রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর চা বাগানে মজুরি ও রেশন বন্ধ, কষ্টে শ্রমিকরা

চা বাগানে মজুরি ও রেশন বন্ধ, কষ্টে শ্রমিকরা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে সরকার মালিকাধিন জগদীশপুর ও তেলিয়াপাড়া চা বাগানে টাকার অভাবে বাগানে কর্মরত শ্রমিকের রেশন তলব পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। ন্যাশনাল টি কোম্পানি পরিচালনা পর্ষদ বাগানে ম্যানেজারদের (ব্যবস্থাপক) টাকা না দেওয়ায় দুইটি বাগানের শত শত শ্রমিকের পাওনা বকেয়া রয়েছে। দরিদ্র শ্রমিক পরিবার এখন তাদের মজুরি ও রেশন না পেয়ে তাদের পরিবার খুব কষ্টে জীবিকানির্বাহ করছে। এ নিয়ে চা বাগানে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে জানা গেছে।

জগদীশপুর ও তেলিয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, ১৭০ টাকা দৈনিক হাজিরায় তারা চা বাগানে ৮ ঘন্টা কাজ করে আসছে। এই সামান্য মজুরি এবং সপ্তাহে যে পরিমাণ আটা দেওয়া হয় তা দিয়ে কোনো ভাবে তাদের সংসার চলেনা। বিকল্প কাজ না থাকায় অবহেলিত শ্রমিকরা স্বল্প সুবিধায় বাগানে বাধ্য হয়ে কাজ করছে। স্বল্প মজুরি দিয়ে পরিবারের অন্যান্য খরচ মেটানো খুবই কঠিন। কিন্তু এখন কাজ করার পরও গত ৩-৪ সপ্তাহ ধরে বাগানে শ্রমিকদের সপ্তাহিক রেশন পরিশোধ করা হচ্ছেনা। বাগান কর্তৃপক্ষ আর্থিক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে এখন শ্রমিকের মজুরি বন্ধ করে দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে চা বাগানে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। কারণ দুইটি চা বাগানে প্রায় ১০ হাজার হাজার পরিবার বাগানের কাজের ওপর নির্ভরশীল। কাজ বন্ধ হয়ে গেলে বাগানে বড় অভাব দেখা দেবে।

জগদীশপুর চা বাগানের শ্রমিক নেতা রমেশ কৈরি জানান, বাগানের মানুষ সপ্তাহ যে রেশন তলব পায় তা দিয়ে এক সপ্তাহ টেনেটুনে কোনো রকম সংসার চালায়। এখন দ্রব্যমূল্যের দাম খুব বেশি তাই দৈনিক ১৭০ টাকার তলবে কোনো ভাল খাবার কিনে খাওয়া যায়না। শ্রমিকরা কোন রকম খাবার খেয়ে জীর্ণশীর্ণ কুঁড়েঘর জীবন কাটায়। জগদীশপুর চা বাগানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রেশন তলব বন্ধ রয়েছে। কোম্পানির অর্থ সংকট থাকায় ব্যাংক থেকে এখন টাকা মিলছেনা। এ কারণে শ্রমিকের টাকা দেওয়া হচ্ছেনা। মজুরি রেশন না পেয়েও শ্রমিকরা কাজ করে যাচ্ছে।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা বীরেন বুনার্জি বলেন, চা বাগানে শ্রমিকরা ন্যায্য পাওনা না পেয়ে তারা অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে জীবিকানির্বাহ করছে। মজুরি রেশন না শ্রমিকরা বাগানে আন্দোলন করছে।

জগদীশপুর চা বাগানের ম্যানেজার (ব্যবস্থাপক) লিমন ফকির জানান, প্রতি বছর এখন চা বাগানে মোটা অংকের লোকসান হয়। কারণ দিন দিন চায়ের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। কিন্তু চায়ের দর বাড়ছেনা। এখন শ্রমিকদের মজুরি রেশন সহ যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করতে কোম্পানিকে কঠিন বেগ পেতে হচ্ছে। কোম্পানির টাকা না থাকায় এখন বাগানে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করতে প্রতিষ্ঠান আন্তরিক রয়েছে। টাকার ব্যবস্থা হলেই তাদের সমস্যা মিটে যাবে।

খুঁজুন