প্রবাসী প্রতিবেদক:
২০০৯ সাল। ভারত একতরফাভাবে বরাক নদীর উপর টিপাইমুখ ড্যাম নির্মাণের ঘোষণা দিলে, গোটা বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছিলো তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ। এই প্রকল্প বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের নদী, কৃষি ও পরিবেশ ধ্বংস করবে, এমন আশঙ্কায় দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষ সরব হয়ে উঠেছিলো।
প্রতিবাদের ঢেউ সীমান্ত পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলো প্রবাসেও। ইতালির ভেনিসে সে সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বাংলা পত্রিকা "স্বদেশ-বিদেশ" (রোম থেকে প্রকাশিত) এর উদ্যোগে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয় শ্রমিক সংস্থা CGIL-এর সম্মেলন কক্ষে। পত্রিকার সে সময় নির্বাহী সম্পাদক পলাশ রহমান ছিলেন এই সাহসী আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা।

ব্যাপক আলোচিত ওই সেমিনারটি শুধু প্রতিবাদ নয়, ভেনিস প্রবাসীদের দেশপ্রেমের এক অনন্য দলিল হয়ে আছে।
সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছিলেন, ভেনিসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যারা শুধু নিজ নিজ সংগঠনের প্রতিনিধি ছিলেন না, ছিলেন এই কমিউনিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারীও।

সেদিন তাদের উপস্থিতি, তাদের বক্তব্য, তাদের প্রতিবাদ- সবকিছুই ছিলো ইতিহাস বিনির্মাণের এক উজ্জল উদাহরণ।
সেমিনার শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তৎকালীন ভেনিস আওয়ামীলীগ সমর্থকদের একটি দল। তারা সেমিনারের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। অতিথিদের হেনস্তা করার চেষ্টা করে। এমনকি ক্যামেরা হাতে ছবি তুলতে যাওয়ায় ভেনিস বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা আমিনুল হাজারী, বাংলা টিভির সাংবাদিক মনির উদ্দীনের উপরও তারা চড়াও হয়েছিলো।

হামলাকারী আওয়ামী-সমর্থকদের আচরণ ছিলো প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং অভিবাসী সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর এক ন্যক্কারজনক আঘাত।
তারা চিৎকার করে বলেছিলো, ভেনিসে ভারতের স্বার্থ বিরোধী কোনো সেমিনার হতে দেয়া হবে না। যা ভেনিসের বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
সেমিনারে উপস্থিত অনেকেই ওই হামলার মুখে অসহায় ছিলেন, কিন্তু প্রবল সাহস নিয়ে সত্যের পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, ভেনিস বিএনপির নেতা আব্দুল আজিজ সেলিম। তার বলিষ্ঠ ভূমিকায় সেদিন সেমিনারটি রক্ষা পেয়েছিলো। সেমিনারটি সফল করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন কামরুজ্জামান বাবু, সোহেল আক্তার বিপ্লবীসহ কমিউনিটির এক ঝাক দেশপ্রেমিক মানুষ।
আব্দুল আজিজ সেলিম ও দেশপ্রেমিক অভিবাসীদের চূড়ান্ত প্রতিরোধের মুখে আওয়ামী বিশৃঙ্খলাকারিরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলো এবং শেষ পর্যন্ত সেমিনারটি সফল হয়েছিলো। যা ভেনিস বাংলাদেশ কমিউনিটির ইতিহাসে অম্লান হয়ে আছে।

আজকের নতুন প্রজন্ম হয়তো জানে না, যারা ওই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন এবং সব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আওয়াজ তুলেছিলেন বাংলাদেশের স্বার্থে- তারাই ভেনিসের বাংলাদেশি কমিউনিটির স্থপতি। তাদের ত্যাগ, সাহস এবং দূরদর্শিতাই আজকের এই শক্তিশালী কমিউনিটির ভিত্তি। তাদের ভূমিকা নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন। কারণ ইতিহাস শুধু গৌরবের নয়, শেখারও দরজা খুলে দেয়।
টিপাইমুখ ড্যাম বিরোধী সেই সেমিনার কোনো রাজনৈতিক শোডাউন ছিলো না। ছিলো প্রবাস থেকে মাতৃভূমি রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার।
হামলা চালায় আওয়ামী লীগ, প্রতিহত করে বিএনপি
হামলা চালায় আওয়ামী লীগ, প্রতিহত করে বিএনপি
প্রবাসী প্রতিবেদক: ২০০৯ সাল। ভারত একতরফাভাবে বরাক নদীর উপর টিপাইমুখ ড্যাম নির্মাণের ঘোষণা দিলে, গোটা বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছিলো তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ। এই প্রকল্প বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের নদী, কৃষি ও পরিবেশ ধ্বংস করবে, এমন আশঙ্কায় দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষ সরব হয়ে উঠেছিলো। প্রতিবাদের ঢেউ সীমান্ত পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলো প্রবাসেও। ইতালির ভেনিসে সে সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বাংলা পত্রিকা "স্বদেশ-বিদেশ" (রোম থেকে প্রকাশিত) এর উদ্যোগে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয় শ্রমিক সংস্থা CGIL-এর সম্মেলন কক্ষে। পত্রিকার সে সময় নির্বাহী সম্পাদক পলাশ রহমান ছিলেন এই সাহসী আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা।ব্যাপক আলোচিত ওই সেমিনারটি শুধু প্রতিবাদ নয়, ভেনিস প্রবাসীদের দেশপ্রেমের এক অনন্য দলিল হয়ে আছে।সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছিলেন, ভেনিসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যারা শুধু নিজ নিজ সংগঠনের প্রতিনিধি ছিলেন না, ছিলেন এই কমিউনিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারীও। সেদিন
তাদের উপস্থিতি, তাদের বক্তব্য, তাদের প্রতিবাদ- সবকিছুই ছিলো ইতিহাস বিনির্মাণের এক উজ্জল উদাহরণ।সেমিনার শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তৎকালীন ভেনিস আওয়ামীলীগ সমর্থকদের একটি দল। তারা সেমিনারের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। অতিথিদের হেনস্তা করার চেষ্টা করে। এমনকি ক্যামেরা হাতে ছবি তুলতে যাওয়ায় ভেনিস বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা আমিনুল হাজারী, বাংলা টিভির সাংবাদিক মনির উদ্দীনের উপরও তারা চড়াও হয়েছিলো। হামলাকারী আওয়ামী-সমর্থকদের আচরণ ছিলো প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং অভিবাসী সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর এক ন্যক্কারজনক আঘাত।তারা চিৎকার করে বলেছিলো, ভেনিসে ভারতের স্বার্থ বিরোধী কোনো সেমিনার হতে দেয়া হবে না। যা ভেনিসের বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় হয়ে রয়েছে।সেমিনারে উপস্থিত অনেকেই ওই হামলার মুখে অসহায় ছিলেন, কিন্তু প্রবল সাহস নিয়ে সত্যের পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, ভেনিস বিএনপির নেতা আব্দুল আজিজ সেলিম। তার
বলিষ্ঠ ভূমিকায় সেদিন সেমিনারটি রক্ষা পেয়েছিলো। সেমিনারটি সফল করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন কামরুজ্জামান বাবু, সোহেল আক্তার বিপ্লবীসহ কমিউনিটির এক ঝাক দেশপ্রেমিক মানুষ।আব্দুল আজিজ সেলিম ও দেশপ্রেমিক অভিবাসীদের চূড়ান্ত প্রতিরোধের মুখে আওয়ামী বিশৃঙ্খলাকারিরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলো এবং শেষ পর্যন্ত সেমিনারটি সফল হয়েছিলো। যা ভেনিস বাংলাদেশ কমিউনিটির ইতিহাসে অম্লান হয়ে আছে।আজকের নতুন প্রজন্ম হয়তো জানে না, যারা ওই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন এবং সব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আওয়াজ তুলেছিলেন বাংলাদেশের স্বার্থে- তারাই ভেনিসের বাংলাদেশি কমিউনিটির স্থপতি। তাদের ত্যাগ, সাহস এবং দূরদর্শিতাই আজকের এই শক্তিশালী কমিউনিটির ভিত্তি। তাদের ভূমিকা নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন। কারণ ইতিহাস শুধু গৌরবের নয়, শেখারও দরজা খুলে দেয়।টিপাইমুখ ড্যাম বিরোধী সেই সেমিনার কোনো রাজনৈতিক শোডাউন ছিলো না। ছিলো প্রবাস থেকে মাতৃভূমি রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত