উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের বাইরে রেখে এনআরবিসি ব্যাংকে চলছে লুটপাট, ব্যাংকের টাকায় চেয়ারম্যান মো: আলী হোসেন প্রধানিয়া ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: তৌহিদুল আলম খানের বিলাসী জীবনযাপন :
এনআরবিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের বাইরে রেখে চেয়ারম্যান মো: আলী হোসেন প্রধানিয়া ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: তৌহিদুল আলম খান মিলে এনআরবিসি ব্যাংককে গ্রাস করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কাছে ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ব্যাংকের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যতিরেকে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি বাস্ত হয়ে পড়েছেন।
এসবের কিছুমাত্র নমুনা নিচে তুলে ধরা হলঃ
১। প্রতি বোর্ড মিটিং এ সকল বোর্ড মেম্বার দের মাথা পিছু দশ হাজার টাকা পাবার জন্য প্রায় প্রতি মাসেই একাধিক বোর্ড মিটিং এর আয়োজন হয়। প্রয়োজন থাকুক বা নাই থাকুক বোর্ড মিটিং চলতেই থাকে। যে মিটিং এ ব্যবসা বাণিজ্য এর তুলনায় পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের বের করে দেয়া এবং বিভিন্ন পদায়ন আর নতুন কর্মকর্তা কর্মচারী (বর্তমান বোর্ড মেম্বার এবং এমডি এর পছন্দ মত) নিয়োগ দেয়াই মূল আলোচ্য বিষয়। এর সঙ্গে যোগ হয় প্রতি বোর্ড মিটিং এ আকাশচুম্বী খাবার বিল। জানা যায়, প্রায় প্রতি বোর্ড মিটিং এ গড়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা খাবার বিল পরিশোধ করতে হয় এন আর বি সি ব্যাংককে। আসলে, এক একটি বোর্ড মিটিং এ খরচ হয় প্রায় ৭০থেকে ৮০ হাজার টাকা। যাহা একেবারেই অযাচিত এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, এত ঘন ঘন বোর্ড মিটিং হয় অথচ ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ছে না আগের মত। যাহা নিজে তদারকি ও ব্যবস্থা করেন এনআরবিসি ব্যাংক এর এমডি তৌহিদুল আলম খান। আর এসবের মদদ দেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া নিজে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ গত এক বছরে বোর্ড মিটিং করেছেন প্রায় ৩৩ টি। যার পেছনে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। যার ফলাফল যে শূন্য তা গত দুই মাসের চিত্র দেখলেই স্পষ্ট হয়। কেননা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ব্যাংক থেকে ডিপোজিট চলে গেছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা এবং ঋণ কমেছে প্রায় এক হাজার সাতশো কোটি টাকা।
২। একই রকম ব্যাপার ঘটে চলছে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজে। সিকিউরিটিজের বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় পর্ষদের আরেক স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব আবুল বশরকে। যিনি প্রতি বোর্ড মিটিং এ নেন ত্রিশ হাজার টাকা করে। যাহা ০৫ই আগস্ট এর পরে নতুন বোর্ড আসার পরে নতুন বোর্ড মেম্বারগন তাদের মত করে ধার্য করে নেন। এখানেও ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ছে না আগের মত, শেয়ার এর দাম নিম্ন মুখী অথচ বোর্ড মেম্বারদের মিটিং এর মাসোহারা আর খাবার বিল পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের। এই বিষয় নিয়ে কথা বলার দায়ে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটি লিমিটেডের সিইও কে করা হয় বরখাস্ত। এখন চলছে বোর্ড মেম্বারগনের পছন্দ মত নিয়োগ প্রক্রিয়া। মজার ব্যাপার এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও নিয়োগ বাণিজ্যের দর কষাকষি চলছে। এই নিয়োগ বাণিজ্য চালাচ্ছেন এনআরবিসি ব্যাংকের এমডি তৌহিদুল আলম খান ও চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া।
৩। জোনাল বা অঞ্চল ভিত্তিক মিটিং এর নামে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে মিটিং করার নামে ভোগবিলাস ও খাবার বিল বাবদ প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয় এনআরবিসি ব্যাংককে (অন্যান্য খরচ বাদে)। ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ছে না কিছুই। মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা জোনাল বা অঞ্চল ভিত্তিক মিটিং এ শুধু বকাবাজিই শুনেন। দিতে পারেন না স্বাধীন কোন মতামত। আসলে এই জোনাল বা অঞ্চল ভিত্তিক মিটিং এনআরবিসি ব্যাংকের এমডি তৌহিদুল আলম খান ও চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর ভোগবিলাস এর একটি কৌশল মাত্র।
৪। নতুন বোর্ড গঠনের পর থেকেই বোর্ডে আলোচ্য বিষয় থাকুক বা নাই থাকুক প্রতি মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক বোর্ড মিটিং দেয়ার চেষ্টা করা হয় যাতে বোর্ড মেম্বাররাদের প্রত্যেকের জন্য ভাতা হিসেবে ১০,০০০ টাকা ঠিক ভাবে পেতে পারেন।
৫। শুধু বোর্ড মিটিং ই নয়, আলোচ্য বিষয় থাকুক বা নাই থাকুক প্রতি মাসে রিস্ক কমিটি এবং অডিট কমিটি করেই যাচ্ছেন তাদের মাসোহারা বাড়িয়ে নিতে। মিটিং এর ভাতা ছাড়াও প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতাও নিচ্ছেন বোর্ড মেম্বাররা। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে একেকজন স্বতন্ত্র পরিচালকের পেছনে ব্যাংকের খরচ হচ্ছে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। এসব মিটিং এর একটাই উদ্দেশ্য থাকে কিভাবে মিথ্যা ও হয়রানি মুলক অডিট রিপোর্ট দিয়ে পুরাতন কর্মীদের ব্যাংক থেকে বের করে দিতে পারেন।
৬। ভোগ বিলাসিতার আর এক চরম উদাহরন প্রায় আট লক্ষ টাকা খরচ করে চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া তার বাক্তিগত বাবহারের জন্য বাথরুম তৈরি করেন। যাহা একেবারেই অযাচিত ও অপ্রয়োজনীয় খরচ। একই সঙ্গে উদ্যোগ নেন তার নিজের জন্য প্রায় দের কোটি টাকা দামের গাড়ি কিনতে। ব্যাংকের ব্যবসা বাণিজ্যের দিকে নজর না দিয়ে নিজেদের ভোগ বিলাসিতার জন্য ব্যাংকের টাকা ব্যয় নাড়া দেয় ব্যাংকের প্রতিটি কর্মকর্তা করমচারিদের। আর এসবের মদদ দেন এনআরবিসি ব্যাংকের বর্তমান এমডি তৌহিদুল আলম খান ও চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া। তুলনা করলে দেখা যায় যে, পূর্বের চেয়ারম্যানের জন্য ছিলনা কোন বাক্তিগত বাথরুম, এমন কি পূর্বের চেয়ারম্যানের জন্য ছিলনা কোন ব্যাংকের নিরধারিত গাড়ি, পূর্বের চেয়ারম্যান তার নিজের গাড়ি ব্যাবহার করতেন।
৭। বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিটি গার্ড নিয়োগে আগের ১২ হাজারের স্থলে ২৮ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি কমিশন দেওয়া হচ্ছে ৬ হাজার টাকা। খরচ কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমান বোর্ডকে দায়িত্ব দিলেও তারা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে খরচ আরও বাড়িয়েছে। উল্লেখ থাকে যে, আগে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে গার্ড নিয়োগ করা হতো ১২ হাজার টাকায়। যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গার্ড নেওয়া হতো ওই প্রতিষ্ঠান কমিশন হিসেবে পেতো ১ হাজার টাকা।
৮। অবৈধভাবে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত এনআরবিসি’র বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করার জন্য কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে গত বছর খরচ করেন ১২ বার লক্ষ টাকা। অথচ পূর্বের এক একটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এ খরচ হত মাত্র তিন থেকে চার লক্ষ টাকা। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্বৈরশাসকের কায়দায় ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে এজিএমের এজেন্ডা থেকে পরিচালক নির্বাচনের এজেন্ডাটি (to elect/re-elect directors) সুকৌশলে বাদ দেয়া হয়। এছাড়াও স্বতন্ত্র পরিচালক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও যথাযথ বিধিমালা মানেনি এই বোর্ড। যোগ্যতাসম্পন্ন প্রকৃত স্পন্সর শেয়ারধারীদের বাইরে রেখে নিজেদের পদ স্থায়ী করতে স্বতন্ত্ৰ পরিচালক নিয়োগর ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নোটিফিকেশন দিয়ে এজিএমে স্বতন্ত্র পরিচালকদের নাম এজিএমে এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে পাশ করার মাধমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নেয়ার কথা থাকলেও সেই এজেন্ডাটিও বাই-পাস করা হয়েছে । এতটুকু সৎসাহস তারা না দেখিয়ে এজিএমে ২০২৪ সালের ফিনান্সিয়াল স্টেটমেন্ট পাশ করতে শেয়ারধারীরা যাতে স্বশরীরে অংশ নিতে না পারে সেজন্য ক্যান্টনমেন্ট এর ভেতরে এজিএমের আয়োজন করা হয়। এছাড়া ডজনখানেক বাউন্সার (নাইটক্লাবে বিশঙ্খৃলা সৃষ্টিকারীদের বের করে দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়) এবং ৫০ জনের মতো পাহারাদার রাখা হয় যাতে কোন শেয়ারহোলল্ডার স্বশরীরে এজিএমে অংশ নিতে না পারে।
এখানে ই ক্ষান্ত হয়নি তারা। প্রকৃত শেয়ারধারীদের এজিএমে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখতে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে আমন্ত্রণপত্রও পাঠানো হয়নি । নামকাওয়াস্তে অখ্যাত পত্রিকায় এজিএমের নোটিশের বিজ্ঞাপন দিয়ে দায়সারাভাবে আইনের পরিপালন করা হয়। অথচ সাধারণ সংস্কৃতি হচ্ছে এজিএমের এজেন্ডা ও তারিখ ই মেইলের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের জানানো। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্যি সেটা করা হয়নি। উপরন্তু ভুয়া বিল ভাঊচার দেখিয়ে ব্যাংকের টাকায় লোকজন ভাড়া করে এনআরবিসি ব্যাংকের ১২ তম এজিএম সম্পন্ন করা হয়।
৯। সম্প্রতি ঢাকার অভিজাত হোটেল লা মেরিডিআনে বিজনেস কনফারেঞ্চের নামে খরচ প্রায় এক কোটি টাকা।
ব্যাংকের ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খারাপ হলেও তাদের ভোগবিলাসিতায় কোন কমতি রাখছেন না।
১০) অতি সম্প্রতি এনআরবিসি ব্যাংকের এম ডি তোহিদুল আলম খান ও চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া উদ্যোগ নেন ১০টি নতুন গাড়ি কেনার। যার প্রতিটির দাম ৪৩ লক্ষ টাকা করে। এটি ও তাদের একটি নতুন ক্রয় বাণিজ্যের নীল নকশা।
এনআরবিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের বাইরে রেখে চেয়ারম্যান মো: আলী হোসেন প্রধানিয়া ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: তৌহিদুল আলম খান মিলে এনআরবিসি ব্যাংককে গ্রাস করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কাছে ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ব্যাংকের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যতিরেকে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি বাস্ত হয়ে পড়েছেন।
এসবের কিছুমাত্র নমুনা নিচে তুলে ধরা হলঃ
১। প্রতি বোর্ড মিটিং এ সকল বোর্ড মেম্বার দের মাথা পিছু দশ হাজার টাকা পাবার জন্য প্রায় প্রতি মাসেই একাধিক বোর্ড মিটিং এর আয়োজন হয়। প্রয়োজন থাকুক বা নাই থাকুক বোর্ড মিটিং চলতেই থাকে। যে মিটিং এ ব্যবসা বাণিজ্য এর তুলনায় পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের বের করে দেয়া এবং বিভিন্ন পদায়ন আর নতুন কর্মকর্তা কর্মচারী (বর্তমান বোর্ড মেম্বার এবং এমডি এর পছন্দ মত) নিয়োগ দেয়াই মূল আলোচ্য বিষয়। এর সঙ্গে যোগ হয় প্রতি বোর্ড মিটিং এ আকাশচুম্বী খাবার বিল। জানা যায়, প্রায় প্রতি বোর্ড মিটিং এ গড়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা খাবার বিল পরিশোধ করতে হয় এন আর বি সি ব্যাংককে। আসলে, এক একটি বোর্ড মিটিং এ খরচ হয় প্রায় ৭০থেকে ৮০ হাজার টাকা। যাহা একেবারেই অযাচিত এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, এত ঘন ঘন বোর্ড মিটিং হয় অথচ ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ছে না আগের মত। যাহা নিজে তদারকি ও ব্যবস্থা করেন এনআরবিসি ব্যাংক এর এমডি তৌহিদুল আলম খান। আর এসবের মদদ দেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া নিজে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ গত এক বছরে বোর্ড মিটিং করেছেন প্রায় ৩৩ টি। যার পেছনে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। যার ফলাফল যে শূন্য তা গত দুই মাসের চিত্র দেখলেই স্পষ্ট হয়। কেননা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ব্যাংক থেকে ডিপোজিট চলে গেছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা এবং ঋণ কমেছে প্রায় এক হাজার সাতশো কোটি টাকা।
২। একই রকম ব্যাপার ঘটে চলছে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজে। সিকিউরিটিজের বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় পর্ষদের আরেক স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব আবুল বশরকে। যিনি প্রতি বোর্ড মিটিং এ নেন ত্রিশ হাজার টাকা করে। যাহা ০৫ই আগস্ট এর পরে নতুন বোর্ড আসার পরে নতুন বোর্ড মেম্বারগন তাদের মত করে ধার্য করে নেন। এখানেও ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ছে না আগের মত, শেয়ার এর দাম নিম্ন মুখী অথচ বোর্ড মেম্বারদের মিটিং এর মাসোহারা আর খাবার বিল পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের। এই বিষয় নিয়ে কথা বলার দায়ে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটি লিমিটেডের সিইও কে করা হয় বরখাস্ত। এখন চলছে বোর্ড মেম্বারগনের পছন্দ মত নিয়োগ প্রক্রিয়া। মজার ব্যাপার এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও নিয়োগ বাণিজ্যের দর কষাকষি চলছে। এই নিয়োগ বাণিজ্য চালাচ্ছেন এনআরবিসি ব্যাংকের এমডি তৌহিদুল আলম খান ও চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া।
৩। জোনাল বা অঞ্চল ভিত্তিক মিটিং এর নামে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে মিটিং করার নামে ভোগবিলাস ও খাবার বিল বাবদ প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয় এনআরবিসি ব্যাংককে (অন্যান্য খরচ বাদে)। ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ছে না কিছুই। মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা জোনাল বা অঞ্চল ভিত্তিক মিটিং এ শুধু বকাবাজিই শুনেন। দিতে পারেন না স্বাধীন কোন মতামত। আসলে এই জোনাল বা অঞ্চল ভিত্তিক মিটিং এনআরবিসি ব্যাংকের এমডি তৌহিদুল আলম খান ও চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর ভোগবিলাস এর একটি কৌশল মাত্র।
৪। নতুন বোর্ড গঠনের পর থেকেই বোর্ডে আলোচ্য বিষয় থাকুক বা নাই থাকুক প্রতি মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক বোর্ড মিটিং দেয়ার চেষ্টা করা হয় যাতে বোর্ড মেম্বাররাদের প্রত্যেকের জন্য ভাতা হিসেবে ১০,০০০ টাকা ঠিক ভাবে পেতে পারেন।
৫। শুধু বোর্ড মিটিং ই নয়, আলোচ্য বিষয় থাকুক বা নাই থাকুক প্রতি মাসে রিস্ক কমিটি এবং অডিট কমিটি করেই যাচ্ছেন তাদের মাসোহারা বাড়িয়ে নিতে। মিটিং এর ভাতা ছাড়াও প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতাও নিচ্ছেন বোর্ড মেম্বাররা। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে একেকজন স্বতন্ত্র পরিচালকের পেছনে ব্যাংকের খরচ হচ্ছে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। এসব মিটিং এর একটাই উদ্দেশ্য থাকে কিভাবে মিথ্যা ও হয়রানি মুলক অডিট রিপোর্ট দিয়ে পুরাতন কর্মীদের ব্যাংক থেকে বের করে দিতে পারেন।
৬। ভোগ বিলাসিতার আর এক চরম উদাহরন প্রায় আট লক্ষ টাকা খরচ করে চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া তার বাক্তিগত বাবহারের জন্য বাথরুম তৈরি করেন। যাহা একেবারেই অযাচিত ও অপ্রয়োজনীয় খরচ। একই সঙ্গে উদ্যোগ নেন তার নিজের জন্য প্রায় দের কোটি টাকা দামের গাড়ি কিনতে। ব্যাংকের ব্যবসা বাণিজ্যের দিকে নজর না দিয়ে নিজেদের ভোগ বিলাসিতার জন্য ব্যাংকের টাকা ব্যয় নাড়া দেয় ব্যাংকের প্রতিটি কর্মকর্তা করমচারিদের। আর এসবের মদদ দেন এনআরবিসি ব্যাংকের বর্তমান এমডি তৌহিদুল আলম খান ও চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া। তুলনা করলে দেখা যায় যে, পূর্বের চেয়ারম্যানের জন্য ছিলনা কোন বাক্তিগত বাথরুম, এমন কি পূর্বের চেয়ারম্যানের জন্য ছিলনা কোন ব্যাংকের নিরধারিত গাড়ি, পূর্বের চেয়ারম্যান তার নিজের গাড়ি ব্যাবহার করতেন।
৭। বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিটি গার্ড নিয়োগে আগের ১২ হাজারের স্থলে ২৮ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি কমিশন দেওয়া হচ্ছে ৬ হাজার টাকা। খরচ কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমান বোর্ডকে দায়িত্ব দিলেও তারা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে খরচ আরও বাড়িয়েছে। উল্লেখ থাকে যে, আগে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে গার্ড নিয়োগ করা হতো ১২ হাজার টাকায়। যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গার্ড নেওয়া হতো ওই প্রতিষ্ঠান কমিশন হিসেবে পেতো ১ হাজার টাকা।
৮। অবৈধভাবে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত এনআরবিসি’র বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করার জন্য কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে গত বছর খরচ করেন ১২ বার লক্ষ টাকা। অথচ পূর্বের এক একটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এ খরচ হত মাত্র তিন থেকে চার লক্ষ টাকা। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্বৈরশাসকের কায়দায় ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে এজিএমের এজেন্ডা থেকে পরিচালক নির্বাচনের এজেন্ডাটি (to elect/re-elect directors) সুকৌশলে বাদ দেয়া হয়। এছাড়াও স্বতন্ত্র পরিচালক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও যথাযথ বিধিমালা মানেনি এই বোর্ড। যোগ্যতাসম্পন্ন প্রকৃত স্পন্সর শেয়ারধারীদের বাইরে রেখে নিজেদের পদ স্থায়ী করতে স্বতন্ত্ৰ পরিচালক নিয়োগর ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নোটিফিকেশন দিয়ে এজিএমে স্বতন্ত্র পরিচালকদের নাম এজিএমে এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে পাশ করার মাধমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নেয়ার কথা থাকলেও সেই এজেন্ডাটিও বাই-পাস করা হয়েছে । এতটুকু সৎসাহস তারা না দেখিয়ে এজিএমে ২০২৪ সালের ফিনান্সিয়াল স্টেটমেন্ট পাশ করতে শেয়ারধারীরা যাতে স্বশরীরে অংশ নিতে না পারে সেজন্য ক্যান্টনমেন্ট এর ভেতরে এজিএমের আয়োজন করা হয়। এছাড়া ডজনখানেক বাউন্সার (নাইটক্লাবে বিশঙ্খৃলা সৃষ্টিকারীদের বের করে দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়) এবং ৫০ জনের মতো পাহারাদার রাখা হয় যাতে কোন শেয়ারহোলল্ডার স্বশরীরে এজিএমে অংশ নিতে না পারে।
এখানে ই ক্ষান্ত হয়নি তারা। প্রকৃত শেয়ারধারীদের এজিএমে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখতে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে আমন্ত্রণপত্রও পাঠানো হয়নি । নামকাওয়াস্তে অখ্যাত পত্রিকায় এজিএমের নোটিশের বিজ্ঞাপন দিয়ে দায়সারাভাবে আইনের পরিপালন করা হয়। অথচ সাধারণ সংস্কৃতি হচ্ছে এজিএমের এজেন্ডা ও তারিখ ই মেইলের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের জানানো। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্যি সেটা করা হয়নি। উপরন্তু ভুয়া বিল ভাঊচার দেখিয়ে ব্যাংকের টাকায় লোকজন ভাড়া করে এনআরবিসি ব্যাংকের ১২ তম এজিএম সম্পন্ন করা হয়।
৯। সম্প্রতি ঢাকার অভিজাত হোটেল লা মেরিডিআনে বিজনেস কনফারেঞ্চের নামে খরচ প্রায় এক কোটি টাকা।
ব্যাংকের ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খারাপ হলেও তাদের ভোগবিলাসিতায় কোন কমতি রাখছেন না।
১০) অতি সম্প্রতি এনআরবিসি ব্যাংকের এম ডি তোহিদুল আলম খান ও চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া উদ্যোগ নেন ১০টি নতুন গাড়ি কেনার। যার প্রতিটির দাম ৪৩ লক্ষ টাকা করে। এটি ও তাদের একটি নতুন ক্রয় বাণিজ্যের নীল নকশা।