শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
প্রবাস ইতালির নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পাস হলো না

ইতালির নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পাস হলো না

পলাশ রহমান :

৮ ও ৯ জুন ২০২৫ তারিখে ইতালিতে অনুষ্ঠিত হয় গণভোট। নাগরিকত্ব আইন এবং শ্রমিক অধিকার সংশোধন বিষয়ক মোট পাঁচটি প্রশ্নে এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় গণভোটটি ব্যর্থ হয়। অনেক বিশ্লেষকের মতো আমিও ধারণা করেছিলাম, এমন একটি উদ্যোগ ইতালির সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় সফল হওয়া অসম্ভব প্রায়।


গণভোটের প্রেক্ষাপট:


গণভোটে পাঁচটি প্রশ্নের মধ্যে একটি ছিলো সবচেয়ে আলোচিত: বিদেশিদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার সময়সীমা ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হবে কি না।


অন্য চারটি প্রশ্ন ছিলো শ্রম সংক্রান্ত- ২০১৫ সালের “Jobs Act” আইন সংশোধন করা হবে কিনা। 


এগুলো শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ক হলেও, জনসচেতনতা এবং রাজনৈতিক সমর্থনের অভাব বিষয়গুলোকে দুর্বল করে দেয়।


ভোটার উপস্থিতি:


ইতালির আইন অনুযায়ী, গণভোট কার্যকর হতে হলে- ৫০ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতি জরুরি। কিন্তু এই ভোটে উপস্থিতি ছিলো মাত্র ২২.৭%। সুতরাং গণভটটি বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়।


এই পরিসংখ্যান শুধুমাত্র ভোট ব্যর্থতার প্রতীক নয়, এটি এক গভীর গণতান্ত্রিক সংকটের প্রতিফলন। রাজনৈতিক উদাসীনতা, মিডিয়ার সীমিত কাভারেজ, ক্ষমতাসীন সরকারের ‘ভোট বর্জন’ কৌশল, সবকিছু মিলে ভোটারদের কাছে এই গণভোটের গুরুত্ব আগেই ফিকে হয়ে গিয়েছিলো।


আমার কাছে এই ব্যর্থতা অপ্রত্যাশিত ছিলো না। ইতালির রাজনীতি ও সমাজ এখনও বহুজাতিক, বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতা গ্রহণে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।

বিশেষ করে নাগরিকত্ব নিয়ে জনমনে এক ধরনের "ভয়" বা "রক্ষণশীলতা" কাজ করে। অনেকেই মনে করেন, সহজে নাগরিকত্ব দিলে “ইতালিয়ান পরিচয়ের” অবমূল্যায়ন হবে। এই মানসিকতা সমাজে গভীরভাবে গেঁথে আছে।


একইভাবে, শ্রম আইন সংস্কারও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পছন্দের বিষয় ছিলো না। তারা স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আগ্রহী। গণভোট ব্যর্থ হওয়ায় মূলত মেলোনি সরকারের অবস্থান আরো মজবুত হলো।


ইতালির ২০২৫ সালের গণভোট প্রমাণ করে, শুধুমাত্র আইনি প্রক্রিয়া যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, জনসচেতনতা এবং সমাজের মানসিক প্রস্তুতি ছাড়া বড় কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। নাগরিকত্ব কিংবা শ্রম অধিকার- উভয়ই মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্ন।

খুঁজুন