শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
কৃষি ঝালকাঠিতে আমন আবাদে ব্যস্ত কৃষক, বিলম্বের শঙ্কা

ঝালকাঠিতে আমন আবাদে ব্যস্ত কৃষক, বিলম্বের শঙ্কা

ঝালকাঠিতে জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নিম্নচাপ, লঘুচাপ ও অতিবৃষ্টির কারণে আমন আবাদে বিলম্বের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 
প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সঠিক সময়ে বীজ রোপণ ব্যাহত হচ্ছে। জমিতে এখনও পানি জমে থাকায় কৃষকরা চাষাবাদে প্রয়োজনীয় কাজ এগিয়ে নিতে পারছেন না।

সাধারণত বৃষ্টির পানি ফসলের জন্য আশীর্বাদ হলেও এবার অতিবৃষ্টি কৃষকদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে বহু বীজতলা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, যা রোপণের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এদিকে সার, কীটনাশক, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হবে। তারা সারের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

রাজাপুর উপজেলার কৃষক কামরুল হোসেন বলেন, “এবার জ্যৈষ্ঠ মাস থেকেই অতিবৃষ্টি শুরু হয়েছে। নিম্নচাপ ও লঘুচাপের কারণে জমি তলিয়ে থাকায় আবাদের শেষ পর্যায়েও বীজ রোপণ করা যাচ্ছে না। আগাম যারা বীজ রোপণ করেছিলেন তাদের অনেকের চারা পচে গেছে। এখন নতুন করে রোপণের জন্য পানি কমার অপেক্ষা করছি।”

আরেক কৃষক আবদুল হাই বলেন, “কয়েক বছর ধরে ডিলার ও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারের দাম বাড়ায়। অথচ প্রশাসন বলে, সংকট নেই। কৃষকের জন্য এটি দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চাই এবার বাস্তবিক পদক্ষেপ নেয়া হোক।”

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪৬ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের ধান ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ৩৫ হাজার ২৭০ হেক্টরে আবাদ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “নিচু এলাকার জমিতে পানি থাকায় কিছু কৃষকের রোপণে বিলম্ব হচ্ছে। তবে কৃষকের ধান উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে এবং সার বাজার মনিটরিং আরও কঠোরভাবে করা হবে। কৃষকের সুবিধার্থে কৃষি বিভাগ সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।” তিনি আরও জানান, জেলার সব বীজতলা নষ্ট হয়নি। কয়েকটি এলাকায় সামান্য ক্ষতি হলেও বীজ সংকট হবে না।

খুঁজুন