এম.পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঘূর্নিঝড় ‘সিত্রাং’ এর আঘাতে উপকূলীয় উপজেলা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দুই শতাধিক কাঁচা বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ডুবে গেছে এক হাজার মৎস্যঘের। বিদ্যুতবাহি ৩টি খাম্বা ভেঙ্গে পড়েছে। গাছ উপড়ে তার ছিড়ে পড়েছে কয়েক কিলোমিটার এলাকার। ফলে ঝড় আঘাত হানার ২৪ ঘন্টার পার হলেও এখনো প্রায় ৪০ হাজার পরিবার অন্ধকারে রয়েছে। পায়নি বিদ্যুৎ সংযোগ। জাহেদা বেগম (৪০) নামের এক নারী শ্রমীকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়াও কাঁচা সড়ক ধ্বসে পড়েছে প্রায় ৫০ কিলোমিটার। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ, দুটি কাঠের পুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১২০ হেক্টর আমন ধানের ক্ষেত, ৫০ হেক্টর জমির সবজি, ৫ হেক্টর জমির কলাবাগান, ১ হেক্টর জমির পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টানা দু’দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ে সবমিলিয়ে মোরেলগঞ্জে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে পুটিখালী ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামে স্বামী পরিত্যক্ত দিনমজুর শ্রমীক জাহেদা বেগম ঝড়ের মধ্যে ছাগল খুজতে গিয়ে গাছের আঘাতে গুরুত্বর আহত হয়ে রাত ৯টার দিকে নিহত হয়।
উপজেলার ৮৬ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরববরাহ করতে পেরেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। শতভাগ বিদ্যুৎ চালু করতে আরও ২৪ ঘন্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ মোরেলগঞ্জ ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান।

উপজেলা কৃষি অফিসার আকাশ বৈরাগী জানিয়েছেন, ১২০ হেক্টর আমন ধান ফসলে আংশিক ক্ষতি, শীতকালিন সবজি ২০০ হেক্টর আক্রমন হয়েছে এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০ হেক্টর, কলা ক্ষেতে ৬ হেক্টর আক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হেক্টর, পান চাষে ২০ হেক্টর আক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হেক্টর। উপজেলা মৎস্য অফিসার বিনয় কুমার রায় বলেন, ঝড়ের কবলে সাড়ে ৮ শ’ মৎস্য ঘের ও পুকুরে মাছ বেড়িয়ে গিয়ে ৯২ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমান নিরুপন করে উর্দ্ধতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, সিত্রাংয়ের আঘাতে গোয়াল ঘর চাপা পড়ে ১৫টি গবাদী পশু মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ইতোমধ্যে উর্দ্ধতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল জাবির বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে এ উপজেলার সব সেক্টরে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ১০৭টি সাইক্লোন শ্লেল্টারে শুকনা খাবার চিড়া, মুরি, গুড় মোমবাতি, দিয়াশলাই দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ন বিধস্ত ৩৮টি ঘর ও আংশিক ২২৬ টি ঘরের ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে তালিকা পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, সিত্রাংয়ের আঘাতে ৫০কিলোমিটারের ২০টি কাঁচা-পাকা রাস্তা বিধস্ত হয়েছে। দুইটি কাঠের পুল ভেঙ্গে গিয়েছে। ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপন চলছে। তবে শুধু মৎস্য সেক্টরেই প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
৪০ হাজার পরিবার অন্ধকারে, ৫০ কিলোমিটার রাস্তা বিধস্ত
৪০ হাজার পরিবার অন্ধকারে, ৫০ কিলোমিটার রাস্তা বিধস্ত
এম.পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঘূর্নিঝড় ‘সিত্রাং’ এর আঘাতে উপকূলীয় উপজেলা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দুই শতাধিক কাঁচা বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ডুবে গেছে এক হাজার মৎস্যঘের। বিদ্যুতবাহি ৩টি খাম্বা ভেঙ্গে পড়েছে। গাছ উপড়ে তার ছিড়ে পড়েছে কয়েক কিলোমিটার এলাকার। ফলে ঝড় আঘাত হানার ২৪ ঘন্টার পার হলেও এখনো প্রায় ৪০ হাজার পরিবার অন্ধকারে রয়েছে। পায়নি বিদ্যুৎ সংযোগ। জাহেদা বেগম (৪০) নামের এক নারী শ্রমীকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।এ ছাড়াও কাঁচা সড়ক ধ্বসে পড়েছে প্রায় ৫০ কিলোমিটার। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ, দুটি কাঠের পুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১২০ হেক্টর আমন ধানের ক্ষেত, ৫০ হেক্টর জমির সবজি, ৫ হেক্টর জমির কলাবাগান, ১ হেক্টর জমির পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টানা দু’দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ে সবমিলিয়ে মোরেলগঞ্জে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।এদিকে পুটিখালী ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামে স্বামী পরিত্যক্ত দিনমজুর শ্রমীক জাহেদা বেগম ঝড়ের মধ্যে
ছাগল খুজতে গিয়ে গাছের আঘাতে গুরুত্বর আহত হয়ে রাত ৯টার দিকে নিহত হয়।উপজেলার ৮৬ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরববরাহ করতে পেরেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। শতভাগ বিদ্যুৎ চালু করতে আরও ২৪ ঘন্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ মোরেলগঞ্জ ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান। উপজেলা কৃষি অফিসার আকাশ বৈরাগী জানিয়েছেন, ১২০ হেক্টর আমন ধান ফসলে আংশিক ক্ষতি, শীতকালিন সবজি ২০০ হেক্টর আক্রমন হয়েছে এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০ হেক্টর, কলা ক্ষেতে ৬ হেক্টর আক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হেক্টর, পান চাষে ২০ হেক্টর আক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হেক্টর। উপজেলা মৎস্য অফিসার বিনয় কুমার রায় বলেন, ঝড়ের কবলে সাড়ে ৮ শ’ মৎস্য ঘের ও পুকুরে মাছ বেড়িয়ে গিয়ে ৯২ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমান নিরুপন করে উর্দ্ধতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সঞ্জয়
বিশ্বাস বলেন, সিত্রাংয়ের আঘাতে গোয়াল ঘর চাপা পড়ে ১৫টি গবাদী পশু মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ইতোমধ্যে উর্দ্ধতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল জাবির বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে এ উপজেলার সব সেক্টরে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ১০৭টি সাইক্লোন শ্লেল্টারে শুকনা খাবার চিড়া, মুরি, গুড় মোমবাতি, দিয়াশলাই দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ন বিধস্ত ৩৮টি ঘর ও আংশিক ২২৬ টি ঘরের ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে তালিকা পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, সিত্রাংয়ের আঘাতে ৫০কিলোমিটারের ২০টি কাঁচা-পাকা রাস্তা বিধস্ত হয়েছে। দুইটি কাঠের পুল ভেঙ্গে গিয়েছে। ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপন চলছে। তবে শুধু মৎস্য সেক্টরেই প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত