রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় জাতির বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় সংসদে শিক্ষকের প্রতিনিধিত্ব সময়ের দাবী

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় সংসদে শিক্ষকের প্রতিনিধিত্ব সময়ের দাবী

মুহাম্মদ মাসুম খান: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  শুধু একজন ব্যক্তির নাম নয়, বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠানের নাম,একটি আদর্শ একটি দর্শনের নাম,একটি দেশের নাম। বাংলাদেশের নামকরন থেকে শুরু করে জাতীয় সংগীত নির্বাচন,জাতীয় পতাকা নির্বাচন,সংবিধান প্রনয়ন সহ স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রত্যেকটি পদক্ষেপে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং নেতৃত্ব।


বঙ্গবন্ধু যেন একটি শিখা অনির্বান,তার আলোতে আলোকিত আজ কোটি কোটি জনতা।বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে জীবনে ধারন করে, লালন করে, পালন করে ত্যাগ তিতিক্ষায় যথাযথ ভাবে জীবন গড়ে তুলতে পারলেই বাঙ্গালী কেউ হয়ে উঠবে কৃষকবন্ধু, কেউ হতে পারবেন  ছাত্রবন্ধু, কেউ হতে পারবেন  শিক্ষকবন্ধু। তেমনি একজন ব্যক্তিত্ব যিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে শৈশব,কৈশোর,ছাত্রজীবন,কর্মজীবন এবং শিক্ষকজীবনে একনিষ্ট এবং গভীরভাবে লালন, ধারন এবং পালন করে নিজেকে বাংলার মানুষের কাছে শিক্ষকবন্ধু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।


তিনি আর কেউ নয়। তিনি আমাদের সারা বাংলার শিক্ষক সমাজের কিংবদন্তি নেতা,অবিসংবাদিত শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু। কে এই শাহজাহান আলম সাজু?  কিভাবে তিনি হলেন  বাংলার  শিক্ষকবন্ধু? সেই ইতিহাস জেনে প্রত্যেক শিক্ষককে শিক্ষকবন্ধুকে অনুসরন করতে হবে তাহলেই বাংলার  শিক্ষক সমাজ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ বিনির্মানে সক্ষম হবে। 


পুরোনো ঢাকার ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব  পাতলা খানের বংশধর অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু ৩০ জুন ১৯৬৭ সালে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার মেঘনা বিধৌত আশুগঞ্জ উপজেলার বৈকন্ঠপুর( বড়তল্লা)গ্রামের এক সম্ভান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা জনাব সামসুল হক বাংলাদেশ রেলওয়েতে সেতু বিভাগের কর্মকর্তা  ছিলেন। মাতা রহিমা খাতুন পরোপকারী আদর্শ গৃহিনী। তার পিতামহ মোলভী জনাব আলী সরকার ছিলেন একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী এবং আশুগঞ্জ বন্দরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। জনাব শাহজাহান আলম সাজু স্থানীয় প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ১৯৮৪ সালে ঢাকা গভঃ কমার্শিয়াল ইন্সটিটিউট থেকে মেধা তালিকায় ২য় স্থান নিয়ে ডিপ্লোমা ইন কমার্স অর্জন করেন। ১৯৮৯ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্মান এবং ১৯৯০ সালে এম,বি,এস ডিগ্রী লাভ করেন।


ছাত্র জীবন থেকেই তার মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষতা,কঠোর পরিশ্রম,স্বচ্ছ আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চা,দায়িত্ববোধ,সমাজ সচেতনক্তা,দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ সম্বলিত যোগ্য নেতৃত্বের গুনাবলী পরিস্ফুট হয়ে উঠে। তিনি ঢাকা মহানগর মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়ে ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্বে আসেন৷ পরবর্তিতে তিনি ঢাকা মহানগর ছাত্র লীগের সদস্য,ঢাকা গভঃ কমার্শিয়াল কলেজের আহবায়ক,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক ও  প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের টানা ৪ টি  কেন্দ্রিয়  কমিটিতে  দুইবার সদস্য,১ বার সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক ও ১ বার সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করতে যেয়ে তিনি  বার কারা নির্যাতনের শিকার হন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার নির্মান করার অপরাধে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত হন। পরবর্তিতে ছাত্রদের তীব্র আন্দোলনের মুখে তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। ১৯৮৬ সালে এরশাদ  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যেয়ে ছাত্রদের দাবী না মেনে চলে যাওয়ার সময় শাহজাহান আলম সাজুর নেতৃত্বে ছাত্ররা ব্যারিকেড সৃস্টি করে রাষ্ট্রপতিকে তাৎক্ষনিকভাবে দাবী মানতে বাধ্য করান। পরেরদিন এই ঘটনা সকল জাতীয় পত্রিকার প্রকাশিত হলে সাজু সাহসী ছাত্রনেতা হিসেবে সারাদেশে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯০ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে গাজিপুর থেকে স্থানান্তরের  স্বিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শাহজাহান আলম সাজুর নেতৃত্বে  সর্বদলীয় প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে উঠে।


৭ ফেব্রুয়ারী পুলিশ শাহজাহান সাজু সহ ১২ নেতাকে গ্রেফতার করে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালায়।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তৎকালীন ৮ দলীয় জোট নেত্রী শেখ হাসিনা এক বিবৃতিতে এই গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ করে মুক্তি দাবী করেন ( দৈনিক ইত্তেফাক /বাংলার বানী/ দৈনিক বাংলা/ দৈনিক খবর ০৮/০২/১৯৯০) তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাকালীন প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের সন্ত্রাসীরা দুইবার অপহরন করে  তাকে হত্যার চেস্টা চালায়। কিন্তু  বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার তড়িৎ হস্তক্ষেপে আল্লাহর বিশেষ কৃপায় আলোকিকভাবে তিনি প্রানে রক্ষা পান। 


গতানুগতিক ছাত্র রাজনীতির বাহিরে সৃজনশীল কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে জনাব শাহজাহান আলম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে নতুন ধারা সৃস্টি করেছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং সেন্টার ও ভর্তি গাইড চ্যালেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন। কোচিং সেন্টারের আয় থেকে অর্জিত টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্নিকটে শেখ পাড়ায় জমি ক্রয় করে " বঙ্গবন্ধু পল্লী স্থাপনের অনুকরনীয় দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেন। সৃষ্টিশীল ও গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতির জন্য তিনি 'পালক' এডওয়ার্ড লাভ করেন।


বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে জনগনের নিত্য সঙ্গী,বিশ্বস্থ বন্ধু,জনপ্রতিনিধি হয়ে জাতি গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য যোগ্য নেতা হবেন এটাই ছিল তার আজন্ম স্বপ্ন।সেই লক্ষ্যে তিনি প্রিয় নেতা রাজনৈতিক আদর্শের দার্শনিক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকে যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিনত করার লক্ষ্যে আশুগঞ্জ বঙ্গবন্ধু কারগরি ও বানিজ্য মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহন করেন। শিক্ষকতা পেশার প্রতি পূর্ব থেকে সৃষ্ট দূর্বলতা তদুপরি তৎকালীন সরকারের হিংসাত্মক আচরন, নিপীড়ন মোকাবেলা করতে যেয়ে এ পেশায় ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে যান। অনেক আকর্ষনীয় সুযোগ বিসর্জন দিয়ে শিক্ষকতা পেশাকেই চূড়ান্ত হিসাবে গ্রহন করেন।


ছাত্রনেতা থেকে মোঃ শাহাজাহান আলম সাজু শুরু করেন শিক্ষকতা জীবন।শিক্ষকতা পেশায় জড়িত হবার সুবাদে তিনি দেশের শিক্ষা বৈষম্য ও বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারিদের দুরবস্থা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পান।বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যার হৃদয়ে,ছাত্র জীবনে গনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক কর্মকান্ডের মধ্যে বেড়ে উঠা,সাধারনের সেবা করা যার মজ্জাগত, ক্লাস রুমের ক্ষুদ্র গন্ডিতে তিনি আবদ্ধ থাকবেন কি করে? তিনি শিক্ষকদের সমস্যা নিরসনে প্রয়াসী হন এবং কারিগরি শিক্ষকদের সংগঠিত করতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক সমিতি গঠন করেন। কিন্তু কারিগরি শিক্ষার প্রতি মানুষের সঠিক ধারনা ও দৃষ্ঠিভঙ্গির অভাবহেতু দেশে পর্যাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক স্বল্পতার কারনে তাদের মাধ্যমে দাবী আদায় সহজ হবে না বুঝতে পেরে তিনি শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সাথে একিভূত হয়ে আন্দোলনে প্রয়াসী হন।


তার দুরদর্শিতা এবং সুযোগ্য নেতৃত্বে আন্দোলন জোরালো হয় এবং তিনি নেতৃত্বের পুরোভাগে উঠে আসেন।২০০৬ সালে ১৬ জুলাই মুক্তাঙ্গনে বিশাল জমায়েত থেকে তার নেতৃত্বে শিক্ষক কর্মচারীরা বেতন শতভাগে উন্নীত করার দাবীতে সচিবালয় ঘেরাও এর উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ে পৌছামাত্র পুলিশ শাহজাহান আলম সাজুকে টার্গেট করে আক্রম করায় তিনি রক্তার্ত আহত হন। এই জঘন্য ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, দেশ উত্তাল হয়ে উঠে। ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক, মিডিয়াসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রতিবাদী হয়ে উঠায় সরকার শিক্ষকদের সাথে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়। পরবর্তিতে শিক্ষকদের দাবীর প্রতি সম্মান পূর্বক বেতন ১০০% উন্নীত করা হয়। পরবর্তিতে জাতীয় বিএনপি- জামাত সরকারের পরিবর্তন ঘটে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু মাত্র ৪৪ বছর বয়সে তরুন শিক্ষক নেতা হিসেবে  শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যান ট্রাস্টের সদস্য সচিবের দায়িত্ব গ্রহন করেন।


সচিবের দায়িত্ব পাওয়ার সুবাদে দেশের স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসার শিক্ষকদের সাথে তার প্রত্যক্ষ যোগাযোগের বিস্তৃতি ঘটে। জোট সরকারের সময় দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত হওয়া, তীব্র আর্থিক ঘাটতি সহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত কল্যান ট্রাস্টে অত্যন্ত নিষ্ঠা,দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে কাজ করতে শুরু করেন। ২০১১ সালে তার বাবার আকস্মিক  মৃত্যু তাকে অত্যন্ত শোকাহত, অভিভাবকহীন এবং অসহায় করে ফেলে। এরকম মানসিক অবস্থার মধ্যেও তিনি তার দায়িত্ব থেকে পিছ পা হননি। শোককে শক্তিতে পরিনত করে আরো দ্বিগুন উদ্দিপনায় শিক্ষকদের কল্যানে নিজেকে নিবেদিত করেন। তিনি উপলব্দি করেন শিক্ষা বান্ধব শেখ হাসিনা জাতির উন্নতির জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার গুনগত পরিবর্তনে সচেষ্ট হলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বাধীনতার চেতনাধারী শক্তি অত্যন্ত দূর্বল ও বিচ্ছিন্ন। এমতাবস্থায় বিদ্যমান বৈষম্য মূলক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সুবিধাবাদী শিক্ষক নেতৃত্বের মাধ্যমে শেখ হাসিনার শিক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এই উপলব্ধি থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার আর্শিবাদ এবং পরোক্ষ নির্দেশনায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সর্বস্তরের শিক্ষকদের নিয়ে ২০১১ সালের ৬ মার্চ   জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানের জাতীয় ভিত্তিক সংগঠন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের  (স্বাশিপ)  আত্ম প্রকাশ করেন।


শুরু হয় আরেকটি সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মান এবং বৈষম্যহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম,শিক্ষকের মর্যাদা প্রতিষ্টার সংগ্রাম,বহুদা বিভক্ত শিক্ষক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার সংগ্রাম।


একদিকে প্রান প্রিয় সংগঠন অন্যদিকে কল্যান ট্রাস্টের সেবার দায়িত্ব। তিনি  সর্বোচ্চ সততা,নিরপেক্ষতার সাথে অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকদের টাকা পৌছে দিয়েছেন। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একজন অতিরিক্ত সচিবের মর্যাদা সম্পন্ন হয়েও সরকারের কোন সুবিধা না নিয়ে নিজ খরচে সারা দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষক- কর্মচারীদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে চেক তুলে দিয়ে এসেছেন। শিক্ষকদের একজন অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে অসুস্থ শিক্ষকের হাসপাতালে যেয়ে চেক তুলে দিয়ে এসেছেন। তার সততা, নিষ্ঠা এবং কর্মদক্ষতার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ২০১২ সালে ২য় বারের তাকে শিক্ষক কর্মচারী কল্যান ট্রাস্টের সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়।অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু শুধু বেসরকারি এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের কল্যানে এবং অধিকার আদায়েই ভূমিকা রাখেননি, এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক,প্রাথমিক শিক্ষক, নন এমপিও শিক্ষকসহ সকল ধরনের শিক্ষক কর্মচারীদের যেকোন ন্যয্য অধিকার আদায়ে পাশে থেকেছেন,সহযোগিতা করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন।


২০১৫ সালে সারা বাংলার বেসরকারি  শিক্ষক  সমাজ নতুন পেস্কেলে অর্ন্তভুক্তি নিয়ে চরম উৎখন্ঠায় ছিলেন পেস্কেল মঞ্জুরি কমিশন প্রধান ড. ফরাস উদ্দিনের বেসরকারি শিক্ষকদের বাহিরে রেখে পেস্কেল ঘোষনার সুপারিশে। সরকার বিরোধী কিছু শিক্ষক সংগঠন সাধারন শিক্ষকদের সেন্টিমেন্টক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলানোর মতো আত্মঘাতি কর্মসূচীর ঘোষনা দেন। সরকার বিরোধী প্রচারনা করতে থাকেন। কিন্তু অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু একমাত্র শিক্ষক নেতা যিনি শিক্ষকদের  আশ্বস্থ করেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বেচে থাকতে এদেশে বেসরকারি শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন পেস্কেল হবে না, ইনশাল্লাহ। তথাপিও ড. ফরাস উদ্দিন যখন বেসরকারি শিক্ষকদের বাদ দিয়েই পেস্কেল ঘোষনার চূড়ান্ত সুপারিশ করেন, তৎক্ষনাৎ অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু তার প্রানপ্রিয় সংগঠন স্বাশিপের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে ছূটে যান গনভবনে, প্রধান মন্ত্রীর বাসভবনে। তিনি সেদিন বলেন,নেত্রী, আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা,বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষ চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন শিক্ষকদের বুভুক্ষ রেখে সোনার মানুষ এবং সোনার বাংলা গড়া সম্ভব নয়। তাই তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশে সকলের অনেকের অমত  সত্বেও প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করন করেছিলেন। "আপনি সেই বাবার কন্যা হয়ে শিক্ষকদের বঞ্চিত করতে পারেন না, শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন  পেস্কেল ঘোষনা করতে পারেন না। পরবর্তিতে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের যথারীতি পেস্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।


পেস্কেলে অন্তর্ভুক্তির পর তিনি ঝাপিয়ে পড়েন শিক্ষা জাতীয়করনের দাবী নিয়ে।তিনি সারাদেশের প্রতিটি জেলায়, স্বাশিপের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সাংগঠনিক সফর করেন এবং ঘোষনা দিয়েছিলেন শিক্ষা জাতীয়করনের না করে ঘরে ফিরে আসবেন না। কিন্তু পরবর্তিতে কতিপয় হাইব্রিড নীতি-নৈতিকতা বর্জিত শিক্ষক সংগঠনের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বড় করে দেখা  বিতর্কিত কার্যক্রম, সরকার পন্থি বলে দাবী করা কিছু সংগঠনের অসহযোগিতা এবং পরশ্রিকাতরতার জন্য সেটা বাস্তবায়ন সম্ভব হয় নি। কিন্তু অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম বসে থাকেননি, প্রতি নিয়ত বিরামহীন ভাবে সভা,সেমিনার,সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন করেছেন শিক্ষা জাতীয়করন সহ সকল ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে। শিক্ষকদের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালবাসা,ত্যাগ এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে শিক্ষক সমাজের কাছে তিনি হয়ে উঠেন  একজন অবিসংবাদিত  কিংবদন্তি শিক্ষক নেতা। তারই প্রেক্ষাপটে ২০১৫ সালে ১৫ এপ্রিল নারায়নগঞ্জ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষকদের চেক বিতরন অনুষ্ঠানে স্বাশিপের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মজলুম শিক্ষক নেতা জহীর উদ্দিন মাস্টার অধ্যক্ষ মোঃ  শাহজাহান আলম সাজুকে শিক্ষকবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি  হিসেবে ছিলেন এ,কে,এম শামীম ওসমান (এম,পি),বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন এডিসি শিক্ষা সহ বেশ কিছু শিক্ষা কর্মকর্তা। স্বাশিপের নেতৃবৃন্দ এবং কয়েক শত শিক্ষক মূহু মুহু করতালির মধ্য দিয়ে অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজুকে শিক্ষকবন্ধু হিসেবে স্বিকৃতি দিয়েছিলেন এবং বরন করে নিয়েছিলেন। সেই থেকেই বঙ্গবন্ধুর পরীক্ষীত সৈনিক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু হয়ে বাংলার শিক্ষকবন্ধু।


টানা ৫ বার বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি কল্যান ট্রাস্ট্রে কাজ করতে যেয়ে তিনি ঐতিহাসিক অনেক কাজ করেছেন। যে কল্যান ট্রাস্টে শিক্ষকগন যেতেই সা্হস পেতনা দালালদের ছাড়া তিনি সকলের জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত করে দেন। প্রতিদিন বিভিন্ন দূর দুরান্ত থেকে আসা   শত শত শিক্ষক পরিবারের সুখ দুঃখের কাহিনী শুনেন একান্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সহিত। যুগান্তকারী এবং বৈপ্লবিক উন্নয়ন করেছেন তিনি কল্যান ট্রাস্টে।বিভিন্ন বিভ্রান্তকারী, গুজব ছড়ানো, শিক্ষক সংগঠনের নেতা কর্মিদের অশিক্ষক সুলভ আচরন,অশালীন মন্তব্য সত্বেও তিনি শুধু শিক্ষকের মর্যাদার কথা ভেবে কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করেন নি বা কোন শিক্ষকের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন নি। অনন্য অসাধারন ধৈ্য্য আর বিস্ময়কর সাংগঠনিক দক্ষতায় আপন মহিমায় শিক্ষকদের সকল দাবী আদায় করছেন এবং বাংলার মানুষের কাংখিত দাবী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বৈষম্যহীন শিক্ষা তথা শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করনের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিত ভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।


নতুন পেস্কেলে অন্তর্ভুক্ত, ৫% ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী ভাতাসহ শিক্ষক সমাজের সকল ন্যায্য অধিকার আদায়ে তিনি অগ্রনী ভূমিকা রেখেছেন। শিক্ষকের অধিকার ও মর্যাদার পাশাপাশি তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। সাম্প্রদায়িক শক্তি,জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি শিক্ষক সমাজকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন -প্রতিরোধ করেছেন। বর্তমান সরকারের বৈপ্লবিক উন্নয়নের সুফল তুলে ধরেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ বিনির্মানে কাজ করেছেন নিরলসভাবে। 


নিজ এলাকা ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ আসন সহ সারাদেশ ব্যাপী তিনি করোনার সময় মানবিক সহযোগিতা করেছেন।বন্যা এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। 


ইতিমধ্যেই তিন এলাকায় আওয়ামী লীগ আদর্শের  একজন সৎ,ত্যাগী এবং মানবিক নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। উল্লেখ্য ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ আসন ছিল বঙ্গবন্ধুর খুনী তাহের উদ্দিন ঠাকুরের এলাকা। ৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের  কেউ এই আসন থেকে সাংসদ হতে পারেন নি। এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া -২ আসন থেকে বিএনপির এমপি পদত্যাগ করায় সুযোগ এসেছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরীক্ষীত নেতা শিক্ষকবন্ধু অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজুকে মহান জাতীয় সংসদ সাংসদ হিসেবে সুযোগ দেয়ার। সারা বাংলার শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষক সমাজকে আওয়ামী আদর্শে ঐক্যবদ্ধ করার অগ্রদূত হিসেবে অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজুর জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা এখন সময়ের দাবী। 


   


জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। 


খুঁজুন