শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর ৫ বছরেও শেষ হয়নি ৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ

৫ বছরেও শেষ হয়নি ৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ

রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি: দীর্ঘ ৫ বছরেও শেষ হয়নি রাজবাড়ী শহরের পৌর এলাকার ৪ কিলোমিটার ৪ লেনবিশিষ্ট আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ। ৪ বার মেয়াদ বাড়িয়েও কাজ শেষ না করে পুনরায় মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এক লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। ব্যস্ততম সড়ক হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলের ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশ্বস্ততা উন্নীতকরণ প্রকল্পের (গোপালগঞ্জ অঞ্চল) আওতায় রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজের দরপত্র আহ্বান করে ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজের ব্যয় ধরা হয় ৬০ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৬ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা। কাজের মধ্যে পৌরসভার ৪ কিলোমিটার সড়ক হবে ৪ লেনবিশিষ্ট। রাস্তার মাঝখানে ৪ ফিটের একটি সড়ক বিভাজন থাকবে। আর উভয় পাশে রাস্তা থাকবে ২৯ফিট করে। এছাড়া রাস্তার দুই পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হবে। শ্রীপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে চরলক্ষীপুর আহমদ আলী মৃধা কলেজ এলাকা পর্যন্ত ৪ লেনবিশিষ্ট কাজের দায়িত্ব পায় যৌথভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকটা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের শ্রীপুর বাস টার্মিনাল থেকে বড়পুল মোড় পর্যন্ত উভয় পাশে রাস্তার মূল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বড়পুল কাজী হেদায়েত হোসেন স্টেডিয়াম থেকে চরলক্ষীপুর পর্যন্ত রাস্তার একপাশ (কুষ্টিয়া যাওয়ার সময় হাতের বামদিক) পাকা করা হয়েছে। চরলক্ষীপুরের তালতলা এলাকায় ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছে। খননযন্ত্র দিয়ে রাস্তা খোঁড়া হচ্ছে, কিন্তু কিছু দূর অন্তর অন্তর রাস্তা বা ড্রেনের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। খুঁটিগুলোর আগে ও পরে ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে। পুলিশ লাইন্স মোড় এলাকায় রাস্তা এবড়োথেবড়ো হয়ে আছে। রাস্তার কালোপিচ উঁচু হয়ে ঢিবির মতো হয়ে আছে।

বড়পুল এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী অভিজিৎ কুমার সোম বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় স্থানীয়দের ধূলাবালির মধ্যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একলেন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে আরো বেশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। কিন্তু এই ভাবে কাজ ফেলে রাখার কারন কি তা জানি না।

এসময় কথা হয় একাধিক ইজিবাইক চালক ও মোটর বাইক আরোহীর সঙ্গে। তাঁরা বলেন, প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তার একপাশে কাজ করা হয়নি। একপাশ পাঁকা অন্যপাশ কাঁচা, পাঁকা পাশের তুলনায় কাঁচা পাশ অনেক নিচু। বিশেষ করে নতুন বাজার থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত। রাস্তায় শুধু মাটি থাকায় খুব ধুলাবালি উড়ে। আবার নিচু হওয়ায় যানবাহন নিচে নামানো যায় না। এভাবে যাতায়াত করতে খুব সমস্যা হয়। আগে যখন রাস্তায় খানাখন্দ ছিল তখন একরকম ভোগান্তি পোহাতে হতো। আর এখন অন্যরকম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্পেকটা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন স্থানীয় প্রতিনিধি সরকারদলীয় নেতা আমজাদ হোসেন বলেন, রাস্তার দুই পাশে ড্রেন তৈরি করতে সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে কাজ করতে কিছু দিন দেরি হয়েছে। তবে আশা করছি, আগামী মে মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে পারব।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নওয়াজিস রহমান বলেন, ইতিমধ্যে শতকার ৭৪ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাজের মেয়াদ চারবার বাড়ানো হয়েছে। সবশেষ মেয়াদ ছিল ৩১ মার্চ পর্যন্ত। আমি ফেব্রুয়ারি মাসে যোগদান করেছি। একারণে কাজ সম্পন্ন হতে এতো দেরি হওয়ার কারণ বলতে পারছি না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে। তিনি আরও বলেন, নভেম্বর মাস থেকে রাস্তার কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রড সিমেন্টের দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে ছিল। তারা কাজ করার জন্য বিভিন্ন উপকরণ ক্রয় করছে। কিছু দিনের মধ্যে আবার কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।

রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী বলেন, কাজের মূল ঠিকাদার এখানে তেমন একটা আসে না। স্থানীয়ভাবে কাজ করা হয়। তাদের অনেকবার বলেছি। কারণ মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। ঢিমেতালে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা হচ্ছে। মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। আমরাও এদের দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে বলছি। কিন্তু কাজ তো সম্পন্ন করা হচ্ছে না।

খুঁজুন