শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় গাজীপুরে ৪ বছরের প্রকল্প শেষ হয়নি ১২ বছরে

গাজীপুরে ৪ বছরের প্রকল্প শেষ হয়নি ১২ বছরে

 সদরুল আইন ঃ 

            গাজীপুরে চার বছরের প্রকল্প শেষ হয়নি ১২ বছরেও। দফায় দফায় বেড়েছে সময়। খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। তবু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারার আশঙ্কা করছেন র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের পরিচালক।

 বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কের কাজ শেষ করতে আরও কত সময় লাগবে তাও নিশ্চিত করতে পারছেন না কেউ।

এ অবস্থায় বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত যানজট লেগেছে থাকছে। এর মধ্যে টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের যানজট অসহনীয়। কোথাও একমুখী যানবাহন চলাচল করছে, কোথাও সড়ক বন্ধ করে রাস্তার কাজ চলছে। হাজার হাজার পরিবহনের চাপে সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজট এখন নিত্যসঙ্গী।

 ঈদের সময় এই যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে ঘরমুখী মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক। আব্দুল্লাহপুর থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক। সড়কের এই অংশগুলো অতিক্রম করতে সাত-আট ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ যানজট না থাকলে এক ঘণ্টায় বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর যাওয়া যেতো।

যাত্রী, গাড়িচালক ও স্থানীয়রা বলছেন, এখন ঢাকা থেকে গাজীপুর বাসে যেতে সময় লাগে প্রায় ছয় ঘণ্টা। এর মধ্যে টঙ্গী সেতুতে পৌঁছাতেই দুই ঘণ্টা লেগে যায়। বাকি সময় টঙ্গী সেতু থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত যেতে লাগে। 

সড়কের এমন বেহাল দশা আরও কোথাও নেই। বিআরটি’র প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় গত ১০ বছর ধরে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ চরম ভোগান্তি নিয়ে এই পথে যাতায়াত করছেন। ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

 জানা গেছে, ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) আওতায় ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সহজ যোগাযোগের জন্য ২০০৫ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের অধীনে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কে বাসের আলাদা লেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যার নাম দেওয়া হয়েছে বিআরটি।

 প্রকল্পটি ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর একনেকে অনুমোদন পায়। দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ করে বিআরটিতে বাস নামানোর কথা ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর করা হয় এবং ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়ায় চার হাজার ২৬৪ কোটি ৮২ লাখ ১৪ টাকা। দুই দফায় প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারবেন। তবে কিছু সমস্যা এখনও রয়েছে। সমস্যাগুলো থাকলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা অনিশ্চিত।

বিআরটি সূত্রে জানা গেছে, সময় ও ব্যয় বাড়ানোর মূল কারণ সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া। সময় ও নির্মাণ উপকরণের দাম বাড়ায় ৭২৩ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে। সেই সঙ্গে পরামর্শকদের বাড়তি সময়ের বেতন-ভাতাও যোগ হয়েছে। এর বাইরে কিছু কাজ যোগ করা এবং বাড়তি জমি অধিগ্রহণের কারণে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বেড়েছে।

 টঙ্গীর স্টেশন রোড থেকে মিলগেট পার হয়ে চেরাগআলী মার্কেটের আগ পর্যন্ত রাস্তায় নির্মাণ করা হচ্ছে উড়াল সেতুর পিলার। উড়াল সেতু এবং নিচে কার্পেটিং এখনও অনেক জায়গায় শেষ হয়নি। ফলে সড়কের কোথাও তিন কোথাও দুই লেনে যানবাহন চলছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় কাটছে মানুষের।

সড়কের কিছু স্থানে উড়াল সেতুর স্ল্যাব বসানো, কোথাও সড়ক মেরামত আবার কোথাও চলছে খুঁটি স্থাপনের কাজ। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৭৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কমছে না যানজট।

গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান আহমদ সরকার বলেন, ‘হাজার হাজার যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, লরি প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে চলাচল করে। লম্বা ছুটি থাকায় এবার ঈদে সাধারণ মানুষ ঘরমুখী হবে। গণপরিবহনের চাপ বাড়বে। কিন্তু এখনও বিআরটি’র প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।

শেষ হবে হবে বলে ১০ বছর কেটে গেলো। কবে শেষ হবে কে জানে। এভাবে চললে ঈদযাত্রা ভোগান্তির হবে চরমে।’

খুঁজুন