শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর হাটহাজারীতে সুন্নি-কওমি সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৮০.

হাটহাজারীতে সুন্নি-কওমি সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৮০.

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ‘অশালীন অঙ্গভঙ্গির ছবি’ ফেসবুকে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে সুন্নি ও কওমি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন প্রায় দেড়শতাধীক। আহতদের মধ্যে গুরুতর ২০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারীস্থ আল-জামিয়াতুল আহ্লিয়া দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা)র, মসজিদ নিয়ে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে উস্কানিমূলক ভাবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস (পোস্ট) দেন ফটিকছড়ির এক যুবক। তাঁর এ পোস্ট ঘিরে সমালোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পোস্টে তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনের একটি ছবি সংযুক্ত করে অশালীন (মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের) অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে জশনে জুলুশের পক্ষে লিখেন। মুহুর্তে তাঁর পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা ও উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও কওমি পন্থিদের দাবির প্রেক্ষিতে সন্ধ্যার পর ফটিকছড়ি ইউএনওর আদেশে থানা পুলিশ ওই যুবককে আটক করে এবং সেই যুবকের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়ার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে দেখা দেয়া উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এক পর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে সুন্নি আকিদা পন্থি জশনে জুলুস উপলক্ষে একটি গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে আসার সময় হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার সামনে পৌছলে বিপক্ষে শ্লোগান দিলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত যুবক আরিয়ান ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তারের দাবীতে নাজিরহাট আঞ্চলিক সড়কে হাটহাজারী পৌরসভা এলাকায় এক শ্রেনীর জনতা বিক্ষোভ করে কয়েক একটি গাড়ি ভাংচুর করে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত সাড়ে ১০টায় হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন পুরো এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি মাইকিং করেন। আইনশৃঙ্খলার উপস্থিতিতে রাত দুইটার পর থেকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে সংর্ঘষের ঘটনায় হাটহাজারী - নাজিরহাট - রাউজান সড়কের গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

রবিবার পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় সকাল থেকে স্বাভাবিক ভাবে সড়কে গাড়ি চলাচল করছে এবং দোকানপাঠ খোলা দেখা গেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে আহত ১শ’ ১৪ জন রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ২০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুবিন বলেন, শনিবার রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রবিবার বিকাল তিনটা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, উস্কানিমূলকের ফেসবুক আইডিটি ডিঅ্যাকটিভ করা হয়েছে। অভিযুক্ত আরিয়ানকে সন্ধ্যার দিকে আটক করা হয়েছে বলে হাটহাজারী উপজেলা ও ফটিকছড়ি উপজেলা ইউএনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

খুঁজুন