রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"! • রংপুরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার - ৯টি • বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি • বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএলআরআইতে বর্ণাঢ্য আয়োজন • ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ • সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ • বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস • ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দেবে জাপান • আবেগ, অশ্রুতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায় • কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন
জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকী আজ

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকী আজ

‎আজ ১ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সেনাপ্রধান ও প্রথম জেনারেল বঙ্গবীর মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৯১৮ সালের এই দিনে সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদান তাঁকে জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর করে রেখেছে।
‎
‎শৈশব ও শিক্ষাজীবন
‎
‎শৈশবেই বুদ্ধিমত্তা ও নেতৃত্বের স্বাক্ষর রাখেন ওসমানী। তিনি সিলেটের মৌলভীবাজার সরকারি স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। পরবর্তী সময়ে ভর্তি হন সিলেটের মর্যাদাপূর্ণ আলী আমজাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে কলকাতার আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ইংল্যান্ডে সামরিক প্রশিক্ষণে যোগ দেন। তিনি স্যান্ডহার্স্ট রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশনপ্রাপ্ত হয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ছিলেন, যা তাঁর পরবর্তী জীবনের সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করে।
‎
‎সেনাবাহিনীতে চাকরিজীবন
‎
‎১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সেনাবাহিনীতে দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে তিনি দ্রুতই উচ্চপদে উন্নীত হন। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সেনানীতিতে কঠোর শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব প্রদানের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্নেল পদে উন্নীত হলেও বাঙালি অফিসারদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণে তিনি হতাশ ছিলেন। দীর্ঘ সেবা শেষে ১৯৬৭ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।
‎
‎মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব
‎
‎১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরোচিত হামলার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মুজিবনগর সরকার জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করে। তাঁর নেতৃত্বেই মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিকল্পনা করা হয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করেন এবং প্রত্যেক সেক্টরের জন্য দক্ষ সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ দেন।
‎
‎গেরিলা যুদ্ধের কৌশল, সীমান্তবর্তী শিবিরে প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে ওসমানী ছিলেন অগ্রগণ্য। ভারতের সহযোগিতা লাভ ও সমন্বিত যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মুক্তিবাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে দাঁড় করান। তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয় এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।
‎
‎স্বাধীনতার পর অবদান
‎
‎স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশের প্রথম সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সেনাবাহিনীকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে তিনি নিরলস পরিশ্রম করেন। একইসাথে তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় হন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের পক্ষে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন।
‎
‎মৃত্যু ও স্বীকৃতি
‎
‎১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তাঁকে সিলেটের শাহজালাল মাজার গোরস্তানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
‎
‎জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী তাঁর জীবদ্দশায় অসামান্য অবদানের জন্য “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত হন। মৃত্যুর পর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয় তাঁকে। আজও জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করে।
‎
‎উল্লেখ্য,বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী ছিলেন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, যিনি তাঁর মেধা, নেতৃত্ব ও ত্যাগের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে মুক্তির স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তাঁর জন্মবার্ষিকীতে জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছে এই মহান মুক্তিযোদ্ধাকে।

খুঁজুন