ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশাপাশি এবার রেলপথ অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। ফলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়কপথে ২১ জেলার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া ভাঙ্গার ওপর দিয়ে ঢাকার সঙ্গে রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভাঙ্গায় দুদিনের জন্য অবরোধ স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন বহালের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিন ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন সর্বাত্মক হরতাল, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ পালিত হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
এছাড়া ভাঙ্গার ওপর দিয়ে ঢাকার সঙ্গে রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভাঙ্গায় দুদিনের জন্য অবরোধ স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন বহালের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিন ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন সর্বাত্মক হরতাল, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ পালিত হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
ফরিদপুর, ভাঙ্গা ও শিবচর (মাদারীপুর) : পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এ ছাড়া সকাল থেকে ভাঙ্গার ওপর দিয়ে ঢাকার সঙ্গে রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রেলপথ অবরোধ শুরু হয়। ফলে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর জাহানাবাদ এক্সপ্রেস মুকসুদপুর রেল স্টেশনে থেমে থাকে। ঢাকা-খুলনা রেলপথের ভাঙ্গা উপজেলার কৈডুবি রেলগেটে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। বেনাপোলগামী রূপসী বাংলা ট্রেনটি এ পথে আসা বন্ধ করা হয়েছে।
ভাঙ্গার কৈডুবি রেলের গেটকিপার মুস্তাফিজুর রহমান জানান, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে গাছের গুঁড়ি ফেলে রেলগেট বন্ধ করে রেখেছেন স্থানীয়রা। ফলে সকাল থেকে এ পথে কোনো ট্রেন চলাচল করেনি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. রোকিবুজ্জামান বলেন, সকাল ৭টা থেকে অবরোধ চলছে। যান চলাচল বন্ধ হয়ে থাকায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় বরিশাল, মাদারীপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে বিকল্প পথ হিসাবে শিবচর-মাদারীপুর আঞ্চলিক সড়ক বেছে নিচ্ছে দূরপাল্লার পরিবহণসহ লোকাল বাস ও অন্যান্য যানবাহন। ফলে আঞ্চলিক সড়কে সৃষ্টি হয়েছে গাড়ির তীব্র জট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কেই আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের।
এদিকে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নে স্থানীয়রা শুক্র ও শনিবার দুদিন অবরোধ সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করেছেন। দাবি না মানলে রোববার থেকে লাগাতার অবরোধের ডাক দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আলগী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিদ্দিক মিয়া এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বাগেরহাট, মোংলা ও চিতলমারী : বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন বহালের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সর্বাত্মক হরতাল, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ পালিত হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতসহ সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা এ হরতাল, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধে মোংলা-খুলনা, মোংলা-ঢাকা, খুলনা-বরিশাল-পটুয়াখালী, খুলনা-কাটাখালী-ঢাকা, বাগেরহাট-মাওয়া-ঢাকা ও শরণখোলা-সাইনবোর্ড-ঢাকা এ ছয়টি মহাসড়কের ওপর দিয়ে চলাচলকারী ৪৮টি দূরপাল্লাসহ আন্তঃজেলা রুটে দ্বিতীয় দিনেও সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
এসব মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের অন্তত শতাধিক পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। বুধবার গভীর রাতে বরিশাল পিরোজপুর থেকে অসংখ্য ট্রাক বাগেরহাটের পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সেগুলোকে আটকে দেওয়া হয়। ফলে খুলনা বরিশাল মহাসড়কের দড়াটানা টোল প্লাজার সামনে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। মোংলা সমুদ্রবন্দরের আমদানি-রপ্তানি পণ্য সড়কপথে পরিবহণ করা যায়নি। বাগেরহাট বিসিক, মোংলা ইপিজেড, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ জেলার সব শিল্পাঞ্চলের কল-কারখানায় কোনো কাজ হয়নি।
এসব মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের অন্তত শতাধিক পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। বুধবার গভীর রাতে বরিশাল পিরোজপুর থেকে অসংখ্য ট্রাক বাগেরহাটের পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সেগুলোকে আটকে দেওয়া হয়। ফলে খুলনা বরিশাল মহাসড়কের দড়াটানা টোল প্লাজার সামনে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। মোংলা সমুদ্রবন্দরের আমদানি-রপ্তানি পণ্য সড়কপথে পরিবহণ করা যায়নি। বাগেরহাট বিসিক, মোংলা ইপিজেড, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ জেলার সব শিল্পাঞ্চলের কল-কারখানায় কোনো কাজ হয়নি।