে কি না বিশেষ করে চিকিনপক্স বা রুবেলা প্রতিরোধী কি না চেক করে দেখা দরকার। সময়মতো টিকাগুলো নিয়ে রাখলে ঝুঁকিমুক্ত থাকা যায়।

বিশেষ রোগের সতর্কতামূলক চিকিৎসা: কিছু মেডিক্যাল কন্ডিশন যেমন- অ্যাজমা, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট অন্য বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করবেন অথবা সমন্বয় করে চিকিৎসা দেবেন। সেই সাথে গর্ভকালীন খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ সংক্রান্ত ও নিয়মিত অনুসরণের জন্য লাইভস্টাইল বিষষয়ক পরামর্শ মেনে চলতে হবে। বদ অভ্যাস পরিহার: হবুমাতার কোনো বাজে অভ্যাস যেমন-ধুমপান, তামাকপাতা কিংবা জর্দা সেবন, মদপান বা ড্রাগ নেয়ার প্রবণতা থাকলে সে ব্যাপারে সুপরামর্শ দেবেন। এই বদ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করা সহজ না হলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা এখনই বন্ধ করা দরকার-সে বিষয়ে সচেতন হওয়া। একটি গবেষণা রিপোর্টে জানা যায়, এমন অভ্যাসের ফলে গর্ভপাত, সময়ের আগেই প্রসব, সন্তানের ওজন কম হওয়া, মেয়েদের জরায়ুর উর্বরতা হ্রাস হয় এবং ছেলেদের শুক্রাণু কমে যায়।

বন্ধ্যত্বের পরীক্ষণ: তারপর রোগী সন্তান ধারণে প্রকৃতপক্ষে সক্ষম কি না সেই নিশ্চিত পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন বিশেষ করে বন্ধ্যত্বের ক্ষেত্রে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ দেবেন। এ ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের কারণেই বন্ধাত্ব আসতে পারে। তাই স্বামী -স্ত্রী উভয়কে পৃথক পৃথকভাবে টেস্ট করে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে। কোনো দম্পতির স্বামী কিংবা স্ত্রীর একক কিংবা যৌথ সমস্যা ধরা পড়লে সে অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের বিরতিতে চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে। গাইনোকোলজিক্যাল অবজারভেশন: মহিলার ক্ষেত্রে তার জরায়ুমুখের সমস্যা দেখার জন্য প্যাপ টেস্ট করতে হবে। জরায়ু এবং এর পার্শ্ববর্তী অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিক আছে কি না তার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা প্রয়োজনে ট্রান্স ভ্যাজানাইল আল্ট্রাসনিক অবজারভেশনের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। একটি সার্থক প্রসব সুস্থ্য জরায়ু ও গর্ভশয়ের ওপর নির্ভরশীল। জেনেটিক বা বংশগত ত্রুটি: স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজন কিংবা দু’জনেই মারাত্মক বংশগত রোগ যেমন- সিস্টিক ফাইব্রোসিস, সিকেল সেল ডিজিজ বা অন্যান্য রোগের বাহক কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য জেনেটিক ক্যরিয়ার স্ক্রিনিং করার ব্যবস্থা করতে হবে। এসব বংশগত রোগে বাব-মা দুজনের কাছ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ত্রুটিপূর্ণ জিন পেলে গর্ভস্থ বা ভূমিষ্ঠ শিশুর জটিলতা দেখা দেয়। আর একটি প্রতি চারজনের ক্ষেত্রে একজন হয়ে থাকে বলে একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা থেকে জানা যায়। তবে এসব রোগের বাহকের মধ্যে রোগের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না।

ফলিক এসিড গ্রহণ: গর্ভধারনে অন্তত এক মাস আগে থেকেই প্রতম ট্রাইমিস্টার পর্যন্ত প্রতিদিন নিয়মিত ৫০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক এসিড গ্রহণ শুরু করা দরকার। কারণ এটি গর্ভের শিশুর নিউরাল টিউব ডিফেক্ট যেমন- স্পাইনা-বাইফিডা হওয়ার আশঙ্কা ৫০-৭০ ভাগ কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া আরো অনেক জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সাহায্য করে। পুষ্টিকর প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণ: নিয়মিত সুষম প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, মওসুমি ফল খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। জাঙ্কফুড বাদ দিতে হবে, ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন-দুধ, দই , বিভিন্ন ধরনের প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন- শি, মটরশুটি, বাদাম, গোশত ইত্যাদি গ্রহণ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। গর্ভধারণের আগে থেকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে প্রয়োজণীয় পুষ্টি শরীরে সঞ্চিত হতে থাকবে এবং গর্ভবতীর জেসটিশনাল ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।

ডায়েট চার্ট অনুসরণ: শরীরের ওজন বেশি হলে ডায়েটেশিয়ানের শরাণাপন্ন হতে হবে। নিয়মিত ডায়েট চার্ট অনুসরণ করে বিএমআই কাক্সিক্ষত মানে আনতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে বিএমআই কম-বেশি হলে গর্ভধারণ কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাতে প্রসবকালীন জটিলতা দেখা দেয়। অনেক সময় কম ওজনের বেবি প্রসব করতে দেখা যায়। শারীরিক ব্যায়াম: বিএমআই অনুযায়ী, ওজন যাই হোক না কেন প্রতিদিন নিয়মিত অন্তত ৩০ মিনিট হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। দাঁতের যত্ন: গর্ভকালীন সময় দাঁত চিকিৎসার জন্য উপযোগী নয়, তাই গর্ভধারণের আগেই অভিজ্ঞ দন্তচিকিৎসকের মাধ্যমে দাঁতের সূচিকিৎসা করিয়ে নেয়া দরকার। গর্ভাবস্থায় নারীর দেহে হরমোনজনিত কিছু পরিবর্তনের কারণে (৫০-৭০)% দাঁত ও মাঢ়িতে জমে থাকা খাদ্যকণা খুব সহজেই ডেন্টাল প্লাগে পরিণত হয়, যার ফলে ভ্রুণের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এ অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় প্রেগন্যান্সি জিনজিভাইটস বলা হয়।
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ওপরের উল্লেখিত মৌলিক প্রস্ততিগুলো যথাযথভাবে মেনে চললে একটি নিরাপদ গর্ভ ও রোগমুক্ত সুস্থ ও সবল শিশু আশা করা যায়। বিডিটুডেস/আরএ/১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮