সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর গ্যাসের জন্য মৌলভীবাজারে চলছে হাহাকার

গ্যাসের জন্য মৌলভীবাজারে চলছে হাহাকার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :মৌলভীবাজারে গ্যাসের জন্য চলছে হাহাকার। যানবাহনের চালকরা গ্যাস নিতে লাইনে দাঁড়ান এবং রাত কাভার করে ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাদের। 

মাসের শেষ সাপ্তাহের দিকে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং কয়েক মাস ধরেই তা হয়ে আসছে। স্থানীয় গ্যাস পাম্পের মালিকরা জানান, অতীতে জালালাবাদ গ্যাসের দেওয়া লিমিট শেষ হওয়ার পরও গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত থাকত। কিন্তু এখন লিমিট শেষ হলেই গ্যাস কর্তৃপক্ষ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন সপ্তাহখানেক বন্ধ রাখতে হয়।

জেলা সদর ও আশপাশের উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলো অন্তত ৫ থেকে ৬ দিন বন্ধ থাকছে। আর ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার পরিবহন চালক। জনগণের এই চরম ভোগান্তি দূরীকরণে নেই কোনো সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ।

মৌলভীবাজার জেলা সদর, রাজনগর ও শ্রীমঙ্গলসহ তিনটি উপজেলায় ৯টি পাম্পের মধ্যে বর্তমানে মৌলভীবাজার সদরের ২ থেকে ৩টি পাম্পে গ্যাস সরবরাহ চালু থাকলেও পুরো জেলার চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে এগুলো। তবে মাসের প্রথম দিকে সব পাম্প পুনরায় চালু হলে ফের শুরু হয় স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ। রবিবার রাতে সিলেট থেকে ফেরার পথে দেখা যায়, সিলেট-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ফিলিং স্টেশনগুলোতে ২-৩ কিলোমিটার দীর্ঘসারি যানবাহনের। প্রতিটি সারিতে আবার শত শত গাড়ি। চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন গ্যাস নেওয়ার জন্য। গ্যাস নিতে অনেকের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে বলে জানান যান চালকরা।

সিল ভ্যালি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা চালকরা বলেন, প্রতি মাসের ২০ তারিখের পর থেকেই শুরু হয় গ্যাসের এই সমস্যা। প্রায় দশ দিন গ্যাসের এই সংকট রয়ে যায়। এমনিতেই সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পাম্পগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে।

তারা আরো জানান, এই বন্ধ থাকার সময়েই গাড়িচালকরা আগেভাগেই লাইনে দাঁড়ান। এর পর শুরু হয় অপেক্ষার পালা। রাত ১১টায় যখন পাম্পগুলো গাড়িতে গ্যাস দেওয়া শুরু করে তখন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে বেশিরভাগ গাড়িচালকের অপেক্ষা করতে হয় ভোর পর্যন্ত।

এদিকে পাম্পে গ্যাস নিতে আসা গাড়িগুলোর মধ্যে কার, মাইক্রোবাস, ছোট পিকআপের পাশাপাশি অধিকাংশই সিএনজি চালিত অটোরিকশা। সরেজমিনে দেখা যায়, অটোরিকশা আর টমটম। প্রতিটি পাম্পের পাশের সড়কে অন্তত হাজারেরও বেশি হবে অপেক্ষমাণ গাড়ি। এই গাড়িগুলো মূল সড়কে দীর্ঘ সময় লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আঞ্চলিক ও দূরপাল্লার গাড়ি চলাচলে তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

শ্রীমঙ্গল সড়কের মাজ সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার  জানান, চুক্তি অনুযায়ী আমাদের পাম্প মাসে ২ লাখ ৫৪ হাজার কিউ ঘনমিটার গ্যাস পাচ্ছে। তবে মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ গাড়ির চাপ কম থাকায় পুরো মাসে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। না হলে আমাদের পাম্পও অন্যান্য পাম্পের মতো বন্ধ থাকত। বন্ধ হওয়া পাম্পগুলো সম্পর্কে তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী লিমিট শেষ হওয়ায় বন্ধ, তবে তিন থেকে চার দিন পর বন্ধ হওয়া পাম্পগুলোতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে গাড়ির দীর্ঘ লাইন আর থাকবে না।

মৌলভীবাজার জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডডি সিস্টেম লিমিটেড আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের এখান থেকে পাম্পগুলোতে গ্যাস সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। মূলত পাম্পগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই এই পরিস্থিতি। তাদের মধ্যে সমন্বয় হলে উন্নতি হবে।

খুঁজুন