ঢাকায় গণপরিবহন খাতে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। সব ঠিক থাকলে শিগগিরই পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর পরিবহনের লক্ষ্যে চালু হতে যাচ্ছে বৈদ্যুতিক বাস। অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এমন তথ্য জানিয়েছেন। ১৬ মে রাতে নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ তথ্য জানান।
আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, ঢাকায় চলবে বৈদ্যুতিক বাস। আগামী ১ জুলাই থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। শহরে গণপরিবহনের সমস্যা সমাধানে এই উদ্যোগ সরকারের।
জানা গেছে, এই প্রকল্পে কেনা হচ্ছে ৪০০ বাস। চার্জিং ডিপো থাকছে ৩টি। প্রকল্পটি শেষ করা হবে ২০৩০ সালের মধ্যে। এতে বিশ্বব্যাংক দেবে ২ হাজার ১৩৫ কোটি ও সরকার দেবে ৩৭৫ কোটি টাকা।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশদূষণ রোধ ও বায়ুমান উন্নয়ন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনা, সবার জন্য উপযোগী গণপরিবহন সম্প্রসারণ, যানজট হ্রাস, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা করবে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার (বিসিএপি) ফেজ ওয়ান’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তিনটি সংস্থা কাজ করবে। এর মধ্যে আছে পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং ডিটিসিএ। বিআরটিএ কাজ করবে বাস সেক্টরের উন্নয়নে, ডিটিসিএ তার অংশে সিটি বাস সংস্কার কর্মসূচির আওতায় ইলেকট্রিক বাসের প্রবর্তন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও কারিগরি সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইনগত সংস্কার ও নীতিমালা প্রণয়ন করবে।
সড়ক বিভাগের প্রকল্প প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এসব ইলেকট্রিক বাসের অপারেশনের খরচ কে দেবে, সেটা নিয়ে একটি প্রশ্ন তৈরি হয়। প্রকল্পের পাঁচ বছর পর সরকার এসব বাস পরিচালনায় ভর্তুকি দেবে কি না, সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া এই প্রকল্প কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে জন্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, কী কারণে নগর পরিবহন হচ্ছে না, সেটা ধরতে না পেরে যখন আবার নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে, এটা অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে যাবে। বিনিয়োগবিহীন বাস সার্ভিস কীভাবে চলতে পারে, তার উদাহরণ থাকা সত্ত্বেও যাঁরা বিনিয়োগের চিন্তা করছেন, তাতে জনগণের পয়সার অপচয় হবে। আগের সরকারও বিনিয়োগের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করত। অন্তর্বর্তী সরকারও সেই পথে হাঁটছে।
প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নগরবাসী আধুনিক, নির্ঝঞ্ঝাট ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন সুবিধা পাবেন। এটি শুধু যানজট ও দূষণ হ্রাসেই অবদান রাখবে না, বরং নাগরিক জীবনের মান উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকার রাস্তায় চলবে বৈদ্যুতিক বাস
ঢাকার রাস্তায় চলবে বৈদ্যুতিক বাস
ঢাকায় গণপরিবহন খাতে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। সব ঠিক থাকলে শিগগিরই পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর পরিবহনের লক্ষ্যে চালু হতে যাচ্ছে বৈদ্যুতিক বাস। অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এমন তথ্য জানিয়েছেন। ১৬ মে রাতে নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ তথ্য জানান।আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, ঢাকায় চলবে বৈদ্যুতিক বাস। আগামী ১ জুলাই থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। শহরে গণপরিবহনের সমস্যা সমাধানে এই উদ্যোগ সরকারের।জানা গেছে, এই প্রকল্পে কেনা হচ্ছে ৪০০ বাস। চার্জিং ডিপো থাকছে ৩টি। প্রকল্পটি শেষ করা হবে ২০৩০ সালের মধ্যে। এতে বিশ্বব্যাংক দেবে ২ হাজার ১৩৫ কোটি ও সরকার দেবে ৩৭৫ কোটি টাকা।প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশদূষণ রোধ ও বায়ুমান উন্নয়ন, গণপরিবহনে
শৃঙ্খলা আনা, সবার জন্য উপযোগী গণপরিবহন সম্প্রসারণ, যানজট হ্রাস, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা করবে।বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার (বিসিএপি) ফেজ ওয়ান’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তিনটি সংস্থা কাজ করবে। এর মধ্যে আছে পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং ডিটিসিএ। বিআরটিএ কাজ করবে বাস সেক্টরের উন্নয়নে, ডিটিসিএ তার অংশে সিটি বাস সংস্কার কর্মসূচির আওতায় ইলেকট্রিক বাসের প্রবর্তন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও কারিগরি সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইনগত সংস্কার ও নীতিমালা প্রণয়ন করবে।সড়ক বিভাগের প্রকল্প প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এসব ইলেকট্রিক বাসের অপারেশনের খরচ কে দেবে, সেটা নিয়ে একটি প্রশ্ন তৈরি হয়। প্রকল্পের পাঁচ বছর পর সরকার এসব বাস পরিচালনায় ভর্তুকি দেবে কি না, সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া এই প্রকল্প কতটা
সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে জন্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা।পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, কী কারণে নগর পরিবহন হচ্ছে না, সেটা ধরতে না পেরে যখন আবার নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে, এটা অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে যাবে। বিনিয়োগবিহীন বাস সার্ভিস কীভাবে চলতে পারে, তার উদাহরণ থাকা সত্ত্বেও যাঁরা বিনিয়োগের চিন্তা করছেন, তাতে জনগণের পয়সার অপচয় হবে। আগের সরকারও বিনিয়োগের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করত। অন্তর্বর্তী সরকারও সেই পথে হাঁটছে।প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নগরবাসী আধুনিক, নির্ঝঞ্ঝাট ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন সুবিধা পাবেন। এটি শুধু যানজট ও দূষণ হ্রাসেই অবদান রাখবে না, বরং নাগরিক জীবনের মান উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত