রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর বিশা পাগলার ঘরে মিল‌লো প্রায় আড়াই কোটি টাকা

বিশা পাগলার ঘরে মিল‌লো প্রায় আড়াই কোটি টাকা

 কু‌মিল্লা ব্যুরো ঃ

কুমিল্লার তিতাস উপজেলা বিশা পাগলার নামের এক ব্যক্তির ঘর থেকে নগদ ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ও বৈদশিক মুদ্রাসহ স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে এলাকাবাসী। 

বুধবার সকালে (১৩ জুলাই) জেলার তিতাস উপজেলার বলরাম পুর ইউনিয়ন এর গাজীপুর মাজার এলাকায় বিশা পাগলার ঘর টাকা ও স্বর্ণালংকার সাধারণ মানু‌ষের সাম‌নে কের করা হয়।।বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিতাস থানার ওসি সুধীন চন্দ্র দাস।

স্থানীয় জানায়,তিতাসের গাজীপুর গ্রামের মরহুম হাজ্বী  আমির হোসেন (বিশা পাগলা)ঘরে বিপুল পরিমাণ টাকা পাওয়া গেছে এমন খবর পেয়ে বুধবার সকাল থেকে  এলাকার জনপ্রতিনিধি  ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ শত শত নারী পুরুষ মরহুমের বাড়িতে সমবেত হয়।

এমসয় উক্ত টাকা উপস্থিত সকলের সামনে বস্তা বন্দী করে মরহুম বিশা পাগলার বিল্ডিংয়ের একটি রুমে তালা বদ্ধ করে পুলিশ পাহারায় রাখা হয়েছে। 

মৃত আমির হোসেন ওরফে বিশা পাগলার ঘড়ে রোখে যাওয়া স্টিলের আলামারী থেকে  প্রায় ২কোটি ৪৫ লাখ নগদ টাকা, ৫-৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মূদ্রা পাওয়া গেছে।

পু‌লিশ জানায় ,কুমিল্লার তিতাসে এক মৃত ব্যক্তির ঘরের গোপন কক্ষ থেকে দুই কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা, ছয় ভরি স্বর্ণ ও এক হাজার ১০০ দেরহাম বিদেশী মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত ঐ ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আমির হোসেন ওরপে বিশা পাগলা। বিশা পাগলা তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের বড় গাজীপুর গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে। আমির হোসেন ওরফে বিশা পাগলার স্ত্রী-সন্তান নেই। তিনি এক ভাগ্নিকে দত্তক নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ জুলাই) তার গোপন কক্ষ থেকে এসব স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা উদ্ধার করে তার দত্তকমেয়ে তাছলিমা আক্তার ও স্থানীয়রা। পরে টাকা দেখেই পুলিশকে খবর দেয় তারা। পুলিশ এসে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সারা রাত সেই বাড়ি নিরাপত্তা বেষ্টনীতে মুড়ে রাখে। পরে বুধবার (১৩ জুলাই) দুপুরে তার পাঁচ ওয়ারিসের হাতে এ টাকা উঠিয়ে দেয় পুলিশ। 

স্থানীয়রা জানায় ৪০ বছর ধরে ভিশা পাগলা নিজ গ্রামের গাজীপুর মাজার শরীফের পাশে একটি বাড়িতে থাকতেন এবং মাজারের খাদেম হিসেবে কাজ করতেন। গত শুক্রবার (৮ জুলাই) বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পরে তার গোপন কক্ষে থাকা আলমারি ও ওয়ারড্রফ খুলে দেখা যায় টাকার টাকার পাহাড়। ওই আলমারিতে থাকা টাকার বান্ডেল গুলোতে সবচেয়ে বেশি আছে ৫০০ ও ১০০০টাকার নোট। এবং প্রত্যেক বান্ডিলেই টাকার পরিমান এক লক্ষ টাকা।

স্থানীয় আফরোজা নামের একজন জানান, অসুস্থ হলেও তিনি কখনও ডাক্তারের কাছে যেতেন না। নিজে কিছু কিনে খেতেন না। কোথাও গাড়িতে চড়ে যেতেন না। এভাবেই তিনি টাকাগুলো সংরক্ষণ করেছেন। এই মাজারে আসা ভক্তরা তাকে স্বর্ণালঙ্কার বিদেশি মুদ্রা ও নগদ টাকা দিয়ে যেতেন। এছাড়াও তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় ভ্রমণ করতেন। তখন তার ভক্তরা তাকে টাকা পয়সা দিতে সেগুলো নিয়ে বাড়ি ফিরে জমা করতো। 

টাকা গোনার স্থলে উপস্থিত ছিলেন তিতাসের স্থানীয়রা । স্থানীয়রা জানান প্রশাসনের উপস্থিতিতে এই টাকা গুনে তার ওয়ারিশদের পাঁচজনের যৌথ ব্র্যাক ব্যাংকের একটি নতুন একাউন্টে রাখা হয়েছে। 

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, উনি গাজীপুর মাজারের পাশের থাকতেন। উনার এই টাকা মুলত এই মাজারে ঘুরতে আসা ভক্তরা দিয়েছে। তার ঘরে তিনি জীবিত অবস্থায় কাউকে ঢুকতে দেন নি। তাই কেউ দেখেনি। মারা যাওয়ার পর উনার ওয়ারিশরা এই টাকা দেখে আমাদের জানালে থানা থেকে পুলিশ পাঠিয়ে টাকা গুলো গুনে ব্রাক ব্যাংকে তার পাঁচ আত্মীয়ের নামে খোলা একটি নতুন একাউন্টে রাখার ব্যবস্থা করি।

তিতাস উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম মোর্শেদ জানান, আমরা এর আইনি দিকগুলো দেখছি। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পারিবারের সদস‌্যরা জানায়, তার শেষ ইচ্ছা ছিলো একটি মসজিদ তৈরীর করার।

আমরা আশা করব ওনার রেখে যাওয়া সম্পত্তি দিয়ে একটি সুন্দর মসজিদ তৈরী হবে পাশাপাশি তিতাস উপজেলায় যেহেতু কোন বৃদ্ধাশ্রম নেই প্রয়োজনে একটি বৃদ্ধাশ্রম তৈরী হতে পারে।( উপজেলার নেতৃবৃন্দসহস্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি বর্গের উপস্থিতিতে সবকিছু ওনার ওয়ারিশদের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

খুঁজুন