রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর ছয়দিনেও খোঁজ মিলেনি ৪ বোনের

ছয়দিনেও খোঁজ মিলেনি ৪ বোনের

ছয়দিনেও খোঁজ মিলেনি সহোদর ৪ বোনের। বৃহস্পতিবার (২৬ মে) মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে নানার বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তারা। তাদের কোন ভাই না থাকায় ও সবসময় অসুস্থ বাবার কটুক্তি সহ্য করতে না পেরে রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তারা।

নিখোঁজ চার বোন হলো-কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউপির কালেম গ্রামের মজিবুল হকের মেয়ে এবং আফসারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার ছাত্রী।

চার বোনের মধ্যে তাসনিম জাহান (১৭) আলীম প্রথম বর্ষে, মারজাহান (১৪) অষ্টম শ্রেণির, তাজিন সুলতানা (১২) ষষ্ঠ শ্রেণির ও সবার ছোট বোন মাইশা সুলতানা (৬) নারুয়া তা’লিমুল কোরআন মডেল মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির ছাত্রী।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মজিবুল হক ২২ বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী নারুয়া গ্রামের হাজী মোস্তফা কামালের মেয়ে মাসুদা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয়। সংসার জীবন সুখে চলছিল তাদের। প্রথমে একটি কন্যা সন্তান জন্ম হয়। পর পর আরও তিনটি কন্যা সন্তান হয়। মেয়েরা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেনা বাড়তে থাকে। যার খরচ জোগানো মজিবুল হকের পক্ষে সম্ভব না। এর মধ্যে মজিবুল হক দু'বার ব্রেইন স্টোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে তিনি প্রায় সময় স্ত্রী ও মেয়েদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এসব ঘটনা দেখে মাসুদা বেগমের বাবা মোস্তফা কামাল তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন মেয়েকে। সর্বশেষ গত বুধবার চার নাতিনও চলে আসেন তাদের বাড়িতে। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে সবার ছোট বোন মাইশা সুলতানাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান চার বোন। তার পর থেকে আর বাড়ি ফিরেনি তারা। আত্মীয়-স্বজনসহ অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান মিলেনি। এ পর্যায়ে গত শনিবার নাঙ্গলকোট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন মজিবুল হক।

নিখোঁজ চার মেয়ের বাবা মজিবুল হক কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, তিনি অসুস্থ। তার কোনো ছেলে নেই। অভাবের সংসার। নানার বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর বাড়িতে আসেনি তারা।

মা মাসুদা বেগম মেয়েদের কথা বলে বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আমার চার মেয়ে, আমার মেয়েদের এনে দেন। তিনি সরকারসহ পুলিশ প্রশাসনের কাছে মেয়েদের ভিক্ষা চাচ্ছেন।

নিখোঁজ চার বোনের নানা হাজি মোস্তফা কামাল বলেন, মজিবুল হক প্রায় সময় তার মেয়ে মাসুদার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। সেই সঙ্গে নাতিনদের সঙ্গেও করেন। গত বুধবার সকালে চার নাতিন তাদের বাড়িতে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। বিকেল যায়, রাত যায় নাতিনরা আর বাড়ি আসে না। তিনিও নাতিনদের উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফারুক হোসেন বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও থানার একটি চৌকস দল তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

খুঁজুন