শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে

ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে  ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের  কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সংলাপ আগস্ট ২০২৫: প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও নিরসন’ শীর্ষক সমন্বয় সভায় বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার এখন বাংলাদেশে, আর বিশ্বব্যাপী মৃত্যুহারের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশটি। সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় নাগরিক সচেতনতা ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

সভায় প্রকাশিত পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আগস্টে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়বে এবং হাসপাতালগুলোয় ভর্তির চাপ বাড়তে পারে। বিগত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে এ প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। তবে অক্টোবরে বর্ষা শেষ হলে সংক্রমণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

সভায় মশা নিয়ন্ত্রণে জনগণের সচেতনতার অভাব, সঠিকভাবে কীটনাশক প্রয়োগ না করা ও অপর্যাপ্ত সরকারি উদ্যোগসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরা হয়। এছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পানি নিষ্কাশন সমস্যা ও আবহাওয়ার প্রভাব মশার বংশবিস্তার বাড়াচ্ছে। বাসাবাড়িতে প্রবেশে বাধা ও কীটনাশকের প্রতি মশার প্রতিরোধ ক্ষমতাও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা ও ফগিংনির্ভর ভ্রান্ত ধারণা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করছে।

ডিএনসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যবহৃত লার্ভিসাইডের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে একাধিক স্বীকৃত ল্যাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মশক কর্মীদের কাজ নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মনিটরিং হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় কিট ও সরঞ্জাম সরবরাহের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা শুধু ডেঙ্গু নয়, বরং জিকা ও চিকুনগুনিয়া নিয়েও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, এসব রোগ প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি এবং নাগরিক সচেতনতা অপরিহার্য। সময়মতো মাঠ পর্যায়ে সার্ভে কার্যক্রম পরিচালনা করে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

ডেঙ্গু মোকাবেলায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘ফুটপাত দখল করে বসা বাজার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কঠিন করে তুলছে, যা মশার প্রজননে সহায়ক। আমরা সারা রাত শহরের আবর্জনা পরিষ্কার করি, কিন্তু দুপুরের মধ্যেই আবার শহর নোংরা হয়ে যায়। ডেঙ্গু মোকাবেলা শুধু সিটি করপোরেশন বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একক দায়িত্ব নয়, বরং এজন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

খুঁজুন