শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অর্থ ও বাণিজ্য একীভূত হওয়ার পথে ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংক

একীভূত হওয়ার পথে ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংক

একীভূত হওয়ার পথে থাকা ইসলামি ধারার পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার একটি পথনকশা তৈরি করা হয়েছে। যে পথনকশা অনুসরণ করে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে। এ জন্য রাজধানীর মতিঝিলে সেনাকল্যাণ ভবনে একটি প্রকল্প কার্যালয়ও চালু করা হবে। সেই প্রকল্প কার্যালয় থেকেই পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। প্রক্রিয়া শেষে এই পাঁচ ব্যাংক মিলে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’ নামে নতুন একটি সরকারি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পথনকশা অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুতে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক করার প্রস্তাবটি সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করা হতে পারে। উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারপর ধাপে ধাপে একীভূতকরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে সেগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। তাঁরা সবাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

 ব্যাংকগুলো থেকে নানা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণের নামে আমানতকারীদের অর্থ তুলে নেওয়া হয়, যা এখন আর আদায় হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব অর্থের বড় অংশই বিদেশে পাচার হয়ে গেছে।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের স্বার্থ সবার আগে সুরক্ষিত করতে হবে। ব্যাংকগুলোর অনেকে একীভূত হতে চায় না। তাই এ নিয়ে কেউ কেউ আদালতেও যেতে পারে। তাই সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা মাথায় রেখে সাবধানে এগোতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে। যাতে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা হয় এবং ব্যাংক খাতে নেতিবাচক কোনো প্রভাব না পড়ে। এমনকি মাঝপথে প্রক্রিয়াটি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিকেও বিবেচনায় রাখতে হবে।

যেভাবে সম্পন্ন হবে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ ব্যাংক–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক পাঁচটির দায়, সম্পদ ও জনবল এক করা হবে। পরে তা অধিগ্রহণ করবে ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক। নতুন এই ব্যাংকের মূলধনের বড় অংশ জোগান দেবে সরকার। তাই এটির পরিচালনা পর্ষদে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ব্যাংক খাতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের রাখা হবে। নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা। নতুন ব্যাংকের প্রকল্প কার্যালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষ কর্মকর্তাদেরও পদায়ন করা হবে। তার আগে পাঁচ ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রশাসক হবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালক পদের কর্মকর্তা। প্রশাসক ব্যাংকগুলোর এমডির দায়িত্ব ও দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। প্রশাসক নিয়োগের পর বাতিল করা হবে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদ।

ব্যাংক একীভূত উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রশাসক দল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মিলে পাঁচ ব্যাংকের আমানত, ঋণ ও প্রযুক্তি বিভাগ একীভূত করবেন। পাশাপাশি জনবল পর্যালোচনা করে ব্যাংকগুলোর মানবসম্পদ বিভাগ একীভূত করা হবে। এরপর তা অধিগ্রহণ করবে ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হলে ধীরে ধীরে পাঁচ ব্যাংকের নাম ও সাইনবোর্ড পরিবর্তন করা হবে।

খুঁজুন