শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :
অসুস্থজনিত কারণে দুই দফায় ৬ মাসের ছুটিতে ছিলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার আলালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক এম রেজাউল হক। সুস্থ হয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি চাকরিতে যোগদান করেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানের অপর শিক্ষকরা।
এর পরও তাঁর যোগদানকালিন নিয়মিত বেতনভাতা বন্ধ করে দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকতা আবুল বাশার সামসুজ্জামান। সদ্য ঈদ-উল-ফিতরেও তাকে দেওয়া হয়নি বেতন-বোনাসের আদেশ। এমতাবস্থায় স্ত্রী ও দুটি শিশু সন্তান নিয়ে ঈদ উৎসব পালন করতে পারেননি তিনি। এমন প্রচন্ড মানসিক চাপে এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। গত শনিবার স্ট্রোক করলে তাকে নেওয়া হয় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বিকেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
নিহত শিক্ষক রেজাউল হক মান্দা উপজেলার বিলকরিল্যা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১০ ইং সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আলালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বাবা মৃত বসরতুল্যা প্রামাণিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রেজাউল হক এর উপর শিক্ষা কর্মকর্তার এমন আচরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষক রেজাউল হকের স্ত্রী পান্না খাতুন সংবাদকর্মীদের বলেন, অসুস্থজনিত কারণে স্বামী রেজাউল হক গত বছরের ২২ আগস্ট তিন মাসের ছুটির আবেদন করেন। সুস্থ না হওয়ায় ছুটি আরও তিন মাস বাড়ানো হয়। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি চাকরিতে যোগদান করেন।
চাকরিতে যোগদানের পর বেতন ভাতার জন্য স্বামী রেজাউল হক উপজেলা শিক্ষা অফিসে দিনের পর দিন ধর্ণা দিয়েছেন কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা বিভিন্ন অজুহাতে তাকে হয়রানী করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিল বেতন পাসের জন্য অফিস আমার স্বামীর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করলে বাড়িতে থাকা ছোট্ট একটি ছাগল বিক্রি করে টাকা তুলে দেওয়া হয় অফিসের সেই ব্যক্তির হাতে। দাবি পুরন না হওয়ায় ঈদের আগে বেতন-বোনাস পাস করেননি।
তিনি আরো বলেন, বেতন-বোনাস উত্তোলন করতে না পেরে স্বামী রেজাউল হক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রচন্ড মানসিক চাপে স্ট্রোক করলে তাকে রাজশাহী হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বিকেলে মারা যান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার সামসুজ্জামান হয়রানী সহ সব অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে বলেন, মেডিক্যালের কাগজপত্র ও ছুটির আবেদন ছাড়াই ছয় মাস ধরে প্রধান শিক্ষক রেজাউল হক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তার কাগজপত্র সঠিকভাবে উপস্থাপন করায় তা অনুমোদনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়াই তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করতে পারেন না বলেও তিনি জানান।
এবিষয়ে জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইউসুফ রেজার মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বেতন-বোনাস বন্ধ করায় মানসিক চাপে শিক্ষকের মৃত্যুর অভিযোগ
বেতন-বোনাস বন্ধ করায় মানসিক চাপে শিক্ষকের মৃত্যুর অভিযোগ
শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :অসুস্থজনিত কারণে দুই দফায় ৬ মাসের ছুটিতে ছিলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার আলালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক এম রেজাউল হক। সুস্থ হয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি চাকরিতে যোগদান করেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানের অপর শিক্ষকরা।এর পরও তাঁর যোগদানকালিন নিয়মিত বেতনভাতা বন্ধ করে দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকতা আবুল বাশার সামসুজ্জামান। সদ্য ঈদ-উল-ফিতরেও তাকে দেওয়া হয়নি বেতন-বোনাসের আদেশ। এমতাবস্থায় স্ত্রী ও দুটি শিশু সন্তান নিয়ে ঈদ উৎসব পালন করতে পারেননি তিনি। এমন প্রচন্ড মানসিক চাপে এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। গত শনিবার স্ট্রোক করলে তাকে নেওয়া হয় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বিকেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।নিহত শিক্ষক রেজাউল হক মান্দা উপজেলার বিলকরিল্যা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১০ ইং সাল থেকে মৃত্যুর আগ
পর্যন্ত আলালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বাবা মৃত বসরতুল্যা প্রামাণিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রেজাউল হক এর উপর শিক্ষা কর্মকর্তার এমন আচরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।শিক্ষক রেজাউল হকের স্ত্রী পান্না খাতুন সংবাদকর্মীদের বলেন, অসুস্থজনিত কারণে স্বামী রেজাউল হক গত বছরের ২২ আগস্ট তিন মাসের ছুটির আবেদন করেন। সুস্থ না হওয়ায় ছুটি আরও তিন মাস বাড়ানো হয়। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি চাকরিতে যোগদান করেন।চাকরিতে যোগদানের পর বেতন ভাতার জন্য স্বামী রেজাউল হক উপজেলা শিক্ষা অফিসে দিনের পর দিন ধর্ণা দিয়েছেন কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা বিভিন্ন অজুহাতে তাকে হয়রানী করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিল বেতন পাসের জন্য অফিস আমার স্বামীর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করলে বাড়িতে থাকা ছোট্ট একটি ছাগল বিক্রি করে টাকা তুলে দেওয়া হয় অফিসের সেই ব্যক্তির হাতে।
দাবি পুরন না হওয়ায় ঈদের আগে বেতন-বোনাস পাস করেননি।তিনি আরো বলেন, বেতন-বোনাস উত্তোলন করতে না পেরে স্বামী রেজাউল হক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রচন্ড মানসিক চাপে স্ট্রোক করলে তাকে রাজশাহী হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বিকেলে মারা যান তিনি।এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার সামসুজ্জামান হয়রানী সহ সব অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে বলেন, মেডিক্যালের কাগজপত্র ও ছুটির আবেদন ছাড়াই ছয় মাস ধরে প্রধান শিক্ষক রেজাউল হক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তার কাগজপত্র সঠিকভাবে উপস্থাপন করায় তা অনুমোদনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়াই তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করতে পারেন না বলেও তিনি জানান।এবিষয়ে জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইউসুফ রেজার মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত