মোঃ মাহবুবুল আলম রিপন, ধামরাই :
৫ বছরেও সেতু নির্মান কাজ শেষ হয়নি। এতে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে প্রতিদিন। ৫ বছরে একাধিক বার সেতুর ঠিকাদার একটু একটু করে কাজ করে চলে যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তাদের কোন তোয়াক্কাই করেন না ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যখন খুশি আসেন, কিছু দিন কাজ করে আবার নিজের ইচ্ছায় চলে যায়। নদীর উপর কিছু পিলার দৃশ্যমান রয়েছে দির্ঘদিন ধরে।
একাধিক বার উপজেলা মাসিক সভায় সেতুর বিষয় তুলে ধরেন সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক আওলাদ হোসেন। মাসিক সভায় সেতুর বিষয়টি রেজুলেশনে লিপিবদ্ধ করা হলেও কাজের কোন অগ্রগতি দেখা যায় নি।
এমন দৃশ্য দেখা যায় উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের ফুকুটিয়া সোমভাগ এলাকায় বংশী নদীর উপর সেতুর। এখনও প্রায় ২০ গ্রামের হাজারো মানুষের খেয়া দিয়ে নদী পারাপারের দৃশ্য চোখে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সোমভাগ ও ফুকুটিয়া এলাকায় বংশী নদীর ওপর একটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটির কয়েকটি পিলার ছাড়া আর কোন কাজ দৃশ্যমান হয়নি। সেতু নির্মাণের ধীরগতির কারণে এলাকার মানুষ নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। হাজারো মানুষ নদী পার হচ্ছে একটি মাত্র নৌকা দিয়ে। পাড়েই শত শত মানুষ নদী পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকে।
জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকেই সোমভাগ ইউনিয়নের সোমভাগ, ফুকুটিয়া, আশুলিয়া, দেপাশাই, নওগাও, কান্দিকুল, কুড়ালভাংগা, শৈলান, কংশপট্রি, চাপিলসহ আশপাশের প্রায় ২০টিরও বেশি গ্রামের মানুষের দাবি ছিল এ সেতুর। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে বংশী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও নানা তালবাহানা তাও আজ প্রায় বন্ধ।
উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়ন ও পার্শবর্তী মির্জাপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত এই নদীর ওপর দিয়ে।
বর্ষা মৌসুমে একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা আর নদীর পানি কমে গেলে ভরসা বাঁশের সাঁকোর। সারা বছরই ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো ও বর্ষায় খেয়া নৌকায় পাড় হতে হয় এলাকার স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের। ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে ওই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা বন্ধ হয়ে যায় অদৃশ্য কারনে। নদীর দু’পাড়ে দু'টি গার্ডার, মাঝে দুটি গার্ডার উঠিয়েই ঠিকাদারের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
জিডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় বংশী নদীর ওপর ২শ' মিটার টেনলেজ ৯৮.১০ মিটার পিসি গার্ডার ব্রিজের নির্মাণ কাজ পায় মেসার্স সুরমা এন্ড খোশেদা নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর আওতায় ব্রিজটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ ৬ হাজার ৭শ' টাকা।
ফুকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন হযরত আলী বলেন, '২০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের পথ এই নদীর উপর দিয়ে। তাদেরকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সোমভাগ এলাকার প্রায় ২০০ শত শিক্ষার্থী নৌকায় পারি দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। অভিভাবকরা থাকেন আতংকে। মাঝে মাঝেই নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। চাকুরীজীবিরা সঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারে না। শুধু কি তাই পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষি পণ্য ঢাকার বিভিন্ন বাজারে নিয়ে কেনাবেচা করতে পারছে না। সেতুর কাজ আদৌ হবে কি না বা মৃত্যুর আগে দেখতে পাবো কি না তা ভাবভার বিষয়।'
জজ কোর্টের আইনজীবী সঞ্জিবন সাহা জানান, গ্রামের মানুষ চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে নদীর ওপর দিয়ে শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ও বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অন্যদিক থেকে ঘুরে আসতে প্রায় ১০/১৫ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে যেতে হয়। সকাল ও সন্ধ্যার পর নদীর দুইপাশ মানুষের ভিড় লেগে যায়। ঠিকাদার মাঝে মধ্যে আসে নিজের মতো কাজ করে আবার চলে যায়। প্রায় ৫ বছর ধরে কাজ চলছে। আধও সেতুর কাজটি শেষ হবে কি না বলা মুশকিল। বর্তমানে খেয়া নৌকায় পারাপার শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই আতঙ্কের।
এ বিষয়ে সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আওলাদ হোসেন বলেন, 'আমি একাধিকবার সেতুর কাজের তদন্ত করতে গিয়েছি। কখনোই ঠিকাদার বা তাদের লোকজনকে পাইনি। উপজেলা মাসিক সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহমদসহ সকলের মাঝে সেতুর বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। তা রেজুলেশনে এনেছে। কিন্তু কাজের কোন অগ্রগতি দেখা যায় নি। এ বিষয়ে সেতুর তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, 'আমি ধামরাই থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে চলে এসেছি। আমি জানি সেতুর কাজ চলমান। এর বেশি কিছু জানি না।'
তবে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী তরুন কুমার বলেন, 'সুরমা এন্ড খোশেদা নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌহাট এলাকায় একটি সেতুর কাজ করছে। সেটি শেষ হলেই সোমভাগ ফুকুটিয়া বংশী নদীর উপর সেতুর কাজ ধরবে। যদি ঠিক মতো না করে তাদের চলে যেতে হবে।
৫ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ! ভোগান্তিতে ২০গ্রামের মানুষ
৫ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ! ভোগান্তিতে ২০গ্রামের মানুষ
মোঃ মাহবুবুল আলম রিপন, ধামরাই :৫ বছরেও সেতু নির্মান কাজ শেষ হয়নি। এতে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে প্রতিদিন। ৫ বছরে একাধিক বার সেতুর ঠিকাদার একটু একটু করে কাজ করে চলে যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তাদের কোন তোয়াক্কাই করেন না ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যখন খুশি আসেন, কিছু দিন কাজ করে আবার নিজের ইচ্ছায় চলে যায়। নদীর উপর কিছু পিলার দৃশ্যমান রয়েছে দির্ঘদিন ধরে। একাধিক বার উপজেলা মাসিক সভায় সেতুর বিষয় তুলে ধরেন সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক আওলাদ হোসেন। মাসিক সভায় সেতুর বিষয়টি রেজুলেশনে লিপিবদ্ধ করা হলেও কাজের কোন অগ্রগতি দেখা যায় নি। এমন দৃশ্য দেখা যায় উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের ফুকুটিয়া সোমভাগ এলাকায় বংশী নদীর উপর সেতুর। এখনও প্রায় ২০ গ্রামের হাজারো মানুষের খেয়া দিয়ে নদী পারাপারের দৃশ্য চোখে পড়ে।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সোমভাগ ও ফুকুটিয়া এলাকায় বংশী নদীর ওপর একটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটির কয়েকটি পিলার ছাড়া আর কোন কাজ দৃশ্যমান হয়নি। সেতু নির্মাণের ধীরগতির কারণে এলাকার মানুষ নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। হাজারো মানুষ নদী পার হচ্ছে একটি মাত্র নৌকা দিয়ে। পাড়েই শত শত মানুষ নদী পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকে।জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকেই সোমভাগ ইউনিয়নের সোমভাগ, ফুকুটিয়া, আশুলিয়া, দেপাশাই, নওগাও, কান্দিকুল, কুড়ালভাংগা, শৈলান, কংশপট্রি, চাপিলসহ আশপাশের প্রায় ২০টিরও বেশি গ্রামের মানুষের দাবি ছিল এ সেতুর।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে বংশী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও নানা তালবাহানা তাও আজ প্রায় বন্ধ।উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়ন ও পার্শবর্তী মির্জাপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত এই নদীর ওপর দিয়ে। বর্ষা মৌসুমে একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা আর নদীর পানি কমে গেলে ভরসা বাঁশের সাঁকোর। সারা বছরই ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো ও বর্ষায় খেয়া নৌকায় পাড় হতে হয় এলাকার স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের। ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে ওই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা বন্ধ হয়ে যায় অদৃশ্য কারনে। নদীর দু’পাড়ে দু'টি গার্ডার, মাঝে দুটি গার্ডার উঠিয়েই ঠিকাদারের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।জিডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় বংশী নদীর ওপর ২শ' মিটার টেনলেজ ৯৮.১০ মিটার পিসি গার্ডার ব্রিজের নির্মাণ কাজ পায় মেসার্স সুরমা এন্ড খোশেদা নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর আওতায় ব্রিজটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ ৬ হাজার ৭শ' টাকা।ফুকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন হযরত আলী বলেন, '২০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের পথ এই নদীর উপর দিয়ে। তাদেরকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সোমভাগ এলাকার প্রায় ২০০ শত শিক্ষার্থী নৌকায় পারি দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। অভিভাবকরা থাকেন আতংকে। মাঝে মাঝেই নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। চাকুরীজীবিরা সঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারে না। শুধু কি তাই পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষি পণ্য ঢাকার বিভিন্ন বাজারে নিয়ে কেনাবেচা করতে পারছে না। সেতুর কাজ আদৌ হবে কি না বা মৃত্যুর
আগে দেখতে পাবো কি না তা ভাবভার বিষয়।'জজ কোর্টের আইনজীবী সঞ্জিবন সাহা জানান, গ্রামের মানুষ চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে নদীর ওপর দিয়ে শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ও বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অন্যদিক থেকে ঘুরে আসতে প্রায় ১০/১৫ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে যেতে হয়। সকাল ও সন্ধ্যার পর নদীর দুইপাশ মানুষের ভিড় লেগে যায়। ঠিকাদার মাঝে মধ্যে আসে নিজের মতো কাজ করে আবার চলে যায়। প্রায় ৫ বছর ধরে কাজ চলছে। আধও সেতুর কাজটি শেষ হবে কি না বলা মুশকিল। বর্তমানে খেয়া নৌকায় পারাপার শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই আতঙ্কের।এ বিষয়ে সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আওলাদ হোসেন বলেন, 'আমি একাধিকবার সেতুর কাজের তদন্ত করতে গিয়েছি। কখনোই ঠিকাদার বা তাদের লোকজনকে পাইনি। উপজেলা মাসিক সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহমদসহ সকলের মাঝে সেতুর বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। তা রেজুলেশনে এনেছে। কিন্তু কাজের কোন অগ্রগতি দেখা যায় নি। এ বিষয়ে সেতুর তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, 'আমি ধামরাই থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে চলে এসেছি। আমি জানি সেতুর কাজ চলমান। এর বেশি কিছু জানি না।' তবে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী তরুন কুমার বলেন, 'সুরমা এন্ড খোশেদা নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌহাট এলাকায় একটি সেতুর কাজ করছে। সেটি শেষ হলেই সোমভাগ ফুকুটিয়া বংশী নদীর উপর সেতুর কাজ ধরবে। যদি ঠিক মতো না করে তাদের চলে যেতে হবে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত