রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবীতে মানববন্ধন

ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবীতে মানববন্ধন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি::



নেত্রকোনার বারহাট্রায় ধর্ষণ মামলার আসামি আকাশ ইসলাম প্রান্ত (২৩) কে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বাউসি বাজারের ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এলাকাবাসী ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। 

ধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রী ইতি আক্তার উপজেলার দত্তখিলা গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার মেয়ে। সে রামগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত আকাশ হোসেন প্রান্তর ওই স্কুলের পাশে সুসংঢহর গ্রামের মৃত লিটন মিয়ার ছেলে। 

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, ইতি আক্তারের মা নাছিমা আক্তার, বড় বোন শেফু আক্তার, বড় ভাই রাহুল আমীন, ছোট ভাই মোস্তাকিম, রামগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ, প্রাইভেট শিক্ষক এমদাদুল হক খোকন, জেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলপনা বেগম, বারহাট্রা নারী প্রগতি সংঘের ম্যানেজার সুরনজিৎ, গত বছর বকাটের দায়ের কুপে নিহত মুক্তি রাণী বর্মণের ছোট বোন রূপা রাণী বর্মণ সহ এলাকাবাসী অনেকেই ।

বক্তারা বলেন, ইতি আক্তারের ধর্ষণকারী প্রান্তকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবী করেন। যাতে পরবর্তীতে আবার এমন ঘটনা পুনরায় না ঘটে তাই সবাই শাস্তির দাবি জানায়।

ইতি আক্তারের বড় ভাই রাহুল আমিন বলেন, আমার বোনের ভিডিও জবানবন্দী থাকা সত্ত্বেও পুলিশ এখনো কেন আসামী প্রান্তকে গ্রেফতার করছে না। এছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যমে আসামির লোকজন আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছে পাশাপাশি টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছে। আমরা পরিবারের সকলেই চাই আসামি প্রান্ত সর্বোচ্চ শাস্তির ফাঁসি হোক।

পরবর্তীতে মানবন্ধন শেষে বাউসি বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে।

মামলার এজহার ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই দুপুরে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইতি আক্তার প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় জোর করে প্রান্তরের বাড়ির পাশের বাড়ির আনন্দ মিয়ার খালি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রান্তর। পরে ওইদিন বিকালে বাড়ি ফিরে বাসায় থাকা কীটনাশক পান করে ইতি। পরিবারের লোকজন বিষ পানের বিষয়টি বুঝতে পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠানো হয়। ২২ জুলাই অবস্থায় ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে। এ ঘটনায় ২৩ জুলাই স্কুলছাত্রী ভাই রাহুল আমিন বারহাট্রা থানায় মামলা দায়ের করেন। 

উল্লেখ্য ঢাকায় নেওয়ার পথে এম্বুলেন্সে থাকাকালীন ইতি আক্তার তাঁর ভাইয়ের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওর মাধ্যমে প্রান্তর নাম উল্লেখ্য ঘটনার কথা বলেন।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান (ডিএসবি) জানান, স্কুলছাত্রী ইতি আক্তার ধর্ষণ মামলার আসামীকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে। 

খুঁজুন