রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় ঢাকার বায়ুদূষণ ৭ বছরে সর্বোচ্চ

ঢাকার বায়ুদূষণ ৭ বছরে সর্বোচ্চ

গত এক সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই বায়ুদূষণের শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে ঢাকা। ২০২৩ সালের প্রথম মাসেই অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর বা দুর্যোগপূর্ণ দিন ছিল ১০ দিন, যা গত সাত বছরের জানুয়ারি মাসের তুলনায় সবচেয়ে বেশি।

এদিকে গত এক সপ্তাহে বায়ুদূষণ প্রতিরোধে অভিযানে প্রায় ১১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর পরও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না দূষণের মাত্রা।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় আবারও দূষিত বাতাসের শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে ঢাকা। এ সময় ঢাকার বায়ুমান ছিল ১৯৮।

শনিবার সকাল থেকে ঢাকার অবস্থান ছিল কখনো তৃতীয়, আবার কখনো চতুর্থ। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার বায়ুমান ছিল ২২৫, আর শুক্রবার ছিল ১৯৫। বায়ুর মান হিসেবে এই সবগুলো অবস্থানের মানে হলো, বাতাসের পরিস্থিতি অস্বাস্থ্যকর। শুষ্ক মৌসুমে যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়া, গাড়ির কালো ধোঁয়া আর নির্মাণকাজের কারণে সবচেয়ে বেশি দূষিত হচ্ছে ঢাকা।

বাংলাদেশে অবস্থিত আমেরিকান দূতাবাস থেকে প্রাপ্ত ২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সাত বছরে ঢাকার বায়ুমান সূচকের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। তারা জানান, গত সাত বছরের জানুয়ারি মাসের ২০৯ দিনের মধ্যে ৩৫ দিন দুর্যোগপূর্ণ এবং ১৪৫ দিন খুবই অস্বাস্থ্যকর দিন ছিল।

গত সাত বছরে জানুয়ারি মাসে ঢাকার মানুষের এক দিনের জন্যও ভালো বায়ু সেবন করার সৌভাগ্য হয়নি। শতকরা ৯৯ দশমিক শূন্য ৪ ভাগ দিনই বায়ুমান পরিস্থিতি ‘অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘বিপজ্জনক’ বা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল।

গত সাত বছরে জানুয়ারি মাসে ঢাকার বায়ুমানের দিক থেকে ২০১৭ সালে ৫, ২০১৮ সালে ৪, ২০১৯ সালে ৪, ২০২০ সালে ৪, ২০২১ সালে ৭, ২০২২ সালে মাত্র এক দিন অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর বা দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সেখানে ২০২৩ সালে অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর বা দুর্যোগপূর্ণ দিন ছিল ১০ দিন।

তারা আরো জানান, ২০২২ সালে জানুয়ারি মাসে ১৮ দিন খুবই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ঢাকার বায়ুমান অবস্থান করেছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসের ২১ দিনই ঢাকার বায়ুমান ছিল এর চেয়েও খারাপ বা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’।

স্ট্যামফোর্ড বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিলেও নানা কারণেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। শুষ্ক মৌসুম শুরুর আরো আগে থেকেই বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া গেলে হয়তো দূষণ কম হতো। আমাদের গবেষণায় যে মাত্রা পাওয়া গেছে, তাতে গত সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর বাতাস এবার জানুয়ারি মাসে সেবন করেছে ঢাকাবাসী, যা বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়েই চলেছে।

এদিকে বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে অভিযান করেই যাচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত এক সপ্তাহে ৫ দিনে অর্থাৎ ৫ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিচালিত অভিযানে ১০ লাখ ৯০ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করে তারা।

খুঁজুন