শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় ফ্যাসিষ্ট সরকার বিদায় নিলেও এলজিডি মন্ত্রীর ভাতুষপুত্র বিআরটিএর ডিডি বহাল তবিয়তে

ফ্যাসিষ্ট সরকার বিদায় নিলেও এলজিডি মন্ত্রীর ভাতুষপুত্র বিআরটিএর ডিডি বহাল তবিয়তে

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম এর কথিত চাচার নেক-নজর নিয়ে বদলী বাণিজ্য, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, মোটর সাইকেলের রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কোটিপতি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

জানা গেছে, আওয়ামী সরকারের সময়ে অবৈধা উপায়ে উপার্জিত অর্থ এখন গুপ্ত মিছিল ও ককটেল হামলাকারীদের পেছনে ব্যায় করছেন। গত ২০২৪ সালের ১৪/১০/২০২৪ ইং তারিখের স্বারক নম্বর ৩৫.০৩.০----২৩.১৬৭৬ এর মাধ্যমে তাকে তৎকালীন উপ-পরিচালক (প্রশাসন) রিপন কুমার সাহা এর স্বাক্ষরিত আদেশে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেল, বরিশাল বিভাগীয় অফিসে বদলী করা হয়। আর ২০১৫ সালে রফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-১ এর সহকারী পরিচালক থাকার সময় সেখানে সিএনজি অটোরিকসার নতুন রেজিস্ট্রেশন প্রদান করার কথা বলে উত্তরা মোটরসের ৮টি ডিলারের মাধ্যমে সাধারণ নিরীহ সিএনজি  অটোরিক্সার মালিকদের নিকট হইতে বিপুল পরিমাণ অর্থ  হাতিয়ে নেয়। 

এ অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হলে তার চাকরি যাওয়ার উপক্রম হয়। পরে কথিত চাচা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম আস্তাভাজন সাবেক মন্ত্রী খন্দকার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পান। 

পরে তৎকালীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন (বিআরটিএ) কর্তৃপক্ষ তাকে চট্টগ্রাম হতে ঢাকা জেলায় বদলী করেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন (বিআরটিএ) সকল প্রকার বদলী বাণিজ্য এর সিন্ডিকেট এর সঙ্গে সমন্বয় করে যানবাহনের রেজিস্ট্রিশন, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রিশনসহ সব জায়গা থেকে ঘুষ বাণিজ্য করেন। 

পরে ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ এ বদলী করা হয়েছে। সেখানে যোগদানের পর মিরপুর বাড়ি নম্বর -১৭, রোড-৬, বিআরটিএর পশ্চিম পাশের শাহাবাস্তি বিজনেস সেন্টার গড়েন। হারুন অর রশিদ ওরফে রুবেল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে বিআরটিএ শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যদের কারণেই অধিকাংশ সেবা প্রত্যাশীরা জিম্মি ছিল। গত ২০২৪ সালে তিনি সহকারি পরিচালক থেকে উপ পরিচালক হন। 


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফিকুল ইসলাম ওরফে ভাতিজা রফিক একজন ধুরন্ধর প্রকৌশলী। শুধু তাই নয়, ম্যানেজ মাষ্টার নামে খ্যাত। রফিক পতিত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে এহেন কাজ নেই, যে তিনি করেন নি। যার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেত না বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রকৌশলী রফিকুল বিআরটিএ এর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলী করা হয়।এক বছর না পেরোতেই রফিকুল ইসলাম আবার সদর কাযালয়ে উপ পরিচালক অপারেশন পদে বদলি হয়ে আসে এবং একই সাথে বিআরটিএ’র ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৪ এর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। 

অবৈধ্যভাবে আয় করা টাকা দিয়ে গড়ে তুলেছেন আত্মীয় স্বজন এবং পরিবার পরিজন নামে বেনামে অবৈধ্য সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে তুলেছেন আর এম মটরস ( ৩৪,৪৯ রাইন রাজ্জাক প্লাজা ,ইস্কাটন রোড,মগবাজার ,ঢাকা। আর এম মটরস মোটরসাইকেল শোরুম এবং আমদানিকারক উক্ত প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রফিকুল ইসলাম এর ছোট ভাই রিয়াজ । 

আর.এম ইন্টারন্যাশনাল (ঠিকানা :২৫০,বড় মগবাজার ,ঢাকা -১২১৭)উক্ত মটরসাইকেলের শোরুমটি পরিচালনা করেন রফিকুল ইসলামের শ্যালক। উল্লেখ্য যে এই মোটরসাইকেলের শোরুম দুইটি ইহতেও একটি দালাল সিন্ডিকেটে পরিচালনা করা হয়। সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে দেন রফিকুল ইসলামের বাল্যবন্ধু আসাদ  

আবার ঢাকা জেলার সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশনের একেকটা হইতে কমপক্ষে এক লক্ষ টাকা করে নিয়েছেন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও ঢাকা জেলা থেকে কোন সিএনজি চালিত অটোরিকশা বা বেবি টেক্সি নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। কিন্তু ২০১৬ সালে প্রকৌশলি রফিকুল ইসলাম সহকারী পরিচালক হিসাবে বিআরটিএর ঢাকা জেলার সার্কেলে যোগদান করলে । উত্তরা মটরস এর ডিলার দ্বিন ইসলাম মটর এর মালিক খাজি আব্দুর রশিদ বুলু ও সুলতান মটরস এর মালিক হাজী সুলতান গংদের যোগসাজসে ঢাকা জেলার বিআরটিএ ঢাকা জেলার সার্কেল হইতে ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটো রিকশার নিবন্ধন দেওয়া বা রেজিষ্ট্রেশান দেওয়া আরম্ভ করে । 

ঢাকা মহানগরী সিএনজি অটো রিক্সাশার নির্ধারিত সিলিং সংখ্যা থাকায় এবং জনগণের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত সিএনজি অটোরিক্সা  সংখ্যা অপ্রতুল হওয়াতে এই সব ঢাকা জেলা থেকে রেজিস্ট্রেশনকৃত অটোরিক্সার দাম বাড়তে থাকে এবং এই সকল সিএনজি অটোরিক্সা বেআইনিভাবে ঢাকা মহানগরীতে চলাচল করে । ব্যাপক নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। এই সুযোগে সিএনজি অটোরিক্সার শোরুমগুলো মাধ্যমে সিন্ডিকেট সৃষ্টি করে প্রতি সিএনজি অটোরিক্সার রেজিষ্ট্রাশান প্রতি গাড়িতে রেজিষ্ট্রেশানের সর্বনিশ্ন ঘুষ আদায় করে। রফিকুল ইসলাম ২০১৯ সাল মার্চ পযন্ত বিআরটিএর ঢাকা জেলার সার্কেলের সহকারী পরিচালক থাকা পযন্ত অন্তত ৫ হাজার সিএনজি অটোরিক্সার রেজিস্ট্রেশান প্রদান করিয়াছে। এমন কি এইসব গাড়ির মালিকেরা ঢাকা জেলার বাসিন্দা হওয়া কথা থাকিলেও প্রকৃতপক্ষে অধিকাংশ মালিকিই ঢাকা মহানগরিতে বসাবাস করে। এইসব মালিকদিগকে ভোয়া ঠিকানায় ঢাকা জেলার সিএনজি অটোরিক্সার রেজিষ্ট্রেশান প্রদান করিয়াছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ভূক্তভোগীকে ব্যাক্তিদ্বয় বলেন যে, প্রকৈশলী রফিকুল ইসলামের মতো অসাধু কর্মকর্তাদের শুধু এক স্থান থেকে আরেক স্থানে বদলি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এদেরকে সাময়িক বহিস্কার করে তাদের পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজনের নামে গড়ে তোলা বেআয়নিভাবে যেসব  সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তুলেছেন।  তাহা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে বলে মনে করেন।

খুঁজুন