শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন করে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ২৬ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চারজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে তিনজন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে দুজন রয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ১৭ রোগী সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

আবওয়াবিদরা জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর পর এবার সময়ের আগেই বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে মৌসুমি বায়ু। গত ২৫ মে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে এ বায়ু প্রবেশ করে। আর এ বায়ুর প্রভাবে সারা দেশেই এখন বৃষ্টি হচ্ছে। তবে মৌসুমি বায়ু সাধারণত পয়লা জুন থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এটি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করে। পরে উত্তরের বাতাস শুরু হলে মৌসুমি বায়ু চলে যায়। এর আগে‌ সর্বশেষ ২০০৯ সালে জুনের আগে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করেছিল বাংলাদেশে।

মৌসুমি বায়ু প্রবেশের ফলে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে জানান আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘‌সাধারণ ২ বা ৩ জুন দেশে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে। এবার সেটি আগেই প্রবেশ করেছে, যা ১৬ বছর পর। এটি মূলত জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হয়ে থাকে; যা দেশের কৃষি ও পরিবেশের জন্য ইতিবাচক। এ সময়ে স্বাভাবিকভাবে বৃষ্টিপাত বেশি হয়।

তিনি অবশ্য এও বলেন, ‘‌আগেভাগে মৌসুমি বায়ু চলে আসার কারণে একটি নেতিবাচক দিকও আছে। যখন বৃষ্টি দরকার হবে তখন বৃষ্টিহীন হয়ে পড়তে পারে দেশ।

এদিকে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রাতা বেড়েছে। আর এটি এডিস মশার প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির জন্য সহায়ক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‌শীতকালের তাপমাত্রা সহ্যক্ষমতার বাইরে থাকায় মশার প্রজননক্ষমতা কমে যায়। ফলে বংশবৃদ্ধিও কমে। অতি তাপমাত্রায়ও একই থাকে। তবে বৃষ্টি হলে, বাতাস ভেজা থাকলে মশার প্রজননক্ষমতা বাড়ে। বৃষ্টিপাতের সময়ে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে, যা মশার প্রজননের জন্য খুবই সহায়ক। এ সময়ে মশা সর্বোচ্চ বংশবৃদ্ধি করে। আর ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা। তাই মশা যত বাড়বে ডেঙ্গুর প্রবণতা তত বাড়বে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪ হাজার ৯৩০ জন। এর মধ্যে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৪ হাজার ৪৮৬ জন।

মৌসুমি বায়ুর শুরু থেকে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী।  তিনি বলেন, ‘‌বৃষ্টির জমে থাকা পানি, অনুকূল তাপমাত্রা ও বাতাসের আর্দ্রতায় মশার প্রজননক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীও বেড়েছে। এ থেকে রক্ষা পেতে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রাসায়নিক ও জৈব উপায়ে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবেশগতভাবেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এর জন্য সরকারকে নিতে হবে যুগপৎ উদ্যোগ। জনগণকে নিয়ে মশা নিধন কর্মসূচি নিতে হবে।

খুঁজুন