শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর চলনবিল অঞ্চলে পানির অভাবে পাট জাগে বিঘ্ন

চলনবিল অঞ্চলে পানির অভাবে পাট জাগে বিঘ্ন

পর্যাপ্ত পানির অভাবে চলনবিল অঞ্চলে সোনালী আঁশ পাট জাগ দেওয়া যাচ্ছে না। আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল হলেও শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহেও বিল অধ্যুষিত এলাকায় বন্যার পানির দেখা নেই। খাল-বিল, পুকুরে পাট পচানোর জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে, পাট জাগ দেওয়ার পানির সংকটে পাট কাটতে পারছেন না অনেক কৃষক। আবার যে সকল কৃষক পাট কাটছেন, তাদের অনেকেই পাট জাগ দেওয়া নিয়ে এরই মধ্যে বিপাকে পড়েছেন।

এ বছর পাটের মৌসুমে চলনবিল অঞ্চলের তাড়াশে ৮১০ হেক্টর, গুরুদাসপুরে ৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর, শাহজাদপুরে ৩৮৭ হেক্টরসহ ৯টি উপজেলা এলাকায় তোষা, কেনাফ, মেস্তাসহ কয়েকটি জাতের পাটের আবাদ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ১০৩ হেক্টর জমিতে। সেই সঙ্গে ভালো ফলন হচ্ছে বলে জানান তাড়াশের রঘুনিলী গ্রামের কৃষক শামসুল ইসলাম।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে প্রকার ভেদে বিঘা প্রতি ৮ থেকে ১১ মণ পর্যন্ত ফলন হচ্ছে। কিন্তু পাট কাটার ভরা মৌসুমে পাট জাগের জলাশয় ও পানির অভাবে পাট কাটা, জাগ দেওয়া নিয়ে যারপর নাই অসুবিধায় পড়েছেন চলনবিলের পাট চাষি কৃষকরা এমনি ভাষ্য, গুরুদাসপুরের মশিন্দা এলাকার কৃষক মো. আজমল সরদারে।

সরেজমিনে তাড়াশ উপজেলার ভায়াট গ্রামের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, পানির অভাবে কিছু জমির কাটা পাট গাছ গুলো শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা তাড়াশের বারুহাস এলাকায়। সেখানেও দেখা যায় মো. মোবারক হোসেন নামের এক কৃষক তার জমির পাট কেটে ফেলে রেখেছেন। তিনিও পানির সংকটে পাট জাগ দিতে পারছেন না। অবশ্য এখানে একটি অ- প্রসস্থ্য খালে কিছু পানি থাকলেও নৌ চলাচলের কারণে পাট জাগ দেওয়া সম্ভব না। কেননা পাট জাগ দিলে নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তাই এ কৃষক বিকল্প পাট জাগের জায়গা খুজছেন বলে জানান। আবার অনেকে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকায় ব্যক্তি মালিকানার জলাশয় খন্ডকালীন সময়ের জন্য ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন এমন তথ্য জানিয়েছেন, চলনবিলের খালখুলা গ্রামের কৃষক হবিবর রহমান।

অন্যদিকে মহেশরৌহালি এলাকার পাট চাষি মো. জয়নাল সরকার বলেন, আমি দুই বিঘা জমিতে এ বছর পাট চাষ করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছিল, কিন্তু পানির অভাবে এক বিঘা জমির কাটা এখনও জাগ দিতে পারিনি। এ জন্য জমিতেই পাটগাছ শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া এলাকার কৃষক বেল্লাল হোসেন, আলী, ফজল হোসেনসহ অনেকে জানান, তাদের জমির পাট কাটার উপযোগী হলেও তারা পাট জাগের পানি আর জায়গার সংকটের কথা ভেবে পাট কাটছেন না। অথচ পাট কেটে তারা ওই জমিতে রোপা আমনের আবাদ করবেন। যা পিছিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে চলনবিলে বিভিন্ন এলাকার কোন কোন পাট চাষি অপরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দিচ্ছেন, যার কারণে পাটের আঁশের রং কালচে হয়ে যাচ্ছে এবং বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে এমনটিও জানান, বিল পাড়ের আরেক কৃষক সুজাব উদ্দিন।

এ প্রসঙ্গে গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম জানান, চলনবিল অঞ্চল হলো বিশাল এলাকা। আর আমার উপজেলায় পাট জাগের জলাশয় ও পানির সংকট আছে।

তবে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, আমার এলাকায় সবে পাট কাটা শুরু হয়েছে। আর এ উপজেলার কিছু জায়গায় পাট জাগের পানির সংকট থাকলেও বেশির ভাগ স্থানে পাট জাগের পানি ও জলাশয়ের তেমন সংকট হওয়ায় কথা নয়।

খুঁজুন