পেঁয়াজের
বাজারে নাটকীয় সপ্তাহ পার করে দাম কিছুটা কমে এলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায়
ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে দ্বিগুণ। একই চিত্র আলুর বাজারেও। নতুন আলু এবার পুরান
আলুর দাম কমাতে পারেনি। এই সবজিটিও কিনতে হচ্ছে গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায়
দ্বিগুণ দরে। বছর জুড়ে রান্নার দুটি উপকরণের পাশাপাশি আলোচনায় থাকা ডিমের বাজার
কিছুটা শীতল হওয়ার পর আবার গরম হচ্ছে। চড়তে শুরু করেছে মুরগির দরও। গতকাল শুক্রবার
রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কৃষিমার্কেট, কারওয়ানবাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া
গেছে।
ভারত রপ্তানি বন্ধ করার খবরে পেঁয়াজের দর হুট করে লাফ দিয়ে দুইশ এমনটি
আড়াইশ টাকা ছুঁয়ে ফেলার পর ভোক্তারা কেনাকাটা কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি এবং ‘মুড়িকাটা’ নামে আগাম পেঁয়াজ চলে আসার পর
দাম কমেছে। প্রতি কেজি এখন প্রকার ও মানভেদে পাওয়া যাচ্ছে ৯০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে।
তবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় পেঁয়াজ মিলেছে ঢাকায়।
এই দর আবার মাসের প্রথম সপ্তাহের তুলনায় ছিল কেজিতে ১০ টাকার মতো বেশি। আলুর ক্ষেত্রেও
একই কথা প্রযোজ্য।
দাম বেঁধে দেয়া, ভারত থেকে আমদানি, নতুন আলু চলে আসা কোনো কিছুতেই
কাজ হচ্ছে না। বছরের শেষে পুরান আলুর দাম ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ক্রেতারা এর আগে কখনো
দেখেনি। নতুন আলুর দাম বরং তার চেয়ে কম, পাওয়া যাচ্ছে ৫০ টাকায়। বছরের এই সময়ে
নতুন আলুর কেজি ৫০ টাকাও ক্রেতাদের কাছে নতুন। বিগত এক বছর আগে দেখা গেছে, গত বছর
রান্নার উপকরণটির দাম ছিল ২৫ টাকা। নতুন আলু আসার পর সাধারণত পুরান আলুর দাম পড়ে
যায়। কিন্তু এ বছরের আলুর বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন। ভারত থেকে আমদানির যে
অনুমতি (আইপি) কৃষি মন্ত্রণালয় দিয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হয়েছে শুক্রবার। নতুন করে
আর আইপি ইস্যু করার পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ
কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূইয়া।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের আল্লাহর দান ভাণ্ডারের দোকানি এম এ হোসেন
গণমাধ্যমকে বলেন, দেশি আলু এখনো পরিপক্ক হয়নি, বাজারে আসতে দেরি হবে। তাই ভারতের
উপর আরও কয়েকদিন নির্ভর থাকতে হবে। ভারত থেকে আলু আমদানির সময় বাড়াতে হবে। তা না
হলে চাহিদার তুলনায় আলুর সংকট দেখা দেবে। দাম বাড়বে।
নতুন আলু-পেঁয়াজের দর এবার দ্বিগুণ, এই
পাইকারি দোকানে দেশি নতুন আলু ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা ও পুরান আলু ৪৮ থেকে ৪৯ টাকা কেজি
দরে, রসুন বিক্রি করছেন ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে, আদা ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা আর
নতুন দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। একই বাজারের আরেক
পাইকারি দোকান শরীফ এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা মনির মিয়া বলেন, গত পরশুদিন দেশি
পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ১১০ টাকায়, আজ ৯০ টাকায় নেমেছে। দাম আরও কমবে। গত বছর এই
সময়টাতে দাম ৪০ টাকা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, দেশি নতুন পেঁয়াজ আসা শুরু করছে। তবে
আলু আমদানির সময় বাড়াতে হবে। একই বাজারের খুচরা দোকানে নতুন আলুর দাম দেখা গেছে ৬০
আর পুরান আলু ৬০ টাকা।
দেশি নতুন পেঁয়াজ খুচরায় বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা, পুরান ১৫০
টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ১৪০ টাকা। অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষিকা আলু কিনতে এসে দাম দেখে
হতাশা প্রকাশ করেছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, নাভিশ্বাস অবস্থায় আছি। সবকিছু বেশি
দামেই কিনতে বাধ্য হচ্ছি। না খেয়ে তো মরে যেতে পারি না। উচ্চ মূল্যের কারণে খাওয়া
কমিয়েছি। গাড়ি চালক শিশির হ্রদয় বলেন, সংবাদে শুনি দাম কমেছে, কিন্তু
বাজারে দাম কম পাই না। খুচরা বিক্রেতারা তাদের ইচ্ছানুযায়ী দাম রাখেন।
কারওয়ানবাজারের আলু, পেঁয়াজ ও রসুনের খুচরা দোকানি আব্দুল সামাদ বলেন, পেঁয়াজ
বিক্রি করছি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। এটা আমাদের নিজেদের খারাপ লাগে। আমাদেরও
তো অন্য সবকিছু কিনে খেতে হয়। সবকিছুর দাম বেশি।
আশানুরূপ কমেনি সবজির দাম, শীত পড়লে সবজির দাম যতটা কমে আসবে বলে
ধারণা করা হচ্ছিল, দাম ততটা কমেনি। নতুন টমেটো ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বড় সাইজের ফুল
কপি ও বাধা কপি ৪০ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়েছে ক্রেতাদের। বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা,
সিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং বিচিওয়ালা সিম ১০০ টাকা কেজি দরে দরে বিক্রি হয়েছে। গত
বছরের এই সময়ে ঢাকায় সিম পাওয়া গেছে ৩০ টাকা কেজিতেও। কারওয়ানবাজারের খুচরা
বিক্রেতা জাকারিয়া হোসেন জানান, গতকালের তুলনায় আজ বাজার একটু গরম। সাপ্তাহিক
বাজার হওয়ায় চাহিদাও বেশি।
দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে আলু–পেঁয়াজ
দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে আলু–পেঁয়াজ
পেঁয়াজের বাজারে নাটকীয় সপ্তাহ পার করে দাম কিছুটা কমে এলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে দ্বিগুণ। একই চিত্র আলুর বাজারেও। নতুন আলু এবার পুরান আলুর দাম কমাতে পারেনি। এই সবজিটিও কিনতে হচ্ছে গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় দ্বিগুণ দরে। বছর জুড়ে রান্নার দুটি উপকরণের পাশাপাশি আলোচনায় থাকা ডিমের বাজার কিছুটা শীতল হওয়ার পর আবার গরম হচ্ছে। চড়তে শুরু করেছে মুরগির দরও। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কৃষিমার্কেট, কারওয়ানবাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।ভারত রপ্তানি বন্ধ করার খবরে পেঁয়াজের দর হুট করে লাফ দিয়ে দুইশ এমনটি আড়াইশ টাকা ছুঁয়ে ফেলার পর ভোক্তারা কেনাকাটা কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি এবং ‘মুড়িকাটা’ নামে আগাম পেঁয়াজ চলে আসার পর দাম কমেছে। প্রতি কেজি এখন প্রকার ও মানভেদে পাওয়া যাচ্ছে ৯০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। তবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় পেঁয়াজ মিলেছে ঢাকায়। এই দর আবার মাসের প্রথম সপ্তাহের তুলনায় ছিল কেজিতে ১০ টাকার মতো বেশি। আলুর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। দাম বেঁধে দেয়া, ভারত থেকে আমদানি, নতুন আলু চলে আসা কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। বছরের শেষে পুরান আলুর দাম ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ক্রেতারা এর আগে কখনো দেখেনি। নতুন আলুর দাম বরং তার চেয়ে কম, পাওয়া যাচ্ছে ৫০ টাকায়। বছরের এই সময়ে নতুন আলুর কেজি ৫০ টাকাও ক্রেতাদের কাছে নতুন। বিগত এক বছর আগে দেখা গেছে,
গত বছর রান্নার উপকরণটির দাম ছিল ২৫ টাকা। নতুন আলু আসার পর সাধারণত পুরান আলুর দাম পড়ে যায়। কিন্তু এ বছরের আলুর বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন। ভারত থেকে আমদানির যে অনুমতি (আইপি) কৃষি মন্ত্রণালয় দিয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হয়েছে শুক্রবার। নতুন করে আর আইপি ইস্যু করার পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূইয়া।মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের আল্লাহর দান ভাণ্ডারের দোকানি এম এ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, দেশি আলু এখনো পরিপক্ক হয়নি, বাজারে আসতে দেরি হবে। তাই ভারতের উপর আরও কয়েকদিন নির্ভর থাকতে হবে। ভারত থেকে আলু আমদানির সময় বাড়াতে হবে। তা না হলে চাহিদার তুলনায় আলুর সংকট দেখা দেবে। দাম বাড়বে।নতুন আলু-পেঁয়াজের দর এবার দ্বিগুণ, এই পাইকারি দোকানে দেশি নতুন আলু ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা ও পুরান আলু ৪৮ থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে, রসুন বিক্রি করছেন ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে, আদা ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা আর নতুন দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। একই বাজারের আরেক পাইকারি দোকান শরীফ এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা মনির মিয়া বলেন, গত পরশুদিন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ১১০ টাকায়, আজ ৯০ টাকায় নেমেছে। দাম আরও কমবে। গত বছর এই সময়টাতে দাম ৪০ টাকা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, দেশি নতুন পেঁয়াজ আসা শুরু করছে। তবে আলু আমদানির সময় বাড়াতে হবে। একই বাজারের খুচরা দোকানে নতুন আলুর দাম দেখা গেছে ৬০
আর পুরান আলু ৬০ টাকা। দেশি নতুন পেঁয়াজ খুচরায় বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা, পুরান ১৫০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ১৪০ টাকা। অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষিকা আলু কিনতে এসে দাম দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, নাভিশ্বাস অবস্থায় আছি। সবকিছু বেশি দামেই কিনতে বাধ্য হচ্ছি। না খেয়ে তো মরে যেতে পারি না। উচ্চ মূল্যের কারণে খাওয়া কমিয়েছি। গাড়ি চালক শিশির হ্রদয় বলেন, সংবাদে শুনি দাম কমেছে, কিন্তু বাজারে দাম কম পাই না। খুচরা বিক্রেতারা তাদের ইচ্ছানুযায়ী দাম রাখেন। কারওয়ানবাজারের আলু, পেঁয়াজ ও রসুনের খুচরা দোকানি আব্দুল সামাদ বলেন, পেঁয়াজ বিক্রি করছি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। এটা আমাদের নিজেদের খারাপ লাগে। আমাদেরও তো অন্য সবকিছু কিনে খেতে হয়। সবকিছুর দাম বেশি।আশানুরূপ কমেনি সবজির দাম, শীত পড়লে সবজির দাম যতটা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, দাম ততটা কমেনি। নতুন টমেটো ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বড় সাইজের ফুল কপি ও বাধা কপি ৪০ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়েছে ক্রেতাদের। বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, সিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং বিচিওয়ালা সিম ১০০ টাকা কেজি দরে দরে বিক্রি হয়েছে। গত বছরের এই সময়ে ঢাকায় সিম পাওয়া গেছে ৩০ টাকা কেজিতেও। কারওয়ানবাজারের খুচরা বিক্রেতা জাকারিয়া হোসেন জানান, গতকালের তুলনায় আজ বাজার একটু গরম। সাপ্তাহিক বাজার হওয়ায় চাহিদাও বেশি।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত