English Version

হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

প্রতীকি ছবি

রিপন মাহমুদ, পিরোজপুর: নাজিরপুর উপজেলা থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে। মৎস্য আহরনকারীদের অনেকেই মৎস্য আইন মেনে না চলায় এ অবস্থার স্মৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের হাটেও এখন আর দেশীয় প্রজাতির মাছ তেমন একটা দেখা যায়না। দু’দশক পূর্বেও হাটে বাজারে শিং,কৈ, মাগুর, পাবদা, টাকি,শোল,গজার,বোয়াল, আইর, বাঘ আইর, রীডা, বাইন, তুলা বাইন, শালবাইন, পুটি, স্বরপুটি, রয়না(ভেদা), বুটকুনি, খলিশা, ফলি, ট্যাংরা, কালিন্দি(নুন্দী), পাঙ্গাশ,কালিবাউশ, চিতল, গাংচেলা, থুড়িয়া, বাইলা, ধুতরীসহ বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ দেখা যেত।

আরো পড়ুন: সীমান্তে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না- রিজিয়ন কমান্ডার

এসব মাছ এখন আর তেমন একটা দেখা যায়না।এখন ঘেরে তেলাপিয়া,পাঙ্গাশ,থাই পুটি,কৈ মাছের চাষ হলেও খেতে সুস্বাদু নয়। দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে ভয়াবহ তথ্য। কলারদোয়ানিয়া গ্রামের হায়দার আলী বলেন আশ্বিন মাস শেষ হতে না হতেই গ্রামের পুকুর, ডোবা, জলাশয়ে এমনকি ছোট ছোট খাল ,দোনা সেচ দিয়ে মাছ ধরে ফেলা হয়। কাদার মধ্যেও দু,চারটে মাছ লুকিয়ে থাকতে পারেনা।ফলে মা মাছ না থাকলে মাছের পোনা থাকবে কীভাবে। চৌঠাইমহল গ্রামের উকিল শেখ বলেন বৈশাখ মাসের শেষ দিকেই শুরু

ফেসবুক পেইজে দেখুন

হয় দুয়াইর( চাই), কারেন্ট জাল, মশারী জালসহ বিভিন্ন জাল পাতা। ফলে গ্রাম গায়েঁর মাছ আস্তে আস্তে শেষ হয়ে গেছে। ভাইজোড়া গ্রামের চাষী রেজাউল করিম বলেন ধানসহ সকল শাক সবজি উৎপাদনে যথেচ্ছ পরিমানে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় ফলে মাছের রেনু নষ্ট হয়ে যাওযায় আজকের এই অবস্থা । তিনি বলেন এ জন্য আমরাই দায়ী। নাজিরপুরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আনছার আলী সরদার এর সাথে সার কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন আমরা কৃষি বিভাগ থেকে চাষীদের জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও গোপনে তারা রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন।

ফলে কীটনাশক পানিতে মিশে মাছসহ বিভিন্ন পোকা মাকড়ের বংশও শেষ হয়ে যাচ্ছে। নাজিরপুরের সহকারী মৎস্য অফিসার তপন কুমার বেপারীর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে নাজিরপুরের বিল এলাকায় এখনো দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন আমরা মৎস্যজীবীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণে এবং সচেতনতা সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। এছাড়া ফরমালিন নিয়েও কথা বলি। নিষিদ্ধ ঘোষিত জাল বারবার আটক করে পুড়িয়ে ফেলেছি।তবে জনবলসহ অনেক সীমাবদ্ধতা আছে বলে তিনি জানান। দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় সবাই এগিয়ে না এলে আগামী প্রজন্ম এসব মাছের নাম শুধু বই পুস্তকে পাঠ করবে বাস্তবে দেখবেনা। বিডিটুডেস/আরএ/০৯ জুলাই, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × 2 =