English Version

সৈয়দ শফিকুল ইসলাম বাবুল শাহ এর ৫৫ তম বার্ষিক ওরস (ভিডিওসহ)

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

আল হেলাল, সুনামগঞ্জ: বাউল গান,আলোচনা সভা এবং দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মধ্যে দিয়ে সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী ইসলামপুর গ্রামে মরমী সাধক সৈয়দ শফিকুল ইসলাম বাবুল শাহ এর ৫৫ তম বার্ষিক ওরস মোবারক সম্পন্ন হয়েছে। ৩০ জানুয়ারী বুধবার রাত ৯ টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা প্রহরায় বিস্তারিত কর্মসুচি পালনের মধ্যে দিয়ে এই ওরস মোবারক শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। বাবুল শাহর একমাত্র পুত্র আলহাজ্ব সৈয়দ আব্দুল্লাহ মিন্টুর সভাপতিত্বে ও আয়োজক পরিচালক আওয়ামীলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বাউল কামাল পাশা স্মৃতি সংসদ এর প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক সাংবাদিক আল-হেলাল,ব্যবসায়ী জালু মিয়া,খাদেম বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলু মিয়া,

চট্রগ্রামের সীতাকুন্ড কদম রসুল নিবাসী মোঃ আবু তাহের,আবুল কালাম, সুনামগঞ্জের জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের সংস্কৃতানুরাগী শফিকুল ইসলাম ভান্ডারী,ইরশাদ মিয়া,সারোয়ার হোসেন,মঙ্গলকাটা নিবাসী জসীম উদ্দিন,বাঘমারা নিবাসী সংস্কৃতানুরাগী হারুন অর রশীদ রানা,বনগাঁওয়ের সংস্কৃতানুরাগী ডাঃ আবুল কাশেম,শহরের ব্যবসায়ী তোলা মিয়া ও মুর্শেদ আহমদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা বক্তব্য রাখেন। পরে রাতব্যাপী ওরস অনুষ্ঠানে বাউল গান পরিবেশন করেন সাংবাদিক বাউল আল-হেলাল,বাউল আলাউদ্দিন পাশা,বাউল শফিক তালুকদার,বাউল শুকুর আলী,বাউল আব্দুল কাইয়্যূম পাশা,বাউল জাকির দেওয়ান,বাউল সুফিয়া আনাস,বাউল রুখসানা ভান্ডারী,সামাদ বাউল,বাউল ফারুক দেওয়ান,বন্যা সরকার,রুনা আক্তার,মাইনুল ইসলাম,আখি আক্তার,নাদিয়া আক্তার মৌ ও গীতাবৈদ্য পাখিসহ স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ। যন্ত্রশিল্পী হিসেবে বাশীতে কনু বাবু,ঢুলিতে গেদা মিয়া ও হারমুনিতে শফিক মিয়া সহযোগীতা করেন।

উল্লেখ্য প্রয়াত মরমী সাধক শফিকুল ইসলাম বাবুল শাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্জারামপুর থানার বাহারনগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম বসর উদ্দিন মাওলানা। পার্শ্ববর্তী উলুকান্দি গ্রামের মঞ্জুরা খাতুনের সাথে বিবাহের পর তিনি জীবিকার প্রয়োজনে চলে যান চট্রগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার কদম রসুল গ্রামে। কিছুদিন পর সংস্কৃতির সাধনা করতে গিয়ে দোতারাকে সঙ্গী করে সংসার পরিবার পরিজন ছেড়ে তিনি দেশান্তরী হন। মরমী সংস্কৃতির তীর্থস্থান সুনামগঞ্জের উত্তর সুরমা পাড়ের জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের জঙ্গলে এসে ধ্যানমগ্ন সাধনায় নিমজ্জিত হন তিনি। ১৯৬৪ সালের ৩০ জানুয়ারী মোতাবেক ১৭ই মাঘ ইসলামপুর গ্রামেই তিনি মৃত্যুবরন করেন। পরে পরিবার পরিজন স্বপ্নযোগে তার অনুসন্ধানে বের হয়ে ইসলামপুরে তার কবরস্থানটি সনাক্ত করে এখানে গড়ে তুলেন একটি মাজার। বর্তমানে ৮ কেদার জায়গাজুড়ে তার মাজার ও বাবুল শাহ ফোরকানীয়া মাদ্রাসা রয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত আশেকানদের মিলন মেলায় এই মাজারে ওরস মোবারকের আয়োজন করা হয়। প্রতিবছরের মাঘ মাসের ১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত ওরস উৎসবে প্রায় ২৫ হাজার ভক্ত আশেকান সমবেত হন। বিডিটুডেস/আরএ/০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ten − nine =