বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষদের জন্য সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। এসব ঘর নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই নির্মিত এসব ঘর জরাজীর্ণ ও বসবাসের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দেওয়ালে ফাঁটল ধরেছে, পানি চুঁইয়ে পড়া ছাদ, ভেঙে পড়া দরজা-জানালা আর নষ্ট শৌচাগারে এখন দুঃস্বপ্ন পরিণত হয়েছে বহু পরিবারের স্বপ্নের ঘর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ফরিদাবাদ, শ্যামগঞ্জ ফাঁসির ডাঙ্গা, শ্যামগঞ্জ কাঁচারীপাড়া, রহিমাপুর, ঘনিরামপুর আদর্শপাড়া, উজিয়াল, পদ্মপুকুর, ধোলাই ঘাট, খিয়ারডাঙ্গা, চিলাপাক আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘরের অনেকগুলোর অবস্থা একেবারে বেহাল ও বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বেশিরভাগ ঘরের দেওয়ালে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। অনেক ঘরের পলেস্তারা উঠে গেছে। বর্ষাকালে মেঝে ফেটে ভেতরে পানি উঠছে, ছাদ থেকে টপটপ করে চুঁইয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি। এসবের ফলে ঘরের ভেতরে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পরেছে।
এসব ঘরে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। ঘনিরামপুর আদর্শপাড়ার আশ্রয়ণের বাসিন্দা মল্লিকা বেগম জানান, 'ঘর পেয়ে খুব আনন্দ হয়েছিল । কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই সমস্যার শুরু। দেয়ালে ফাঁটল ধরেছে, দরজা ভালোভাবে বন্ধ হয় না, ছাঁদ থেকে পানি পড়ে। রাতে বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে দাঁড়ানোরও জায়গা থাকে না।'
আর এক উপকারভোগী ইসমত আরা বেগম বলেন, 'আমার তিনটা ছোট বাচ্চা আছে। এই ভাঙাচোরা ঘরে থেকে তাদের অসুস্থতা বাড়ছে।তবুও নিরুপায় হয়ে এখানেই থাকি।'
রহিমাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে থাকা ভ্যান চালক ওমর আলী আক্ষেপ করে বলেন, 'টিনের চালের জোরাই খুলে গেছে কয়েকবার ইউএনও অফিসে গিয়ে বলে আসছি। কিন্তু ওই পর্যন্তই শেষ। এখনো বৃষ্টির রাতে জোরাই দিয়ে পানি পড়ে।'
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের প্রতিটিতে শৌচাগার থাকলেও সেগুলোর প্রায় সবকটিই বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অনেক শৌচাগারে পানির সংযোগ নেই। কিছু ঘরে পাইপ লাইনই বসানো হয়নি। আবার কোথাও প্যান ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে।
এই কারণে উপকারভোগীরা বাধ্য হয়ে অনেকে খোলা মাঠে, ঝোঁপঝাড়ে স্যানিটেশনের কাজ সারছেন। এতে নারীদের জন্য বিশেষত রাতে নিরাপত্তাহীনতা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
হাঁড়িয়ারকুঠি খিয়ারডাঙ্গার আশ্রয়ণের বাসিন্দা মাজেদা খাতুন জানান, 'ল্যাটিন ভরে গেছে। এ অবস্থায় কষ্ট করে আছি।'
স্থানীয়দের দাবি, ঘরগুলো নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা কম খরচে নিম্নমাণের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছেন। অনেক ঘরে ২/৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। সিমেন্টের পরিমাণ ছিল কম, এবং কাঠামোর নকশাও দুর্বল ছিল।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যথাযথ তদারকি, অর্থ আত্মসাৎ এর কারণে এই দুরবস্থা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। একাধিক গ্রামবাসী বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পরে কেউ আর এসে ঘরগুলো কেমন আছে তা দেখতে আসেনি।
সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া ঘরগুলোতে অনেকে বসবাস করেন না। বরাদ্দ পাওয়ার পর কিছুদিন বসবাস করলেও অনেকে এখন থাকছেন আগের বাড়িতেই। কেউ বা আবার ঘরগুলোকে রান্নাবান্নার লাকড়ি রাখার ঘর হিসেবেও ব্যবহার করছে।
তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুবেল রানা বলেন, ঘর যাদেরকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাদেরকেই সংস্কার করে ব্যবহার করতে হবে। সরকারিভাবে সংস্কারের কোন বরাদ্দ নেই।
বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর
বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর
বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষদের জন্য সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। এসব ঘর নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই নির্মিত এসব ঘর জরাজীর্ণ ও বসবাসের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দেওয়ালে ফাঁটল ধরেছে, পানি চুঁইয়ে পড়া ছাদ, ভেঙে পড়া দরজা-জানালা আর নষ্ট শৌচাগারে এখন দুঃস্বপ্ন পরিণত হয়েছে বহু পরিবারের স্বপ্নের ঘর।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ফরিদাবাদ, শ্যামগঞ্জ ফাঁসির ডাঙ্গা, শ্যামগঞ্জ কাঁচারীপাড়া, রহিমাপুর, ঘনিরামপুর আদর্শপাড়া, উজিয়াল, পদ্মপুকুর, ধোলাই ঘাট, খিয়ারডাঙ্গা, চিলাপাক আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘরের অনেকগুলোর অবস্থা একেবারে বেহাল ও বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।বেশিরভাগ ঘরের দেওয়ালে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। অনেক ঘরের পলেস্তারা উঠে গেছে। বর্ষাকালে মেঝে ফেটে ভেতরে পানি উঠছে, ছাদ থেকে টপটপ করে চুঁইয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি। এসবের ফলে ঘরের ভেতরে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পরেছে।এসব ঘরে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। ঘনিরামপুর আদর্শপাড়ার আশ্রয়ণের বাসিন্দা
মল্লিকা বেগম জানান, 'ঘর পেয়ে খুব আনন্দ হয়েছিল । কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই সমস্যার শুরু। দেয়ালে ফাঁটল ধরেছে, দরজা ভালোভাবে বন্ধ হয় না, ছাঁদ থেকে পানি পড়ে। রাতে বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে দাঁড়ানোরও জায়গা থাকে না।'আর এক উপকারভোগী ইসমত আরা বেগম বলেন, 'আমার তিনটা ছোট বাচ্চা আছে। এই ভাঙাচোরা ঘরে থেকে তাদের অসুস্থতা বাড়ছে।তবুও নিরুপায় হয়ে এখানেই থাকি।'রহিমাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে থাকা ভ্যান চালক ওমর আলী আক্ষেপ করে বলেন, 'টিনের চালের জোরাই খুলে গেছে কয়েকবার ইউএনও অফিসে গিয়ে বলে আসছি। কিন্তু ওই পর্যন্তই শেষ। এখনো বৃষ্টির রাতে জোরাই দিয়ে পানি পড়ে।'আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের প্রতিটিতে শৌচাগার থাকলেও সেগুলোর প্রায় সবকটিই বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অনেক শৌচাগারে পানির সংযোগ নেই। কিছু ঘরে পাইপ লাইনই বসানো হয়নি। আবার কোথাও প্যান ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে।এই কারণে উপকারভোগীরা বাধ্য হয়ে অনেকে খোলা মাঠে, ঝোঁপঝাড়ে স্যানিটেশনের কাজ সারছেন। এতে নারীদের জন্য বিশেষত রাতে নিরাপত্তাহীনতা এবং
স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়েছে।হাঁড়িয়ারকুঠি খিয়ারডাঙ্গার আশ্রয়ণের বাসিন্দা মাজেদা খাতুন জানান, 'ল্যাটিন ভরে গেছে। এ অবস্থায় কষ্ট করে আছি।'স্থানীয়দের দাবি, ঘরগুলো নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা কম খরচে নিম্নমাণের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছেন। অনেক ঘরে ২/৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। সিমেন্টের পরিমাণ ছিল কম, এবং কাঠামোর নকশাও দুর্বল ছিল।প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যথাযথ তদারকি, অর্থ আত্মসাৎ এর কারণে এই দুরবস্থা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। একাধিক গ্রামবাসী বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পরে কেউ আর এসে ঘরগুলো কেমন আছে তা দেখতে আসেনি।সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া ঘরগুলোতে অনেকে বসবাস করেন না। বরাদ্দ পাওয়ার পর কিছুদিন বসবাস করলেও অনেকে এখন থাকছেন আগের বাড়িতেই। কেউ বা আবার ঘরগুলোকে রান্নাবান্নার লাকড়ি রাখার ঘর হিসেবেও ব্যবহার করছে।তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুবেল রানা বলেন, ঘর যাদেরকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাদেরকেই সংস্কার করে ব্যবহার করতে হবে। সরকারিভাবে সংস্কারের কোন বরাদ্দ নেই।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত