বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিটউট ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সিস্টেমের অংশ হিসেবে দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে জাতীয় চাহিদার নিরিক্ষে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের রূপকল্পকে সামনে রেখে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। লাভজনক, টেকসই এবং পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন, উন্নয়ন এবং ব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তা তথা আমিষের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
আবহাওয়া ভেদে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীবিকা নির্বাহের ধরণ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। আর তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অঞ্চলভিত্তিক প্রাণিসম্পদ সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধান উদ্ভাবনের লক্ষ্যে বিএলআরআই এর আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বৃহত্তর রংপুর বিভাগ ও এই অঞ্চলের পোল্ট্রি খামারি, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ছাত্র, শিক্ষক ও গবেষকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এবং এই অঞ্চেলের প্রাণিসম্পদ গবেষণা কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে সৈয়দপুর, নীলফামারী আঞ্চলিক কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে।
সৈয়দপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রটি জেলা শহর নীলফামারী থেকে ২৩.৭ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রায় ০৮.০০ একর জায়গার উপরে স্থাপিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ইনস্টিটিউটের চলমান “পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ” শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে বিগত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর; প্রধান ফটক; অফিস কাম ল্যাবরেটরি ভবন; আরসিসি কার্পেটিং রোড; পোল্ট্রির জন্য ব্রুডার, গ্রোয়ার ও লেয়ার শেড; বায়োগ্যাস প্লান্ট; ১৫০ কেভিএ সাবস্টেশন ও সোলার সিস্টেম ইত্যাদিসহ সহায়ক বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
নতুনভাবে স্থাপিত এই আঞ্চলিক কেন্দ্রটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে বিধায় এখানও এখানে রাজস্ব খাতের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ/ ন্যস্ত করা হয়নি। তবে কেন্দ্রটির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য “পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পিএইচডি এবং এমএস ফেলো গবেষকগণ এখানে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিয়োজিত সহায়ক জনবলও এখানে সংযুক্ত রয়েছে।
বর্তমানে আঞ্চলিক কেন্দ্রটিতে প্রকল্পের আওতায় বিএলাআরআই এর ৪ টি উন্নত বিদেশি পোল্ট্রির জাত, যথা- হোয়াইট লেগহর্ন, রোড আইল্যান্ড রেড, হোয়াইট রক ও ব্যারেড প্লাইমাউথ রক এবং রাজহাঁসের ২ টি ভ্যারাইটি, যথা- হোয়াইট এবং গ্রে ইত্যাদিসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ১৯০০ বার্ড সংরক্ষিত আছে এবং উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম চলমান আছে।
আঞ্চলিক কেন্দ্রটির শুরু থেকেই পোল্ট্রি জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, খামারি প্রশিক্ষণ, বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং তা দূরীকরণের জন্য খামারিদের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হয়ে আসছে। এছাড়াও পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় সর্বমোট ১৮ টি ব্যাচে প্রায় ৩৫০০ জন খামারি/উদ্যোক্তা’কে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও আঞ্চলিক কেন্দ্রে বর্তমানে চলমান গবেষণা কার্যক্রমসমূহ হলো-
১) উন্নত বিদেশি জাতের ৪ টি পিউর লাইন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং এসব জাতের সাথে সংকরায়নের মাধ্যমে অধিক মাংস ও ডিম উৎপাদনশীল জাত উদ্ভাবন;
২) রাজহাঁস সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং ফরেজ (ঘাস জাতীয় খাদ্য উপাদান) ব্যবহারের মাধ্যমে দানাদার খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে রাজহাঁস উৎপাদন প্যাকেজ উদ্ভাবন;
৩) কমিউনিটিভিত্তিক পোল্ট্রি খামারিদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিএলআরআই উদ্ভাবিত বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণ;
৪) শাক-সবজি সমৃদ্ধ মুরগির মাংসের কাটলেট ও কাবাব প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এসব পণ্যের পুষ্টিমান ও মেয়াদকাল মূল্যায়ন;
৫) পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রমগুলোর মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক ভ্যালিডেশন কার্যক্রম ইত্যাদি।
পোল্ট্রির জন্য স্থাপিত একটি বিশেষায়িত আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে পোল্ট্রির বিভিন্ন প্রজাতিসমূহ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, জাত উন্নয়ন এবং অধিক মাংস ও ডিম উৎপাদনশীল স্ট্রেইন উদ্ভাবনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কেন্দ্রটি এগিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের খামারিদের প্রাণিসম্পদ পালনের ক্ষেত্রে মৌলিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং উদ্ভূত সমস্যা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা লক্ষ্যে গবেষণাগারসহ প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সমন্বিত গবেষণার মাধ্যমে এই অঞ্চলের খামারিদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো এবং ভবিষ্যত প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পোল্ট্রির নতুন নতুন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
এক নজরে বিএলআরআই আঞ্চলিক কেন্দ্র, সৈয়দপুর, নীলফামারী
এক নজরে বিএলআরআই আঞ্চলিক কেন্দ্র, সৈয়দপুর, নীলফামারী
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিটউট ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সিস্টেমের অংশ হিসেবে দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে জাতীয় চাহিদার নিরিক্ষে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের রূপকল্পকে সামনে রেখে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। লাভজনক, টেকসই এবং পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন, উন্নয়ন এবং ব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তা তথা আমিষের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।আবহাওয়া ভেদে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীবিকা নির্বাহের ধরণ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। আর তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অঞ্চলভিত্তিক প্রাণিসম্পদ সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধান উদ্ভাবনের লক্ষ্যে বিএলআরআই এর আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বৃহত্তর রংপুর বিভাগ ও এই অঞ্চলের পোল্ট্রি খামারি, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ছাত্র, শিক্ষক ও গবেষকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এবং এই অঞ্চেলের প্রাণিসম্পদ গবেষণা কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে সৈয়দপুর, নীলফামারী আঞ্চলিক কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে।সৈয়দপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রটি জেলা শহর নীলফামারী থেকে ২৩.৭ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রায় ০৮.০০ একর জায়গার উপরে স্থাপিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ইনস্টিটিউটের চলমান “পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ” শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে বিগত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর; প্রধান ফটক; অফিস কাম ল্যাবরেটরি ভবন;
আরসিসি কার্পেটিং রোড; পোল্ট্রির জন্য ব্রুডার, গ্রোয়ার ও লেয়ার শেড; বায়োগ্যাস প্লান্ট; ১৫০ কেভিএ সাবস্টেশন ও সোলার সিস্টেম ইত্যাদিসহ সহায়ক বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।নতুনভাবে স্থাপিত এই আঞ্চলিক কেন্দ্রটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে বিধায় এখানও এখানে রাজস্ব খাতের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ/ ন্যস্ত করা হয়নি। তবে কেন্দ্রটির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য “পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পিএইচডি এবং এমএস ফেলো গবেষকগণ এখানে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিয়োজিত সহায়ক জনবলও এখানে সংযুক্ত রয়েছে।বর্তমানে আঞ্চলিক কেন্দ্রটিতে প্রকল্পের আওতায় বিএলাআরআই এর ৪ টি উন্নত বিদেশি পোল্ট্রির জাত, যথা- হোয়াইট লেগহর্ন, রোড আইল্যান্ড রেড, হোয়াইট রক ও ব্যারেড প্লাইমাউথ রক এবং রাজহাঁসের ২ টি ভ্যারাইটি, যথা- হোয়াইট এবং গ্রে ইত্যাদিসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ১৯০০ বার্ড সংরক্ষিত আছে এবং উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম চলমান আছে। আঞ্চলিক কেন্দ্রটির শুরু থেকেই পোল্ট্রি জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, খামারি প্রশিক্ষণ, বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং তা দূরীকরণের জন্য খামারিদের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হয়ে আসছে। এছাড়াও পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় সর্বমোট ১৮ টি ব্যাচে প্রায় ৩৫০০ জন খামারি/উদ্যোক্তা’কে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও আঞ্চলিক কেন্দ্রে বর্তমানে চলমান গবেষণা
কার্যক্রমসমূহ হলো-১) উন্নত বিদেশি জাতের ৪ টি পিউর লাইন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং এসব জাতের সাথে সংকরায়নের মাধ্যমে অধিক মাংস ও ডিম উৎপাদনশীল জাত উদ্ভাবন;২) রাজহাঁস সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং ফরেজ (ঘাস জাতীয় খাদ্য উপাদান) ব্যবহারের মাধ্যমে দানাদার খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে রাজহাঁস উৎপাদন প্যাকেজ উদ্ভাবন;৩) কমিউনিটিভিত্তিক পোল্ট্রি খামারিদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিএলআরআই উদ্ভাবিত বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণ;৪) শাক-সবজি সমৃদ্ধ মুরগির মাংসের কাটলেট ও কাবাব প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এসব পণ্যের পুষ্টিমান ও মেয়াদকাল মূল্যায়ন;৫) পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রমগুলোর মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক ভ্যালিডেশন কার্যক্রম ইত্যাদি।পোল্ট্রির জন্য স্থাপিত একটি বিশেষায়িত আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে পোল্ট্রির বিভিন্ন প্রজাতিসমূহ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, জাত উন্নয়ন এবং অধিক মাংস ও ডিম উৎপাদনশীল স্ট্রেইন উদ্ভাবনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কেন্দ্রটি এগিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের খামারিদের প্রাণিসম্পদ পালনের ক্ষেত্রে মৌলিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং উদ্ভূত সমস্যা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা লক্ষ্যে গবেষণাগারসহ প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সমন্বিত গবেষণার মাধ্যমে এই অঞ্চলের খামারিদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো এবং ভবিষ্যত প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পোল্ট্রির নতুন নতুন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত