শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় চা বাগানে মাদকের স্বর্গরাজ্য

চা বাগানে মাদকের স্বর্গরাজ্য

হবিগঞ্জের মাধবপুরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে মাদক সেবন ও সরবরাহকারী গ্রেপ্তার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মূল গডফাদাররা। ফলে মাধবপুরের সীমান্তবর্তী ধর্মঘর, চৌমুহনী, বহরা, শাহজাহানপুরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে মাদকের ভয়াল আগ্রাসনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা শঙ্কিত রয়েছেন। ইয়াবা-গাঁজা, ফেন্সিডিলের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে সীমান্তবর্তী উপজেলাটি। এ উপজেলার এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে মাদকের ছোবল হানা দেয়নি। পুলিশ-র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অভিযানে ইতঃপূর্বে অর্ধশত বিক্রেতাসহ সেবনকারী গ্রেপ্তার হয়, কিন্তু এর নিয়ন্ত্রক গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় মাদকের ছোবল থামছে না।

দেশব্যাপী সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করলেও চোরকারবারীরা নির্জন পাহাড় ও চা বাগানকে মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে বেঁচে নিয়েছে।

ধর্মঘরবাজার, বটতলী, মোহনপুর, আলীনগর, রাজনগর, হরিণখোলা, কমলপুর, রামনগর, হরষপুর, শিয়ালউড়ি, মালঞ্চপুর, চৈতন্যপুর, চৌমুহনী ও শ্রীধরপুর, তেলিয়াপাড়া চা বাগান, ২০নং সুরমা চা বাগান সীমান্ত এলাকায় তারকাটা বেড়া ভেদ করে বিশেষ কৌশলে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ঢুকছে।

এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তৎপর থাকলেও থামাতে পারছেন না মাদক পাচার। মাঝে মধ্যে কিছু অভিযান পরিচালিত হলে মাদক বহনকারী গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা তাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ধর্মঘর থেকে বাঘাসুরা পর্যন্ত এ চক্রের শতাধিক সদস্য এ পেশায় সক্রিয় রয়েছেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সীমিত লোকবল পরিবহন সমস্যা ও দুর্গম পাহাড়ের কারণে অবৈধ চোরাচালান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।

এসব কারবারির চলাফেরা বেশভুষা দেখে বুঝার উপায় নেই, তাদের নেতৃত্বে এ সীমান্তে বড় ধরনের চোরা চালানের ব্যবসা চলে। তারা সব সময় নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখে।

মাদকদ্রব্যের তালিকায় গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ ইত্যাদি। এসব মাদক এলাকায় সুস্থ মানুষদের জীবন অসহনীয় করে তুলছে। তাদের স্কুল, কলেজপড়ুয়া সন্তানরা অভিভাবকদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আড়ালে-আবডালে থেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন শত শত উঠতি বয়সের যুবক মাদক সেবনের জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় মোটর সাইকেল, কার, মাইক্রোবাস করে চলে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, মাদকের থাবা থেকে তাদের উত্তরাধিকারীদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। অন্যথা উঠতি বয়সের যুবকরা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ে চলে যেতে পারে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করেও বন্ধ করতে পারছে না পাঁচারকারীদের। আইন প্রয়োগকারী সদস্যদের দৃষ্টির অগোচরে যেসব মাদকদ্রব্য সীমান্ত অতিক্রম করে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকছে, তা রোধ করা খুবই কষ্টসাধ্য। সমূহ অপকর্মের হোতা যারা তাদের বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা মাদক কারবারিদের অর্থের জোগানদাতা। তারা কখনো নিজে মাদক বহন করে না। অনেক সময় উঠতি বয়সের যুবকদের টাকার লোভ দেখিয়ে মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করে। এদের রয়েছে গডফাদারও। যাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে নারাজ। কারণ এ সকল অর্থলোভী অবৈধ মাদক সম্রাটদের মূল অস্তিত্ব খুবই মজবুত ও বহুদূর প্রসারিত।

প্রাণের ভয়ে শান্তিপ্রিয় মানুষ নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকেন। এহেন পরিস্থিতিতে প্রশাসন অগ্রণী ভূমিকা না নিলে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্তি অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অভিজ্ঞমহলের অভিমত, অনৈতিক ও অসামাজিক মাদক বাণিজ্য অচিরেই বন্ধ না হলে আমাদের তরুণ সমাজ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল সামিউন্নবী চৌধুরী সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাদক প্রসঙ্গে বলেন, সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের টহল জোরদার রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান জিরো ট্রলারেন্স। মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি পাশাপাশি প্রত্যেকটি পরিবারের কর্তাকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক আটক হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

খুঁজুন