শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় ২০২৫ সালে সড়কে ৯১১১ প্রাণহানি

২০২৫ সালে সড়কে ৯১১১ প্রাণহানি

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতি জানায়, গত বছর রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪৮৫ জন নিহত এবং ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত, ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে সর্বমোট দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৩৬৯টি। এতে নিহত হয়েছেন মোট ৯ হাজার ৭৫৪ জন মানুষ। আর আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৬ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আহতের হার ১৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে। আর এই এক বছরে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ১০ হাজার ২৮৮।

যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলছে, এসব দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বেপরোয়া গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, সড়কের নির্মাণত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ইত্যাদি। সংগঠনটি মনে করে, সরকার সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিতে পারায় পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্যের চেয়ে বাস্তব চিত্র অন্তত পাঁচ গুণ বেশি। গণমাধ্যমে সামগ্রিক পরিস্থিতি পুরোপুরি উঠে আসে না বলেই এমনটি ঘটে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব দাবি করেন, রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়েও বেশি রোগী ভর্তি হন। যাচাই-বাছাই করেই তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে মোজাম্মেল হক বলেন, দেশের প্রকৃত উন্নয়নে তাদের ভূমিকা নগণ্য। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো যেন তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সড়কনিরাপত্তা ও উন্নত গণপরিবহনের অঙ্গীকার প্রদান করে, সেই দাবি জানান তিনি।

খুঁজুন