শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের ২০% কলেরা রোগী

ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের ২০% কলেরা রোগী

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে ডায়রিয়া রোগের ভয়াবহ রূপ নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ডায়রিয়া সংক্রমণ দেশজুড়ে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। তীব্র পানিশূন্যতা নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও ঢাকা হাসপাতালে আসছেন রোগীরা। চিকিৎসকরা বলছেন মিনিটে তাদের দুজন রোগী দেখতে হচ্ছে। আইসিডিডিআরবির তথ্যানুসারে, গত ৯ দিনে ভর্তি হওয়া ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১৬১। কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির ৬০ বছরের ইতিহাসে রোগীর এমন চাপ নজিরবিহীন। এমনকি হাসপাতালের বাইরেও তাঁবু টানিয়ে চিকিৎসা চলছে। বিশুদ্ধ পানির যথেষ্ট জোগান না থাকায় এবং অতি ব্যস্ততার ফলে বাসি খাবারের ওপর নির্ভরশীলতা ডায়রিয়ার সংক্রমণ বাড়াচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ৬ এপ্রিল এ হাসপাতালে রোগী ছিল ১৩৭০ জন। পরের দিন তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৮২-তে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত রোগী ছিল ৪৬৯ জন। এ হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, রোগী হয়ে যারা আসছেন তাদের ২০ শতাংশই কলেরায় আক্রান্ত। এ বিষয়ে আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, গরমের সময়টায় জীবাণুটার রোগ তৈরি করার ক্ষমতা বেড়ে যায়। এখন ডায়রিয়া, কলেরায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন প্রাপ্তবয়স্করা। শিশুদের আক্রান্তের হার ২০ শতাংশ।

চিকিৎসকরা জানান, প্রতিবার ডায়রিয়ার পর এক গ্লাস বা আড়াইশো মিলি খাবার স্যালাইন খাবেন। এ ছাড়া খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি দুই বছরের কম বয়সি শিশুরা মায়ের বুকের দুধ পান করবে। রোগীকে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি চিড়ার পানি, ডাবের পানি, স্যুপ বা পানিজাতীয় খাবারগুলো খাওয়াতে পারেন। তবে স্বস্তির কথা যে এখন পর্যন্ত ডায়রিয়া বা কলেরায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি।

গত তিন মাসের হিসাবে দেখা যায়, ডায়রিয়ায় সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৪৭ জন। সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছে বরিশাল বিভাগে। আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৪১৫। আট বিভাগের হিসাবে দেখা যায়, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে ডায়রিয়ার আক্রান্তের সংখ্যা ফেব্রুয়ারির চেয়ে মার্চ মাসে কমেছে। অন্যসব বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।

খুঁজুন