শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অর্থ ও বাণিজ্য ব্যাংকঋণে সুদহার বৃদ্ধি

ব্যাংকঋণে সুদহার বৃদ্ধি

দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণের সুদহার বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। এই সুদহার গ্রাহকভেদে বছরে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ইতোমধ্যে নতুন সুদহার আরোপ করা হয়েছে এবং বাড়তি কিস্তিও কাটা শুরু হয়েছে। গ্রাহককে আগাম কোনো তথ্য জানানো হয়নি। প্রতি মাসে ঋণের কিস্তি দিতে হয়, এমন যাদের ব্যাংকঋণ রয়েছে, তাদের চলতি মাসের কিস্তিতে বাড়তি টাকা দিতে হবে। আবার কিছু ব্যাংক অপেক্ষা করছে পরিস্থিতি বুঝে ওঠার জন্য।

তবে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদ যেভাবে বাড়িয়েছে, আমানতের সুদে সেভাবে হাত দেয়নি। তারল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অনেক ব্যাংক পরবর্তী সময়ে আমানতের সুদহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি জুলাই থেকে স্মার্ট সুদহার নামে নতুন নিয়ম চালু করেছে। স্মার্ট হলো সিক্স মান্থস মুভিং এভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল। প্রতি মাসের শুরুতে ঋণের এই সুদহার জানিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মে মাসে স্মার্ট ছিল ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা জুনে কমে হয়েছে ৭ দশমিক ১০ শতাংশ। কোনো ব্যাংক মে মাসের হার ও কোনো ব্যাংক জুন মাসের হারকে বিবেচনায় নিয়ে জুলাই থেকেই নতুন সুদ নির্ধারণ করছে। আর সুদহার নির্ধারণে বেশির ভাগ ব্যাংক একেবারে সর্বোচ্চ সীমাকে বেছে নিয়েছে। ব্যাংকগুলো তারল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা কমিটি (অ্যালকো) আমানত ও ঋণের সুদহার নির্ধারণ করে থাকে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, সুদহার বাড়ার ফলে ঋণের চাহিদা কমবে, যা মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়তা করবে। এতে ব্যক্তি পর্যায়ে যারা ঋণগ্রহীতা, তাদের ওপর চাপ পড়বে। এতে কিছু করার নেই। তবে ব্যাংকগুলো একেবারে সর্বোচ্চ সুদ নির্ধারণ না করে ধীরে ধীরে বাড়াতে পারে; যাতে গ্রাহকরা সইতে পারেন। কিস্তির টাকা হঠাৎ বেড়ে গেলে তা খেলাপি হয়ে যেতে পারে। ঋণের সঙ্গে আমানতের সুদও বাড়াতে হবে, না হলে আমানতকারীদের আসলও হারিয়ে যাবে।

সিএমএসএমই খাতের রপ্তানি অর্থায়নে সুদ হবে ৯ শতাংশ। কৃষিঋণের সুদহার হবে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ ছাড়া করপোরেটদের চলতি মূলধন ঋণে সুদ হবে ১০ শতাংশ, রপ্তানিতে ৮ শতাংশ, গাড়ি কেনায় ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ ও অন্য সব ঋণে ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

খুঁজুন