শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় বিআরটিএ আরেক দুর্নীতির বরপুত্র হারুনুর রশিদের লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্য

বিআরটিএ আরেক দুর্নীতির বরপুত্র হারুনুর রশিদের লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্য

বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল -৪ এর উচ্চমান সহকারী হারুনুর রশিদের লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদের খোঁজ  মিলেছে । আওয়ামী লীগের দোসর মেট্রো সার্কেল–৪, পূর্বাঞ্চল বিআরটিএ এর উচ্চবিলাসী উচ্চমান সহকারী হারুন ইসলাম ওরফে হারুনুর রশিদ। তার মুখে হাসি সর্বদাই লেগেই থাকে। সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা বলেন, এই হাসির আড়ালে রয়েছে রহস্যময় জাদু। দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিভিন্ন অপকর্মের হোতা হারুন ইসলাম । বিআরটিএতে ঘুষ বাণিজ্য তার নিত্যদিনের কাজ। সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় আলিশান ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। চাকুরির শুরু থেকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে তিনি অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।

এখানে উল্লেখ্য যে গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত আলোচিত আমলা ডিবি হারুনের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে মানুষকে ভয় ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতেন তিনি। এমন একাধিক অভিযোগের সত্যতা মিলেছে তার বিরুধধে। তার বর্তমান কর্মস্থল মেট্রো সার্কেল–৪ বিআরটিএ সেখানকার কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দিনের পর দিন মাসের পর মাস হারুন ইসলাম অবৈধভাবে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন গ্রাহকদের কাছ থেকে। অভিযোগ পাওয়া গেছে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল -৪ এর সহকারী পরিচালক মো. এমরান খান, সহকারি পরিচালক মো. আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মো. আলমগীর শেখ , মোটরযান পরিদর্শক অসীম পাল ও সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করছেন হারুন ইসলাম। ওইসব কর্মকর্তাদেরকে ম্যনেজ করে একাধিক দালালের মাধ্যমে যানবাহনের সকল কাজ অর্থের বিনিময়ে করে দিচ্ছেন হারুন ইসলাম।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, প্রতিনিয়ত গ্রাহকরা কাজ নিয়ে আসলে অফিসের কর্মকর্তারা নানা ধরনের তাল বাহানা শুরু করে। গ্রাহকদের ছয় নয় করে বুঝায় কাগজের এই সমস্যা, ওই সমস্যা রয়েছে ঠিক করে নিয়ে আসেন । কিন্তু আবার তাদের নিয়োজিত দালালদের কাছে গেলে আর কোন সমস্যা হয় না অর্থের বিনিময়ে তাৎক্ষণিক কাজ হয়ে যায়। এভাবেই চলছে পূর্বাচল বিআরটিএর দুর্নী্‌তি , অনিয়ম ।

 হারুন ইসলাম ওরফে হারুনুর রশিদ তিনি চাকুরির সুবাদে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় ৪২৯/এ, নাম্বার ভবনে দুই হাজার বর্গফুটের দুইটি ফ্ল্যাট ক্রয় করে বসবাস করছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগে হারুন ইসলাম মিরপুর ১৩ নাম্বার বিআরটিএ’র ১১৬ নাম্বার কক্ষে দায়িত্ব থাকাকালীন অবস্থায়, গ্রাহকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ফাইল সম্পন্ন করে দিতেন। ওই সময় তিনি দালাল নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ।

কথিত তার কিছু দালাল চক্র রয়েছে, তাদের মাধ্যমেই তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন- জীকু, জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ হারুন, মনির, শাহাদাত, সুলতান সহ আরো অনেকে রয়েছে। এরা সবাই গ্রাহকদের কাছে গেটিস হিসেবে পরিচিত। ওইসব দালালদের মাধ্যমে জানা যায়, হারুন ইসলাম নিজেকে ডিবির আলোচিত অফিসার হারুনের নিকট আত্মীয় বলে নিজেকে জাহির করত। তার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন লোককে ভয়-ভীতি দেখে অবৈধভাবে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতেন হারুন ইসলাম। তার জন্মস্থান কিশোরগঞ্জ জেলায়। 

হারুন ইসলাম নিজেকে আলিশান ভাবে চলাফেরা করতে পছন্দ করেন। তার এলাকায় সে নিজেকে বিআরটিএর একজন বড় কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত। মিরপুর ১৩ নম্বর বিআরটিএতে থাকাকালীন তার নামে দুর্নীতি অনিয়মের অনেক নিউজ সংবাদপত্রে প্রচার হয়েছে । এবং তাকে সিলেট মেট্রো সার্কেলে বদলি করা হয়েছিল। কিছুদিন সিলেট মেট্রোতে থাকা অবস্থায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পুনরায় ঢাকা মেট্রো -৪ সার্কেলে বদলি হয়ে আসেন।বর্তমানে সেখানে কর্মরত আছেন। বর্তমান কর্মস্থলেও তার পুরানা নিশানা বহাল রেখেই কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে উচ্চমান সহকারী হারুন ইসলাম একের পর এক দুর্নীতি ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। 

এখানে আরও উল্লেখ্য যে সিলেটে কর্মরত থাকা কালীন সময়ে তিনি নিয়মিত বিমানে যাতায়াত করতেন। একজন উচ্চমান সহকারীর এমন উচ্চাভিলাসী জীবন যাপন কি করে সম্ভব এমন প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের? 

এ ব্যাপারে  হারুন ইসলামের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ না করে বারবার কেটে দেন। মিরপুর বিআরটিএ’র কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, সে একজন উচ্চমান সহকারী হিসেবে চাকুরি করে কি ভাবে এত অর্থ সম্পদের মালিক হয়ে গেছে? এত টাকার উৎস কোথা থেকে এসেছে! বর্তমানে হারুন ইসলাম পূর্বাঞ্চল মেট্রো- ৪ সার্কেলে কর্মরত রয়েছেন ।

অভিযোগ কারীদের প্রত্যাশা  হারুন ইসলামের বিরুদ্ধে যথাযত তদন্ত করলে তার কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের।আর খুজ মিলবে । 

খুঁজুন