রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে তিস্তা নদীর পানি

বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে তিস্তা নদীর পানি

নীলফামারী প্রতিবেদক :

উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিপাতে নীলফামারীতে বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তা নদীর পানি। আজ সকাল ছয়টায় বিপদসীমা অতিক্রম করে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে সকাল ৯টায় তিন সেন্টমিটার কমে বর্তমানে বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখেছে পাউবো কর্তৃপক্ষ।

এদিকে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরবর্তী ডিমলা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১৫টি চরগ্রামের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার বসত ভিটার উঠানে পানি প্রবেশ করায় কিছুটা দূর্ভোগে পড়েছে এসব এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানানয়, শনিবার সকাল নয়টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েণ্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাতে ১২টায় বিপদসীমা অতিক্রম করে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। তবে সকাল ৯টায় পানি তিন সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারী ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। 

এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে নদীর তীরবর্তী নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই, পূর্বছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের নি¤œাচঞ্চলে পানি প্রবেশ করে। এসব গ্রামের পাঁচ সহ¯্রাধিক মানুষের বসতভিটায় পানি পানি প্রবেশ করায় বন্যার শঙ্কায় রয়েছেন এসব নি¤œাঞ্চলের প্রায় পাঁচ সহ¯্রাধিক মানুষ। এছাড়াও এসব চরগ্রামের প্রায় ১২ হেক্টর জমির আধাপাকা আমন ধান ক্ষেতে আংশিক নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে নদীর পানিতে। তবে বর্তমানে পানি হ্রাস পাওয়ায় সেই শঙ্কা কিছুটা কেটেছে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘গত চার দিন ধরে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার বেলা ১২টার পর থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীরা পাঁচ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাতে ১২টায় তা বিপদসীমা অতিক্রম করে সকাল ৬টায় পর্যন্ত বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর সকাল ৯টায় কমে বর্তমানে বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজারে সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। আমরা সতর্কাবস্থায় রয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নদীর পানি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে।

খুঁজুন