রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর বাঁশের খুঁটিতে সুখের বিদ্যুৎলাইন

বাঁশের খুঁটিতে সুখের বিদ্যুৎলাইন

মোজাহিদ সরকার, কিশোরগঞ্জঃ 

কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিঠামইন জোনাল অফিসের অধীনে তিন হাওর উপজেলা ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইনে বিদ্যুৎ সরবরাহে ১০৭ কিলোমিটারে ৩৩ হাজার ভোল্টেজ (কেভি) ও ১৩৬০ কিলোমিটারে ১১ হাজার ভোল্টেজ (কেভি) বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে। 

এখন ভরা বর্ষা, দৃষ্টিসীমা অবদি পানি আর পানি, তার মাঝে কয়েক শত কিলোমিটার বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন। প্রতিদিন বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটি ঘেঁষে অবাধে চলাচল করে হাজারো নৌকা, ট্রলার ও লঞ্চ। ঝড়ের রাতে ঘটে যাত্রী ও নৌযান দুর্ঘটনা। সাময়িক বন্ধ হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ। ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক খুঁটির পরিবর্তে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের খুঁটিতে চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ। চলতি বর্ষায় কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চলে নির্মিত হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ চারটি বাঁশের খুঁটি। 

বর্ষাকালে বিস্তৃর্ণ হাওরের পানিতে থাকা খুঁটির গোড়ার মাটি নরম থাকে। এসময় পানির স্রোত, ঝড় ও নৌযানের সামন্য ধাক্কায় নড়ে উঠে বা পড়ে যায় খুঁটি। বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। এসময় গ্রাহকের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে হাওরে বাঁশ-কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয় ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি। 

এই বছর কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রাম উপজেলার কলমা ইউনিয়নের কাকুরিয়া হাওর,  ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ি ইউনিয়নের শিমুলবাঁক হাওর ও মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ইউনিয়নের মুন্সীপুর ও গোপদিঘী ইউনিয়নের ডুবি হাওরে ৪টি বাঁশের খুঁটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করেছে মিঠামইন জোনাল অফিস। 

কলমা হাওরে মৎস্য শিকারী হরিচরণ দাস (৪০) বলেন, নড়বড়ে বাঁশের খুঁটি সামনে দিয়া নাও (নৌকা) লইয়্যা যাতায়াত করতে, ডর (ভয়) লাগে। কখন যে কোন বিপদে পড়ি বলা মুশকিল। সব সময় আতংকে থাহি (থাকি)। 

ঢাকী ইউনিয়নের মাঝি রফিকুল মিয়া (৩৭) বলেন, ভরপুর বাইষ্যার (বর্ষা) সময় জ্বানডা (প্রাণ) হাতে লাইয়্যা নৌকা চালাতে হয়। ডর-ভয় করলে নিরুপায় হয়ে চলাচল করি। 

কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সুত্রে জানা যায়, ভৌগোলিকভাবে হাওর উচু এলাকা থেকে ভিন্ন ধাচের। এখানে বর্ষামৌসুমে খুঁটি ভাঙ্গলে নতুন করে পুঁতা যায় না। শুষ্ক মৌসুমে পানি নেমে গেলে নতুন খুঁটি পুঁত্তে হয়। কিন্তু গ্রাহেক কথা চিন্তা করে বাঁশের খুঁটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের কোন বিকল্প নেই। 

প্রবল স্রোত ও বিস্তৃর্ণ পানিতে ১০-১২জন শ্রমিক ও টেকনিশিয়ান মিলে নৌকা দিয়ে ১-২দিনে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচে তৈরি করা হয় এসব খুঁটি। প্রতিবছর বর্ষায় কয়েকটি খুঁটি নির্মাণ করলেও শুষ্ক মৌসুমে বৈদ্যুৎতিক নতুন খুঁটি বসানো হয়। তবে, স্থানীয় সমাধানে বিশেষ পরিকল্পনা প্রস্তাব উর্ধ্বতন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে দুই বছর আগে। 

মিঠামইন পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, হাওরে প্রবল স্রোতের কারনে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে সমস্যা হলে, মানুষের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অস্থায়ী বাঁশের খুঁটি নির্মাণ করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে মেরামত করা হয়। তবে, স্থায়ী সমাধানে উর্ধ্বতন কর্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। 


খুঁজুন