শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
মহানগর ১২ ঘণ্টায় বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দুই সিটির

১২ ঘণ্টায় বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দুই সিটির

কোরবানির পশুর বর্জ্য দিনের মধ্যে সরানোর ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। দক্ষিণ সিটির প্রশাসক শাহজাহান মিয়া বলেন, ঈদের দিন বিকাল থেকে আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু হবে। আমরা আশা করছি, ১২ ঘণ্টার ভেতরে আমরা কোরবানির ময়লা পরিষ্কার করব। পরিষ্কারের জন্য প্রায় ১০ হাজারের বেশি কর্মী আমরা প্রস্তুত রেখেছি। প্রস্তুত রয়েছে সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয়সংখ্যক গাড়ি। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে এসব কথা জানান তিনি।

শাহজাহান মিয়া বলেন, একই সঙ্গে সরকারের অন্যান্য সংস্থার কাছে রিকুইজিশন দিয়ে রেখেছি, যদি বেশি গাড়ির প্রয়োজন হয়, সেগুলো আমরা নেব। যেসব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান ময়লা কালেকশন করে বাসাবাড়ি থেকে তাদেরও আমরা এ অপসারণের কাজে সম্পৃক্ত করেছি। কাজেই আমাদের প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই।

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যদি এক জায়গায় কোরবানি দেয়া যায়; তাহলে আমাদের বর্জ্য কালেকশনে সুবিধা হয়। এছাড়া ইন্ডিভিজুয়ালি কেউ কোরবানি দিলে সেই ময়লাও আমাদের কর্মীরা করতে প্রস্তুত থাকবে। বর্জ্য কালেকশনে আমাদের কোনো দুর্বলতা থাকবে না।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বুধবার আমিনবাজার ল্যান্ডফিল পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, ঈদে দিনের বর্জ্য দিনের মধ্যেই অপসারণ করে শহর পরিচ্ছন্ন রাখা হবে। সংস্থার প্রায় ১০ হাজার কর্মী ঈদের তিনদিন এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

এবার ঈদে প্রায় ২০ হাজার টন বর্জ্য তৈরি হবে বলে ধারণা করছে ডিএনসিসি। এ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে ২২৪টি ডাম্প ট্রাক, ৩৮১টি পিকআপ, ২৪টি পেলোডার নিয়োজিত থাকবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সাড়ে ১২ লাখ পলিব্যাগ, আড়াই হাজার বস্তা ব্লিচিং ও চার হাজার ক্যান স্যাভলন বিতরণ করা হয়েছে। এবার পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আমিনবাজারে দুটি পরিখা খনন করার কথা জানিয়েছে উত্তর সিটি করপোরেশন।

এদিকে কোরবানির পশুর বর্জ্য পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য দেশের সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। যত্রতত্র পশু জবাই, উচ্ছিষ্ট ফেলা ও বর্জ্য জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি তৈরি করে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোরবানির সময় গবাদিপশুর রক্ত, গোবর, নাড়িভুঁড়ি ও অন্যান্য পরিত্যক্ত অংশ যত্রতত্র ফেলে রাখার কারণে পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ দেখা দেয়। এ অবস্থায় সবাইকে সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। উন্মুক্ত বা অনির্ধারিত স্থানে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জবাইয়ের সময় ও পরবর্তী কার্যক্রমে গ্লাভস, মাস্ক, অ্যাপ্রোন ইত্যাদি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, পশুর রক্ত, গোবর, চামড়া, হাড়, শিং, নাড়িভুঁড়ি ইত্যাদি যেন কোনো অবস্থাতেই খোলা জায়গায় না ফেলা হয়। এসব নির্ধারিত গর্তে ফেলে মাটিচাপা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোরবানির মাংস বিতরণ বা বর্জ্য অপসারণে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বা পাত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে, যাতে প্লাস্টিক দূষণ এড়ানো যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অপসারণে স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করা সামাজিক ও নাগরিক দায়িত্ব। পরিবেশ রক্ষার মাধ্যমে যেমন আমরা নিজেরা সুস্থ থাকি, তেমনি চারপাশকেও নিরাপদ রাখা সম্ভব।

খুঁজুন