শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :
চকচকে ভাড়ির ফটকে লিখা আছে 'মা-বাবার দোয়া' অথচ সেই বাড়িতেই ঠাই পাননি বৃদ্ধা মা ও বৃদ্ধ বাবা। বাড়িতে ঠাই না পেয়ে বৃদ্ধ বয়সে প্রায় ৪ বছর ধরে মা ও বাবা মেয়ে জামাই এর বাড়িতে বসবাস করেছেন। এক পর্যায়ে মেয়ে-জামাই এর সংসারে অভাব-অনটনের কারনে সেই বৃদ্ধ মা ও বাবা নিজ গ্রামের মসজিদ এ এসে ওঠেন। অবশেষে অমানবিক এঘটনাটি জানতে পেরে স্থানিয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমবার ২৪ শে জুলাই ছুটে যান ঘটনাস্থলে এবং ''মা-বাবার দোয়া'' লিখা সেই বাড়িতেই বৃদ্ধ বাবা ও মাকে তুলে দেন।
নিজ ছেলে ও ছেলের বউ কর্তৃক অমানবিক এঘটনাটি ঘটেছে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার নিম্চিন্তপুর গ্রামে।
মসজিদে আশ্রয় নেওয়া বাবা আব্দুল জলিল (৭০) ও তার স্ত্রী রেজিনা বেগম (৬১) স্থানিয় সংবাদ কর্মীদের জানান, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার ছেলে নাসির উদ্দিন তাকে ও তার স্ত্রী (বাবা ও মাকে) মারধর করতেন। এক পর্যায়ে আনুমানিক ৩-৪ বছর পূর্বে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিলে তারা মেয়ে - জামাই এর বাড়িতে গিয়ে বসবাস করতেন। এমনকি কয়েক বছর ধরে তারা মেয়ে-জামাই এর বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। সম্পতি মেয়ে-জামাই বেকার হয়ে পড়ায় তাদের পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দিলে গত শনিবার আমরা স্বামী-স্ত্রী নিজ ইচ্ছায় মেয়ে-জামাই এর বাড়ি থেকে এসে ছেলের বাড়িতে ওঠার সময় আমার ছেলে ও তার বউ আমাদের বাড়িতে ওঠতে দেননি জন্যই বিপদে পড়ে গ্রামের মসজিদে ঠাই নিতে বাধ্য হয়েছি।
গ্রামের কয়েকজন জানান, ৩-৪ বছর ধরে ছেলে নাসির ও তার মা-বাবা ও বোনের মাঝে পারিবারিক বিবাধ চলছিলো। সেই বিবাদ আমরা (গ্রামবাসী) মিটাতে বার্থ হয়েছি। বৃদ্ধ বাবা ও মার মেয়ে পারভীন আক্তার জানান, ভাই নাসির বাবা ও মা সহ আমাকে অনেকবার মারপিট করেছেন। এমনকি কৌশলে ও জালিয়াতির মাধ্যমে বাবার কাছে থেকে বসতবাড়ি লিখে নেওয়ার পর বাড়ি থেকে বাবা ও মাকে বের করে দেওয়া হয়।
ছেলে নাসির উদ্দিন বলেন, জায়গাঁ-জমি নিয়ে দন্ধে আমার বাবা ও বোনেরা ১৮ টি মামলা করেছেন আমার বিরুদ্ধে আমিও ৫টি মামলা করেছি তাদের বিরুদ্ধে। এসময় তিনি আরো বলেন, আমি বাবা ও মাকে বাড়িতে থাকতে দেব, কিন্তু আমার বোনেরা বাড়িতে আসতে পারবেন না, তাদের জায়গাঁ দিব না।
এমন অমানবিক ও নিষ্ঠুরতার ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানিয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হক সোমবার বিকেলে নিশ্চিন্তপুর গ্রামে গিয়ে বৃদ্ধ বাবা ও মার কাছে থেকে ঘটনা শুনে অবশেষে মসজিদ থেকে বৃদ্ধ বাবা ও মাকে ছেলে নাসির এর বাড়িতে তুলেদেন এবং ছেলে নাসির কে আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে বাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, বশত বাড়ির জমিটি যত দিন পর্যন্ত নাসির এর নামে রেকর্ড না হবে তত দিন পর্যন্ত ছেলে নাসির উদ্দিন এবাড়িতে থাকতে পারবেন না বলেও জানিয়ে দেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম মামুনুর রশিদ, স্থানিয় ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুজ্জামান সহ গ্রামের লোকজন। অসহায় বৃদ্ধ বাবা ও মায়ের পাশে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহযোগীতা করার ঘটনাটি প্রকাশের পর এলাকার সচেতন মহল সহ সর্ব-সাধারণ মানুষ অনেকেই বলছেন ''উপজেলা নির্বাহী অফিসার খুবই ভালো ও মানবিক কাজ করেছেন''।
বাড়ির ফটকে লিখা 'মা-বাবার দোয়া' সেই বাড়িতেই ঠাই হয়নি বৃদ্ধ বাবা মার
বাড়ির ফটকে লিখা 'মা-বাবার দোয়া' সেই বাড়িতেই ঠাই হয়নি বৃদ্ধ বাবা মার
শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :চকচকে ভাড়ির ফটকে লিখা আছে 'মা-বাবার দোয়া' অথচ সেই বাড়িতেই ঠাই পাননি বৃদ্ধা মা ও বৃদ্ধ বাবা। বাড়িতে ঠাই না পেয়ে বৃদ্ধ বয়সে প্রায় ৪ বছর ধরে মা ও বাবা মেয়ে জামাই এর বাড়িতে বসবাস করেছেন। এক পর্যায়ে মেয়ে-জামাই এর সংসারে অভাব-অনটনের কারনে সেই বৃদ্ধ মা ও বাবা নিজ গ্রামের মসজিদ এ এসে ওঠেন। অবশেষে অমানবিক এঘটনাটি জানতে পেরে স্থানিয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমবার ২৪ শে জুলাই ছুটে যান ঘটনাস্থলে এবং ''মা-বাবার দোয়া'' লিখা সেই বাড়িতেই বৃদ্ধ বাবা ও মাকে তুলে দেন।নিজ ছেলে ও ছেলের বউ কর্তৃক অমানবিক এঘটনাটি ঘটেছে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার নিম্চিন্তপুর গ্রামে।মসজিদে আশ্রয় নেওয়া বাবা আব্দুল জলিল (৭০) ও তার স্ত্রী রেজিনা বেগম (৬১) স্থানিয় সংবাদ কর্মীদের জানান, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার ছেলে নাসির উদ্দিন তাকে ও তার স্ত্রী (বাবা ও মাকে) মারধর করতেন। এক পর্যায়ে আনুমানিক ৩-৪ বছর পূর্বে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিলে তারা মেয়ে
- জামাই এর বাড়িতে গিয়ে বসবাস করতেন। এমনকি কয়েক বছর ধরে তারা মেয়ে-জামাই এর বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। সম্পতি মেয়ে-জামাই বেকার হয়ে পড়ায় তাদের পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দিলে গত শনিবার আমরা স্বামী-স্ত্রী নিজ ইচ্ছায় মেয়ে-জামাই এর বাড়ি থেকে এসে ছেলের বাড়িতে ওঠার সময় আমার ছেলে ও তার বউ আমাদের বাড়িতে ওঠতে দেননি জন্যই বিপদে পড়ে গ্রামের মসজিদে ঠাই নিতে বাধ্য হয়েছি।গ্রামের কয়েকজন জানান, ৩-৪ বছর ধরে ছেলে নাসির ও তার মা-বাবা ও বোনের মাঝে পারিবারিক বিবাধ চলছিলো। সেই বিবাদ আমরা (গ্রামবাসী) মিটাতে বার্থ হয়েছি। বৃদ্ধ বাবা ও মার মেয়ে পারভীন আক্তার জানান, ভাই নাসির বাবা ও মা সহ আমাকে অনেকবার মারপিট করেছেন। এমনকি কৌশলে ও জালিয়াতির মাধ্যমে বাবার কাছে থেকে বসতবাড়ি লিখে নেওয়ার পর বাড়ি থেকে বাবা ও মাকে বের করে দেওয়া হয়।ছেলে নাসির উদ্দিন বলেন, জায়গাঁ-জমি নিয়ে দন্ধে আমার বাবা ও বোনেরা ১৮ টি মামলা করেছেন আমার বিরুদ্ধে আমিও ৫টি মামলা করেছি তাদের বিরুদ্ধে। এসময় তিনি আরো বলেন,
আমি বাবা ও মাকে বাড়িতে থাকতে দেব, কিন্তু আমার বোনেরা বাড়িতে আসতে পারবেন না, তাদের জায়গাঁ দিব না।এমন অমানবিক ও নিষ্ঠুরতার ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানিয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হক সোমবার বিকেলে নিশ্চিন্তপুর গ্রামে গিয়ে বৃদ্ধ বাবা ও মার কাছে থেকে ঘটনা শুনে অবশেষে মসজিদ থেকে বৃদ্ধ বাবা ও মাকে ছেলে নাসির এর বাড়িতে তুলেদেন এবং ছেলে নাসির কে আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে বাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, বশত বাড়ির জমিটি যত দিন পর্যন্ত নাসির এর নামে রেকর্ড না হবে তত দিন পর্যন্ত ছেলে নাসির উদ্দিন এবাড়িতে থাকতে পারবেন না বলেও জানিয়ে দেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম মামুনুর রশিদ, স্থানিয় ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুজ্জামান সহ গ্রামের লোকজন। অসহায় বৃদ্ধ বাবা ও মায়ের পাশে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহযোগীতা করার ঘটনাটি প্রকাশের পর এলাকার সচেতন মহল সহ সর্ব-সাধারণ মানুষ অনেকেই বলছেন ''উপজেলা নির্বাহী অফিসার খুবই ভালো ও মানবিক কাজ করেছেন''।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত