উত্তম কুমার মোহন্ত ফুলবাড়ী,কুড়িগ্রামঃ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমান এর ছেলে মানিক মিয়া( ৫)দুইহাত বিহীন জন্ম প্রতিবন্ধী। সে পা দিয়ে পিএসসি, জেএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায উত্তীর্ণের পর আজ ১৫(সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার বরাবরের মতো পা দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। পা দিয়ে লিখলেও অন্যান্য শিক্ষার্থীর তুলনায় তার লেখার প্রশংসা না করলে নয়।
মানিকের বাবা মোঃ মিজানুর রহমান পেশায় একজন ঔষধ ব্যবসায়ী,মা মোছাঃ মরিয়ম বেগম একটি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাপিকা এই দুই দম্পতির বড়ছেলে মানিক মিয়া দুইহাত বিহীন জন্ম প্রতিবন্ধী।দুটি হাত নাকলেও পড়াশোনায় পিছিয়ে নেই সে। মহান সৃষ্টিকর্তা দুহাত বিহীন তাকে এমন মেধাবী করে তৈরি করেছে যে পরীক্ষার হলে অন্যান্য শিক্ষার্থীর চেয়ে পা দিয়ে দ্রুত লিখে সুন্দর ভাবে সকল প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে মানিক।আরো একটি অবাক বিষয় পা দিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বন্ধু বান্ধব,আত্নীয় স্বজনের সাথে দিব্বি কথা বলতে পারে।
অবাক বিষয় মানিক মিয়া পা দিয়ে কম্পিউটার টাইপ, ইন্টারনেট ব্রাউজার সহ-বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী। সে ২০১৬সালে ফুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে গোল্ডেন এ+প্লাস ২০২০সালে ফুলবাড়ী জছিমিয়া মল্ডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি জিপিএ ৫ পেয়ে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।এজন্য মানিকের মা মরিয়ম বেগমের অবদান অনেক বেশি।কারণ একজন শিক্ষিত মা দিতে পারে একটি ভবিষৎত শিক্ষিত জাতি।
বৃহস্পতিবার ১৫(সেপ্টেম্বর)ফুলবাড়ী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে বাংলা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সময় মানিকের সাথে কথা বলে জানা যায় ,আমার দুটি হাত না থাকলেও আল্লাহ রহমতে আমি পিএসসিতে গোল্ডেন এ+প্লাসপাই জেএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছি আপনারা সবাই দোয়া করবেন এসএসসিতেও গোল্ডেন এ+ প্লাস পেয়ে কৃতকার্য হতে পারি।আমার ইচ্ছা ভালো রেজাল্ট করে প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার।কারণ আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।
মানিকের বাবা মিজানুর রহমান মা মরিয়ম বেগম বলেন,আমাদের দুই ছেলে মানিক বড় ছোট ফাহীম ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পরে। মানিকের জন্মথেকে দুটি হাত নেই কিন্তূ আমাদের তা মনে হয় না ছোট থেকেই তাকে আমরা পাদিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। সমাজে অনেক সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার চেয়ে আমাদের মানিকের মেধা অনেক ভালো। আল্লাহর রহমতে পিএসসি,জেএসসিতে অনেক ভালো রেজাল্ট করেছে এটা আমাদের গর্ব। আপনারা সবাই দোয়া করবেন আমার ছেলেটা যেন সুস্থ সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকে এবং পূর্বের ন্যায় এসে এসপি ভালো রেজাল্ট করতে পেরে তার মনের স্বপ্ন গুলো পূরণ করতে পারে।
ফুলবাড়ী জসিমিয়া মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও মানিক অসাধারণ ছাত্র।সে আমাদের
সম্পদ সে ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে কলম ধরে লিখে আর বা পায়ের আঙ্গুল দিয়ে প্রশ্ন ও খাতার পাতা উল্টায় এইভাবে লেখে সে বিগত পরীক্ষাগুলোতে ভালো রেজাল্ট করেছে। আমি দোয়া করি এসএসসি তে যেন ভালো রেজাল্ট করতে পারে এজন্য প্রান খুলে দোয়া করি।
ফুলবাড়ী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে সচিব, মশিউর রহমান বলেন, মানিক প্রতিবন্ধী হলেও অন্যান্য শিক্ষার্থীর তুলনায় তার মেধা অনেক ভালো।তার বিগত পরীক্ষার রেজাল্ট অনেক ভালো,সে ব্রেঞ্চে বসে লিখতে পারেনা সেই জন্য তাকে চৌকিতে বসে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে নিয়ম অনুযায়ী তাকে বিশ মিনিট বাড়তি সময় দেওয়া সহ সকল সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একটি অবাক বিষয় পা দিয়ে এত সুন্দর লেখা এটা আমার কাছে অদ্ভুত বিষয়। আমি দোয়া করি মানিক যেন পূর্বের ন্যায় ভালো রেজাল্ট করতে পারে বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।
ফুলবাড়িতে,জন্মপ্রতিবন্ধী মানিক মিয়া পা দিয়ে দিচ্ছেন এসএসসি পরীক্ষা
ফুলবাড়িতে,জন্মপ্রতিবন্ধী মানিক মিয়া পা দিয়ে দিচ্ছেন এসএসসি পরীক্ষা
উত্তম কুমার মোহন্ত ফুলবাড়ী,কুড়িগ্রামঃকুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমান এর ছেলে মানিক মিয়া( ৫)দুইহাত বিহীন জন্ম প্রতিবন্ধী। সে পা দিয়ে পিএসসি, জেএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায উত্তীর্ণের পর আজ ১৫(সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার বরাবরের মতো পা দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। পা দিয়ে লিখলেও অন্যান্য শিক্ষার্থীর তুলনায় তার লেখার প্রশংসা না করলে নয়।মানিকের বাবা মোঃ মিজানুর রহমান পেশায় একজন ঔষধ ব্যবসায়ী,মা মোছাঃ মরিয়ম বেগম একটি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাপিকা এই দুই দম্পতির বড়ছেলে মানিক মিয়া দুইহাত বিহীন জন্ম প্রতিবন্ধী।দুটি হাত নাকলেও পড়াশোনায় পিছিয়ে নেই সে। মহান সৃষ্টিকর্তা দুহাত বিহীন তাকে এমন মেধাবী করে তৈরি করেছে যে পরীক্ষার হলে অন্যান্য শিক্ষার্থীর চেয়ে পা দিয়ে দ্রুত লিখে সুন্দর ভাবে সকল প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে মানিক।আরো একটি অবাক বিষয় পা দিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বন্ধু বান্ধব,আত্নীয় স্বজনের সাথে দিব্বি কথা বলতে পারে।অবাক বিষয় মানিক মিয়া পা দিয়ে কম্পিউটার টাইপ, ইন্টারনেট ব্রাউজার সহ-বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী। সে ২০১৬সালে ফুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে গোল্ডেন এ+প্লাস ২০২০সালে ফুলবাড়ী জছিমিয়া মল্ডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি জিপিএ ৫
পেয়ে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।এজন্য মানিকের মা মরিয়ম বেগমের অবদান অনেক বেশি।কারণ একজন শিক্ষিত মা দিতে পারে একটি ভবিষৎত শিক্ষিত জাতি।বৃহস্পতিবার ১৫(সেপ্টেম্বর)ফুলবাড়ী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে বাংলা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সময় মানিকের সাথে কথা বলে জানা যায় ,আমার দুটি হাত না থাকলেও আল্লাহ রহমতে আমি পিএসসিতে গোল্ডেন এ+প্লাসপাই জেএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছি আপনারা সবাই দোয়া করবেন এসএসসিতেও গোল্ডেন এ+ প্লাস পেয়ে কৃতকার্য হতে পারি।আমার ইচ্ছা ভালো রেজাল্ট করে প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার।কারণ আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।মানিকের বাবা মিজানুর রহমান মা মরিয়ম বেগম বলেন,আমাদের দুই ছেলে মানিক বড় ছোট ফাহীম ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পরে। মানিকের জন্মথেকে দুটি হাত নেই কিন্তূ আমাদের তা মনে হয় না ছোট থেকেই তাকে আমরা পাদিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। সমাজে অনেক সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার চেয়ে আমাদের মানিকের মেধা অনেক ভালো। আল্লাহর রহমতে পিএসসি,জেএসসিতে অনেক ভালো রেজাল্ট করেছে এটা আমাদের গর্ব। আপনারা সবাই দোয়া করবেন আমার ছেলেটা যেন সুস্থ সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকে এবং পূর্বের ন্যায় এসে এসপি
ভালো রেজাল্ট করতে পেরে তার মনের স্বপ্ন গুলো পূরণ করতে পারে।ফুলবাড়ী জসিমিয়া মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও মানিক অসাধারণ ছাত্র।সে আমাদেরসম্পদ সে ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে কলম ধরে লিখে আর বা পায়ের আঙ্গুল দিয়ে প্রশ্ন ও খাতার পাতা উল্টায় এইভাবে লেখে সে বিগত পরীক্ষাগুলোতে ভালো রেজাল্ট করেছে। আমি দোয়া করি এসএসসি তে যেন ভালো রেজাল্ট করতে পারে এজন্য প্রান খুলে দোয়া করি।ফুলবাড়ী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে সচিব, মশিউর রহমান বলেন, মানিক প্রতিবন্ধী হলেও অন্যান্য শিক্ষার্থীর তুলনায় তার মেধা অনেক ভালো।তার বিগত পরীক্ষার রেজাল্ট অনেক ভালো,সে ব্রেঞ্চে বসে লিখতে পারেনা সেই জন্য তাকে চৌকিতে বসে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে নিয়ম অনুযায়ী তাকে বিশ মিনিট বাড়তি সময় দেওয়া সহ সকল সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একটি অবাক বিষয় পা দিয়ে এত সুন্দর লেখা এটা আমার কাছে অদ্ভুত বিষয়। আমি দোয়া করি মানিক যেন পূর্বের ন্যায় ভালো রেজাল্ট করতে পারে বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত