শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বেহাল উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা

বেহাল উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা

রোকসানা মনোয়ার :সারাদেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা বিরাজ করছে। অনেক উপজেলা হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি নেই। জনবলের সংকট রয়েছে। ডাক্তাররা কর্মস্থলে থাকেন না। দুই এক ঘণ্টা হাসপাতালে থেকে চিকিৎসকরা কর্মস্থলের বাইরে চলে যান। কোনো কোনো ডাক্তার কাজে যোগ দিয়েই ঢাকায় চলে আসেন। আর যারা কর্মস্থলে থাকেন তারাও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না। রয়েছে অক্সিজেনের সংকট।

আবার অনেক উপজেলা হাসপাতালে এক্সরে, প্যাথলিজ ও অপারেশন থিয়েটার এবং জনবল থাকলেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেখানে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা অপারেশন করানো হয় না। রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশাপাশে গড়ে ওঠা বেসরকারি ক্লিনিকে। এক্ষেত্রে ডাক্তাররা ৫০ থেকে ৬০ ভাগ কমিশন পান। আর এই টাকার ভাগ যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সিভিল সার্জন ও তার উপরের মহল পর্যন্ত। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে চিকিত্সা সেবার করুণ অবস্থা থাকলেও কোনো প্রতিকার নেই।

সিভিল সার্জনরা জেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি সঠিকভাবে মনিটরিং করেন না, কারণ অনেকে অবৈধ অর্থের ভাগ পান। অথচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সার্বিক তদারকি করার দায়িত্ব সিভিল সার্জনদের। তারা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা বিরাজ করলেও দেশে বড় কোনো বিপর্যয় আসেনি বলে এতোদিন মানুষ বুঝতে পারেনি। করোনা মহামারি দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। তবে করোনা এসেছে প্রায় দুই বছর হতে চলেছে, কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে কেউ ভাবেনি, কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ অপারেশনের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু এক শ্রেণীর ডাক্তাররা সেখানে অপারেশন না করে বাইরের ক্লিনিকে রোগীদের অপারেশন করান। করোনা রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছে। কিন্তু রোগীরা আসলেই তাদের চিকিৎসা সেবা না দিয়ে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়ে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু ওই রোগীটি কোয়ারেন্টাইনে থাকছে কিনা তার কোনো খবর নেওয়া হয় না। অথচ সংশ্লিষ্ট চিকিত্সক ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে দিতে পারতেন, যাতে করোনা রোগী সঠিকভাবে কোয়ারেন্টাইন মেনে চলেন। এই ব্যবস্থা না করায় রোগী নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করছেন এবং অন্যান্য মানুষকে সংক্রমিত করছেন। আর যখন শারীরিক অবস্থা খারাপ হয় তখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হতে ঘুরতে থাকে। সেখানে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে জেলা পর্যায়ে কিংবা ঢাকায় আসতে আসতে রাস্তায় মারা যান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) বলেন, ইতিমধ্যে ডাক্তারদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতি সোমবার জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকি করছি। যারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকবেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা করবেনখোঁজ খবর নিয়ে তাদের বিরদ্ধে অধিদপ্তর থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

খুঁজুন