রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
আন্তর্জাতিক আমেরিকা যে আক্রমণটা করেছে, সেটা হচ্ছে "লিমিটেড স্ট্রাইক

আমেরিকা যে আক্রমণটা করেছে, সেটা হচ্ছে "লিমিটেড স্ট্রাইক

ইয়েস, বি-টু বম্বারে করে নিয়ে আসা বোমা, একেকটার ওজন ১৩.৬ টন করে, সেগুলো ড্রপ করা হয়েছে ইরানের নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটিতে - তারপরেও লিমিটেড স্ট্রাইক। 

কারণ আমেরিকা ইরানকে গোপনে বার্তা পাঠিয়েছে, তারা যে হামলা করেছে, ওটুকুই। ইরানের সাথে ফুল স্কেল ওয়ারে যেতে তারা আগ্রহী না।

ইরানের সাথে এবারের যুদ্ধটা শুরু হয়েছে ট্রাম্পের গ্রিন সিগন্যালেই। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের উপর হামলা করার জন্য আমেরিকাকে চাপ দিয়ে আসছিল। কেউ রাজি হয়নি। 

ইভেন ২০০৩ সালেও ইসরায়েল আমেরিকাকে রিকোয়েস্ট করেছিল, ইরাক পরে, আগে ইরানকে ধরো। কিন্তু বুশ ফ্যামিলি এবং তার নিও কন মন্ত্রিসভার সাথে সাদ্দামের অতীত হিস্টরি, তেল বিষয়ক হিসাব-নিকাশ সবকিছুর কারণে আমেরিকা ইরাকেই আক্রমণ করে। 

এরপরেও ইসরায়েল পুশ করে গেছে। কিন্তু পরবর্তী প্রেসিডেন্টরা কেউ রাজি হয়নি অনেকগুলো কারণে। এমনিতেই ইরাক-আফগান যুদ্ধে তারা ফেঁসে গিয়েছিল। তার উপর ইরানের প্রক্সিরা দিনে দিনে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছিল।

এবারের ইকুয়েশনটা ভিন্ন ছিল এই কারণে যে এবার ইরানের প্রক্সিরা সবাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে এবারই ছিল ইসরায়েলের জন্য সর্বশেষ সুযোগ আমেরিকাকে এই যুদ্ধে টেনে আনার। তারা সেই চেষ্টাই করতে থাকে।


এমনিতে ট্রাম্পের নীতি হচ্ছে আমেরিকা ফার্স্ট নীতি। সে সরাসরি কোনো দেশে আমেরিকান সৈন্য মোতায়েনের বিপক্ষে। কিন্তু সৈন্য মোতায়েন না করেই বোমা মেরে সব তামা তামা করে দেওয়ায় তার কোনো আপত্তি নেই। বিশেষ করে সে যদি মনে করে, বোমা মেরে শত্রুর সক্ষমতা হ্রাস করে তার সাথে "ডিল" করা যাবে। 

সুতরাং ট্রাম্প সেই কাজটাই করে। সে ইরানকে ৬০ দিন সময় দেয় তার সাথে ডিল করতে। সেই ডিলের শর্ত প্রথমদিকে একরকম থাকলেও ইসরায়েলের চাপে মাঝপথে গিয়ে সে শর্ত আরও কঠিন করে ফেলে। জিরো এনরিচমেন্টের শর্তে অনড় হয়ে বসে থাকে। ইরান যখন সেটাতে আপত্তি জানায়, তখন ৬১-তম দিনে সে ইসরায়েলকে অনুমতি দেয় - যাও, আক্রমণ করো।


ট্রাম্পের হয়তো আশা ছিল, ইসরায়েলের আক্রমণে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে, এবং আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ইরান তার কাছে এসে ক্ষমাটমা চেয়ে তার শর্ত অনুযায়ী চুক্তি করতে বসে পড়বে। কিন্তু ইরান যখন সামলে নিয়ে পাল্টা আঘাত করতে শুরু করে, তখন সেই হিসাব পাল্টে যায়। ইসরায়েলকে রক্ষা করার জন্য আমেরিকার এই যুদ্ধে যোগ দেওয়া জরুরী হয়ে পড়ে। 


এখনও পর্যন্ত ট্রাম্পের যে মনোভাব, ট্রাম্পের সাপোর্ট বেজের মধ্যেই যুদ্ধের ব্যাপারে যে মনোভাব, তাতে ট্রাম্প সরাসরি সৈন্য পাঠিয়ে যুদ্ধে যোগ দিবে - এই সম্ভাবনা একেবারেই কম। কিন্তু বি-টু বম্বার এবং বাঙ্কার ব্লাস্টার পাঠিয়ে ট্রাম্প যে নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটি ধ্বংস করে দিবে, এটা গত তিন-চার দিন ধরেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।


বিশেষ করে লিজেন্ডারি ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট সাইমুর হার্শ পরিষ্কার জানিয়েছিল, তার সোর্স তাকে জানিয়েছে, ট্রাম্প অলরেডি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে, এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়ে দিয়েছে। ফলে মাঝখানে ট্রাম্প যে দুই সপ্তাহের কথা বলেছিল, মোস্ট প্রবাবলি ওটা ছিল ব্লাফ।


বিমান হামলা করলেও এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী না। সেজন্যই সে ইরানকে সরাসরি গোপন বার্তা পাঠিয়েছে। কিন্তু ইরান কি এই হামলার পাল্টা জবাব দিবে? বলা মুশকিল।


ইরানের পক্ষে পাল্টা জবাব দেওয়া কঠিন। কারণ আমেরিকা এই হামলায় মিডল ইস্টের কোনো বেজ ব্যবহার করেনি। তারা সরাসরি আমেরিকা থেকে উড়ে এসেছে। ফলে ইরানের পক্ষে গালফ কান্ট্রিগুলোর বেজে আক্রমণ করা সম্ভব হবে না। ওটা করতে গেলে গালফ কান্ট্রিগুলো সরাসরি তাদের বিরুদ্ধে চলে যাবে।


ইরানের পক্ষে আমেরিকান জাহাজগুলোর উপর আক্রমণ করাও সম্ভব না। সফল হবে কি না, সেই প্রশ্ন যদি বাদও দেই - সফল হলেও ওরকম হামলায় আমেরিকার কয়েক ডজন সৈন্য নিহত হলেই আমেরিকা ইরানকে গাযার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার লাইসেন্স পেয়ে যাবে। 


ফলে ইরানের হাতে অপশন আছে দুইটা। এক, ইসরায়েলে হামলা আরও তীব্র করা। সেটা তারা অলরেডি শুরু করে দিয়েছে। তেল আবিবের চমত্‍কার কিছু ভিডিও আসা শুরু হয়েছে। 

আর দ্বিতীয় অপশন হচ্ছে, আরও কিছুদিন পরে, ইরাকে বা সিরিয়ায় আমেরিকান ঘাঁটিতে আক্রমণ করা। এর আগে কাসেম সোলায়মানিকে হত্যার পরেও তারা ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করেছিল। কিন্তু সেটা তারা আমেরিকাকে জানিয়েই করেছিল, যেন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাদের সক্ষমতার প্রমাণ মেলে, কিন্তু আমেরিকান প্রাণহানি না ঘটে। 

এবারও সেরকম হামলা করবে কি না, বা করার আগে জানিয়ে করবে কি না, সেটা আসলে নির্ভর করবে আমেরিকার আজকের হামলায় তাদের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটার উপর।

অ্যানিওয়ে, আপাতত যা মনে হচ্ছে, আমেরিকা এখনও গ্রাউন্ড ইনভেশনে যাচ্ছে না, আপাতত আর বেশি হামলা করারও পরিকল্পনা তাদের নাই। কিন্তু ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলা এখনও শেষ হয়নি। 

ইসরায়েল আজকের হামলার জবাব দিলে ইরানও পাল্টা জবাব দিবে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা এবং ফলাফলও আমেরিকার সমীকরণ আবার পাল্টে দিতে পারে। আর ইসরায়েল যদি আমেরিকার এই "মিশন সাকসেকফুল"-কে নিজেরও মিশন সাকসেফুল দাবি করে থেমে যায়, তাহলে এটা একটা এক্সিট স্ট্র্যাটেজি হতে পারে।

খুঁজুন