ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে। সিলেট নগরের আম্বরখানা থেকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে জন বিশেক নির্মাণশ্রমিক যাচ্ছিলেন দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে। কিন্তু কর্মস্থলে পৌঁছানো হলো না তাঁদের। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছাতেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সব। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চার শ্রমিক, হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরও চারজন।
রবিবারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ৮ জনের সবাই নির্মাণশ্রমিক। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, খাগড়াছড়ি থেকে আসা কাঁঠালবোঝাই ট্রাকটির চালক সারা রাত গাড়ি চালানোর পর ক্লান্তিতে ভোরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর ফলেই ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
যে দৃশ্যে শিউরে উঠলেন প্রত্যক্ষদর্শীরা দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়েই যাচ্ছিলেন এসএসএফ প্রটোকল ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্য রণজিৎ তালুকদার। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, চোখের সামনে এমন দৃশ্য খুব কম দেখেছি। ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গে পিকআপে থাকা শ্রমিকরা পাখির বাচ্চার মতো চারদিকে ছিটকে পড়ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই রাজপথ রক্তে ভিজে গেল।
স্বজন হারানোর আহাজারি নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দুই ভাই আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২) রয়েছেন। ফেসবুকে লাশের ছবি দেখে হাসপাতালে এসে তাঁদের শনাক্ত করেন স্বজনরা। একসঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটিতে এখন চলছে শোকের মাতম।
অন্যদিকে, স্বামী বদরুজ্জামানের সঙ্গে কাজে বেরিয়েছিলেন হাফিজা বেগম। দুর্ঘটনায় স্বামী প্রাণ হারালেও হাফিজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু তিনি এখনো জানেন না যে তাঁর জীবনসঙ্গী আর নেই। তাঁদের চার সন্তান এখন হাসপাতালের বারান্দায় বাবার অপেক্ষায় নির্বাক বসে আছে।
নিহত ও আহতদের পরিচয় নিহত অন্য শ্রমিকরা হলেন—সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার নার্গিস (৪৫), দিরাইয়ের মুন্নি বেগম (৩৫), নুরুজ আলী (৬০), ফরিদুল (৩৫); এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পান্ডব বিশ্বাস (২০) ও বদরুজ্জামান (৪৫)।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার উমর রাশেদ মনির জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭ জনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একজন বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছেন।
তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম জানান, দুর্ঘটনার পর দুই গাড়ির চালক পালিয়ে গেলেও ট্রাকের হেল্পারকে আটক করা হয়েছে। লাশগুলো বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সিলেটের উপপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা বলেন, শুনেছি ট্রাকচালক সারা রাত গাড়ি চালিয়ে আসছিলেন। ভোরের দিকে ক্লান্তিতে তাঁর চোখে ঘুম চলে আসাটাই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে মনে হচ্ছে। তবে বিস্তারিত তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
চালকের চোখের ঘুম কেড়ে নিলো ৮ প্রাণ
চালকের চোখের ঘুম কেড়ে নিলো ৮ প্রাণ
ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে। সিলেট নগরের আম্বরখানা থেকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে জন বিশেক নির্মাণশ্রমিক যাচ্ছিলেন দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে। কিন্তু কর্মস্থলে পৌঁছানো হলো না তাঁদের। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছাতেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সব। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চার শ্রমিক, হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরও চারজন।রবিবারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ৮ জনের সবাই নির্মাণশ্রমিক। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, খাগড়াছড়ি থেকে আসা কাঁঠালবোঝাই ট্রাকটির চালক সারা রাত গাড়ি চালানোর পর ক্লান্তিতে ভোরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর ফলেই ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা।যে দৃশ্যে শিউরে উঠলেন প্রত্যক্ষদর্শীরা দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়েই যাচ্ছিলেন এসএসএফ প্রটোকল ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্য রণজিৎ তালুকদার। সেই বিভীষিকাময়
মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, চোখের সামনে এমন দৃশ্য খুব কম দেখেছি। ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গে পিকআপে থাকা শ্রমিকরা পাখির বাচ্চার মতো চারদিকে ছিটকে পড়ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই রাজপথ রক্তে ভিজে গেল।স্বজন হারানোর আহাজারি নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দুই ভাই আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২) রয়েছেন। ফেসবুকে লাশের ছবি দেখে হাসপাতালে এসে তাঁদের শনাক্ত করেন স্বজনরা। একসঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটিতে এখন চলছে শোকের মাতম।অন্যদিকে, স্বামী বদরুজ্জামানের সঙ্গে কাজে বেরিয়েছিলেন হাফিজা বেগম। দুর্ঘটনায় স্বামী প্রাণ হারালেও হাফিজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু তিনি এখনো জানেন না যে তাঁর জীবনসঙ্গী আর নেই। তাঁদের চার সন্তান এখন হাসপাতালের বারান্দায় বাবার অপেক্ষায় নির্বাক বসে আছে।নিহত ও আহতদের পরিচয় নিহত অন্য শ্রমিকরা হলেন—সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার নার্গিস (৪৫), দিরাইয়ের
মুন্নি বেগম (৩৫), নুরুজ আলী (৬০), ফরিদুল (৩৫); এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পান্ডব বিশ্বাস (২০) ও বদরুজ্জামান (৪৫)।সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার উমর রাশেদ মনির জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭ জনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একজন বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছেন।তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম জানান, দুর্ঘটনার পর দুই গাড়ির চালক পালিয়ে গেলেও ট্রাকের হেল্পারকে আটক করা হয়েছে। লাশগুলো বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।ফায়ার সার্ভিস সিলেটের উপপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা বলেন, শুনেছি ট্রাকচালক সারা রাত গাড়ি চালিয়ে আসছিলেন। ভোরের দিকে ক্লান্তিতে তাঁর চোখে ঘুম চলে আসাটাই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে মনে হচ্ছে। তবে বিস্তারিত তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত