সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন বন্ধ

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন বন্ধ

মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বুধবার (৩০ আগস্ট) থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন।

দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির খনির ভূগর্ভের ১১১৩ কোল ফেজের (কয়লা উত্তোলন বা নির্গমন মুখ) মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ফেজে যন্ত্রপাতি স্থানান্তরে আগামী দুই মাস এ খনি থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ থাকবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মাইন অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) খান মো. জাফর সাদিক।

জাফর সাদিক বলেন, খনির ১১১৩ ফেসের কয়লার মজুদ শেষ হওয়ায় এবং নতুন ফেস ১৪১২ চালু করার জন্য যন্ত্রপাতি স্থানান্তর করার জন্য বুধবার থেকে কয়লা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ১৪১২ ফেসে নতুন করে ওপেন আব কাট নির্মাণ, ১১১৩ ফেস থেকে সকল ইকুইপমেন্ট স্যালভেজ ও যথাযথ মেইনটেন্যান্স করে ১৪১২ ফেসে স্থাপন কাজ করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগবে।

তিনি আরও বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ নতুন ফেস থেকে আবারও উৎপাদন চালু করা সম্ভব হবে। আশা করছি, ১২১৪ নতুন ফেস থেকে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিকটন কয়লা পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটটি চালু আছে। যা থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৮০ থেকে ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে।

ইউনিট চালু রাখতে প্রতিদিন ২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হয়। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ইয়ার্ড ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইয়ার্ডে ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুত রয়েছে। যা দিয়ে প্রায় দুই মাস তাপবিদ্যুতের এই ইউনিটটি সচল রাখা সম্ভব।

তিনি বলেন, তাপবিদ্যুতের তিনটি ইউনিটের মধ্যে ওভার হোলিং-এর কারণে দুই নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে আছে এবং কয়লা স্বল্পতার কারণে ২০১৯ সাল থেকে এক নম্বর ইউনিটটিও বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রংপুর বিভাগে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট থেকে মাত্র ১৮০ থেকে ২২০ মেগাওয়াট উৎপন্ন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে তিনটি ইউনিট চালু রাখতে গেলে প্রতিদিন ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিকটন থেকে পাঁচ হাজার মেট্রিকটন কয়লার প্রয়োজন।

খুঁজুন