রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় বিদ্যুৎ চালিত অবৈধ যানবাহন বন্ধ করলে অনেকখানি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব

বিদ্যুৎ চালিত অবৈধ যানবাহন বন্ধ করলে অনেকখানি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব

মইনুল ইসলাম মিতুল : রাজধানীর মূল সড়কে না চললেও স্থানীয় সড়কগুলোতে বেশ বেপরোয়া ভাবেই চলছে ব্যাটারি চালিত রিক্সা। ২০১৭ সালে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিক্সা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষা করে বিভিন্ন অলিতে-গলিতে এখনো চলছে এই ব্যাটারিচালিত রিক্সা। যার ফলে যানজট লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

 

অলিতে-গলিতে চলাচল থাকলেও শুধু ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনেই এই ধরণের রিক্সার সংখ্যা দুই লাখের বেশি। আর রাজধানী জুড়ে ধরণের ব্যাটারি চালিত রিক্সার সংখ্যা চার লাখেরও বেশি।  এবং সারাদেশে ষাট লাখেরও বেশি। 

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশে যন্ত্রের প্রতি  নির্ভরযোগ্যতা বেড়েছে। কিন্তু টমটম বা পঙ্খিরাজ নামে পরিচিত ধরণের অটোরিক্সা মানুষের জীবনকে সহজ করার বদলে কোন কোন ক্ষেত্রে আরো জটিল সমস্যার সৃষ্টি করছে। নিয়ন্ত্রণহীন গতি এবং চালকদের বেপরোয়া আচরণ এবং হর্নের মাধ্যমে শব্দ দূষণের কারণে বেশ সমালোচিত এই যানবাহনের কদর বেড়েছে দ্রুতযান ভাড়া কম হবার কারণে।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও স্থানীয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাকর্মী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ছত্র ছায়ায় এখনো চলমান এই রিক্সাগুলোর নিয়ন্ত্রণ মহাজনদের হাতে।

এই সকল রিক্সাগুলো ব্যাটারি চালিত হওয়ায়, এতে বৈদ্যুতিক খরচ বাবদ মাস প্রতি গুনতে হয় ১৫০০-২০০০ টাকা। আর এই সকল বৈদ্যুতিক লাইন অবৈধ হওয়ায় লোডশেডিংয়ে ভুগতে হয় নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল প্রদান করা গ্রাহকদের । যার ফলে প্রতি মাসে বিপুল পরিমান বিদ্যুৎ বিল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার  ।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, বর্তমানে চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোন ঘাটতি ছিলনা। কিন্তু তারপরও মাঝে মধ্যে লোডশেডিং ছিল, যার মূল কারণ অবৈধ সংযোগ। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা হলেও আবারো তা চালু হয়ে যায়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস বলেছিলেন ব্যাটারি চালিত কোনো যান আর সড়কে চলবে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটির সড়ক গুলোতে এই সকল যান পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন করা হলেও আইনি ভাবে তেমন পদক্ষেপ না নেয়ার ফলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওতায় খিলগাঁও, বাসাবো, রামপুরা, বনশ্রী, মাদারটেক, যাত্রাবাড়ী, মান্ডা, ডেমরা, পুড়ান ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকাতে চলছে এই ব্যাটারি চালিত রিক্সা। উত্তর সিটি করপোরেশন ভুক্ত মিরপুরের বেশ কিছু এলাকায়, ভাটারা, আশকোনা উত্তরার কিছু স্থানেও বিনা বাঁধায় চলছে ব্যাটারি চালিত রিক্সা।

প্রাথমিক পর্যায়ে দরিদ্র প্রতিবন্ধীদের আয়ের উৎস হিসাবে এই সকল রিক্সা চলতে দেওয়া হলেও বর্তমানে তা ব্যবহার করছে সকলে। এই যান চালাতে সহজ হওয়ায় অনেক সুস্থ মানুষ প্যাডেল চালিত রিক্সা ছেড়ে বেছে নিচ্ছে এই ব্যাটারি চালিত রিক্সা।

অনেক যাত্রী সময় বাঁচাতে বা সাশ্রয়ী হওয়ায় ব্যাটারি রিক্সা ব্যবহারে আগ্রহী হয়, আবার অনেকে ধরণের রিক্সার বেপরোয়া গতি দেখে অনিচ্ছাও প্রকাশ করে।

অনেকে এদের বলে বিপদজনক। অজস্র দুর্ঘটনার জন্য দায়ী এরা। বেশ গতিমান এবং কাঠ ও লোহার তৈরি দেহের কারণে ভরবেগও এদের মন্দ না। অন্যদিকে এদের গতিনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা খুবই খারাপ, আধুনিক বাহনের বৈশিষ্ট্য সুলভ অন্যান্য নিরাপত্তা বন্দোবস্ত এই গাড়িগুলোতে নেই বললেই চলে। দেশের বহু অঞ্চলে বাস-ট্রাক-লরিসহ সকল প্রকার পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকরা বেশ কয়েকবার ধর্মঘট করেছেন মহাসড়কে এদের চলাচলের বিরুদ্ধে। বহু স্থানে কঠোর পুলিশী বন্দোবস্ত করেও এদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। 

 

 

 

খুঁজুন