নিজস্ব প্রতিবেদক::
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাংবাদিক নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, শুকলাল দাশ, তপন চক্রবর্তী, দেবদুলাল ভৌমিকসহ ২৭ জন সাংবাদিক এবং ২২ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ মোট ৪৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম জুয়েল দেব এর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নগরীর আন্দরকিল্লা নজির আহম্মদ চৌধুরী রোড এলাকার হাসিনা মমতাজ (৫৫)। বাদি চান্দগাঁও থানাধীন মোহরা ছায়েরা খাতুন কাদেরিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই কে তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য নির্দেশ দেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিউ মার্কেটে অবস্থান চলাকালীন পূর্বপুর ঘটনায় সংবাদপত্র-অনলাইন মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশে সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষাবলম্বন করা, শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকা, গণমাধ্যমের গাড়িতে করে ভারী অস্ত্র বহন, ছাত্র ও যুবলীগ নেতাদের হাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তুলে দেওয়ার অভিযোগে এই মামলা হয়। কিন্তু সাংবাদিকেরা বিভ্রান্তিমূলক যে খবর প্রচারের কথা বলা হচ্ছে সে সব খবরের সত্যতা নিশ্চিতে অবিরাম চেষ্টা চলছে। যদিও এখনো ধোঁয়াশা কাটছে না। আদৌও এসব সাংবাদিক ঘটনাস্থলে ছিলো কিনা। যা অধিকতর তদন্তের বিষয়।
মামলায় ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের সময় হামলার ছবি তুলতে গেলে বাদীর উপরও সাংবাদিকরা চড়াও হন বলে অভিযোগ তোলা হয়। মামলায় সাবেক তথ্য সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাত ছাড়াও সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতা হিসেবে আসামিরা তালিকায় রয়েছেন।
মামলায় অভিযোগযুক্তরা হলেন-চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দৈনিক আজাদীর সিনিয়র রিপোর্টার শুকলাল দাশ, সময় টিভি চট্টগ্রাম প্রধান প্রমল কান্তি দে কমল প্রকাশ কমল দে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির অনুপম শীল, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, সাংবাদিক আজহার মাহমুদ ( বাংলাদেশ প্রতিদিন) রতন কান্তি দেবাশীষ (সম্পাদক সিনিউজ২৪বিডি), চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি তপন চক্রবর্তী (বাংলা নিউজ২৪ ডটকম), ফটো জার্নালিস্ট উজ্জ্বল কান্তি ধর, বিএফইউজে এর যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, সাংবাদিক একরামুল হক বুলবুল, রমেন দাশগুপ্ত ( সারাবাংলা নেট) উত্তম সেনগুপ্ত, মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (সমকাল), মিন্টু চৌধুরী (বিডি নিউজ) রাহুল কান্তি দাস (পূর্ব দেশ) সুবল বড়ুয়া (প্রতিদিনের বাংলাদেশ ), রুনা আনসারী (দীপ্ত টিভি) রফিকুল বাহার (একুশে টিভি) আয়ান শর্মা (চট্টগ্রাম প্রতিদিন) আমিনুল ইসলাম মুন্না( আজাদী) বিশ্বজিৎ রাহা (প্রতিনিধি, দৈনিক পূর্বকোণ), ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সভাপতি ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক আলোকচিত্র সাংবাদিক রাশেদ মাহমুদ, হামিদ উল্লাহ (আমাদের সময়) স্বরুপ ভট্টাচার্য (সি প্লাস), সমরেশ বৈদ্য (ভোরের কাগজ)।
এছাড়াও এই মামলায় ৪ জন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন-ওয়ার্ড সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল সুমন, নুরুল মুস্তাফা টিনু, শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম, মোরশেদ আলম চৌধুরী।
সাংবাদিকরা ছাড়াও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে এই মামলায় আসামী হিসেবে রয়েছেন-সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী ও চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র বোরহানুল হক চৌধুরী সালেহীন, পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা শ্যামল কুমার পালিত, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, যুবলীগ নেতা ফরিদ মাহমুদ, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, যুবলীগের জাহিদ সুমন, ওয়াসিম উদ্দিন, আরসাদুল আলম বাচ্চু, দিদারুল আলম মাসুম, সনৎ বড়ুয়া, সিরাজুল ইসলাম, এয়ার মোহাম্মদ ডুবুরিসহ প্রমূখ।
মামলার বাদী হাসিনা মমতাজ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, 'আমরা ৪ আগস্ট নিউমার্কেট এলাকায় ছিলাম। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের কর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করেছিল। আমি তখন ভিডিও করছিলাম। তারা সেখানে একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। আমার স্বামী আহত হন। আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সাংবাদিকদের চিনি না। সাংবাদিকদের নামগুলো বিক্ষোভকারী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া।'
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফ-এর মহাসচিব কলামিস্ট অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আসামিও চেনেন না বাদীকে। পুরোনো শত্রুতা থেকে কাউকে কাউকে ফাঁসাতে এসব মামলা হচ্ছে। এতে প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
চট্টগ্রামে বাদী চেনেন না ২৭ সাংবাদিককে, তবুও আসামি বানিয়ে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
চট্টগ্রামে বাদী চেনেন না ২৭ সাংবাদিককে, তবুও আসামি বানিয়ে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাংবাদিক নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, শুকলাল দাশ, তপন চক্রবর্তী, দেবদুলাল ভৌমিকসহ ২৭ জন সাংবাদিক এবং ২২ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ মোট ৪৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম জুয়েল দেব এর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নগরীর আন্দরকিল্লা নজির আহম্মদ চৌধুরী রোড এলাকার হাসিনা মমতাজ (৫৫)। বাদি চান্দগাঁও থানাধীন মোহরা ছায়েরা খাতুন কাদেরিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই কে তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য নির্দেশ দেন।এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিউ মার্কেটে অবস্থান চলাকালীন পূর্বপুর ঘটনায় সংবাদপত্র-অনলাইন মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশে সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষাবলম্বন করা, শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকা, গণমাধ্যমের গাড়িতে করে ভারী অস্ত্র বহন, ছাত্র ও যুবলীগ নেতাদের হাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তুলে দেওয়ার অভিযোগে এই মামলা হয়। কিন্তু সাংবাদিকেরা বিভ্রান্তিমূলক যে খবর প্রচারের কথা বলা হচ্ছে সে সব খবরের সত্যতা নিশ্চিতে অবিরাম চেষ্টা চলছে। যদিও এখনো ধোঁয়াশা কাটছে না। আদৌও এসব সাংবাদিক ঘটনাস্থলে ছিলো কিনা। যা অধিকতর তদন্তের বিষয়।মামলায় ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের সময় হামলার ছবি তুলতে গেলে বাদীর উপরও সাংবাদিকরা চড়াও হন বলে অভিযোগ তোলা হয়। মামলায় সাবেক তথ্য সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের
কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাত ছাড়াও সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতা হিসেবে আসামিরা তালিকায় রয়েছেন।মামলায় অভিযোগযুক্তরা হলেন-চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দৈনিক আজাদীর সিনিয়র রিপোর্টার শুকলাল দাশ, সময় টিভি চট্টগ্রাম প্রধান প্রমল কান্তি দে কমল প্রকাশ কমল দে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির অনুপম শীল, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, সাংবাদিক আজহার মাহমুদ ( বাংলাদেশ প্রতিদিন) রতন কান্তি দেবাশীষ (সম্পাদক সিনিউজ২৪বিডি), চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি তপন চক্রবর্তী (বাংলা নিউজ২৪ ডটকম), ফটো জার্নালিস্ট উজ্জ্বল কান্তি ধর, বিএফইউজে এর যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, সাংবাদিক একরামুল হক বুলবুল, রমেন দাশগুপ্ত ( সারাবাংলা নেট) উত্তম সেনগুপ্ত, মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (সমকাল), মিন্টু চৌধুরী (বিডি নিউজ) রাহুল কান্তি দাস (পূর্ব দেশ) সুবল বড়ুয়া (প্রতিদিনের বাংলাদেশ ), রুনা আনসারী (দীপ্ত টিভি) রফিকুল বাহার (একুশে টিভি) আয়ান শর্মা (চট্টগ্রাম প্রতিদিন) আমিনুল ইসলাম মুন্না( আজাদী) বিশ্বজিৎ রাহা (প্রতিনিধি, দৈনিক পূর্বকোণ), ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সভাপতি ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক আলোকচিত্র সাংবাদিক রাশেদ মাহমুদ, হামিদ উল্লাহ (আমাদের সময়) স্বরুপ ভট্টাচার্য (সি প্লাস), সমরেশ বৈদ্য (ভোরের কাগজ)।এছাড়াও এই মামলায় ৪ জন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন-ওয়ার্ড সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল সুমন, নুরুল মুস্তাফা টিনু, শরাফত
উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম, মোরশেদ আলম চৌধুরী। সাংবাদিকরা ছাড়াও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে এই মামলায় আসামী হিসেবে রয়েছেন-সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী ও চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র বোরহানুল হক চৌধুরী সালেহীন, পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা শ্যামল কুমার পালিত, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, যুবলীগ নেতা ফরিদ মাহমুদ, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, যুবলীগের জাহিদ সুমন, ওয়াসিম উদ্দিন, আরসাদুল আলম বাচ্চু, দিদারুল আলম মাসুম, সনৎ বড়ুয়া, সিরাজুল ইসলাম, এয়ার মোহাম্মদ ডুবুরিসহ প্রমূখ।মামলার বাদী হাসিনা মমতাজ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, 'আমরা ৪ আগস্ট নিউমার্কেট এলাকায় ছিলাম। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের কর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করেছিল। আমি তখন ভিডিও করছিলাম। তারা সেখানে একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। আমার স্বামী আহত হন। আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সাংবাদিকদের চিনি না। সাংবাদিকদের নামগুলো বিক্ষোভকারী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া।'বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফ-এর মহাসচিব কলামিস্ট অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আসামিও চেনেন না বাদীকে। পুরোনো শত্রুতা থেকে কাউকে কাউকে ফাঁসাতে এসব মামলা হচ্ছে। এতে প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত