চট্টগ্রামে
নগরীতে গত চার দিনের টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ডুবছে নগরবাসী। কখনো থেমে
থেমে কখনো ভারী বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও হাঁটুপানি ও কোথাও
কোমর পানি আবার কোথাও এক গলা পানিতে ডুবে আছে নগরী। বহদ্দারহাটের ফ্লাইওভার সংলগ্ন
মেয়রের বাসভবন থেকে শুরু করে উঁচু এলাকা হিসেবে পরিচিত নন্দনকানন এলাকার সড়কও
পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে নতুন নতুন এলাকা জলমগ্ন হচ্ছে।
রবিবার
(৬ আগস্ট) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি তলিয়ে গেছে কোমর সমান
পানিতে। দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে ময়লা পানি ঢুকে যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র। পানি
ঢুকে পড়ায় এসব অনেক ঘরে রেস্টুরেন্টে, হোটেলে জ্বলছে না রান্নার চুলা। অফিস, শিল্প
ও কলকারখানা খোলা থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মীরা। উন্মুক্ত নালা ও ফুটপাতের ভাঙা
স্ল্যাব পথচারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে
পরিবহন স্বল্পতা দেখা দেয়। পরিবহন সংকটের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়ার নেওয়ার অভিযোগও
উঠেছে। বাড়তি ভাড়া হাঁকছেন রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশা চালকরা।
বারইপাড়া,
চেয়ারম্যানঘাটা, এক কিলোমিটার, কাপাসগোলা, চকবাজার, দেওয়ান বাজার, খলিফাপট্টি,
মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, শুলকবহর, মোহাম্মদপুর, কাপাসগোলা,
কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া, ফিরিঙ্গিবাজার, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক
এলাকা, তিন পুলের মাথা, রিয়াজুদ্দিন বাজার, মুরাদপুর, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ,
কালারপোল, বড়পোল, হালিশহরসহ নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রবিবার (৬ আগস্ট) ভোর ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৯৪
মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৯টা
থেকে রবিবার ৯টা পর্যন্ত) চট্টগ্রামে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ২১৮ মিলিমিটার। এটাই চলতি
মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড।
জলাবদ্ধতা
নিরসনে চসিকের একটি, চউকের দুইটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পের আওতায় ১১
হাজার ৩৪৪ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে নগরীতে ৫,৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম
শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক’
মেগা প্রকল্পটি সিডিএ’র তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর
৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড বাস্তবায়ন করছে।
এ দিকে
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ আশঙ্কার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন পাহাড়ে
ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত ২৫০ পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে। শনিবার (৫
আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান আকবরশাহ এলাকার
বিজয়নগর ও ঝিল পাহাড়গুলোতে অভিযান চালিয়ে এসব পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠান।
এ সময়
জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, পাহাড়ধসে যাতে প্রাণহানি না
ঘটে সেজন্য মাইকিং থেকে শুরু করে সবাইকে সচেতন করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের টিম
কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে ২৫০ পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তাদের
জন্য শুকনো খাবার থেকে শুরু করে প্রতিবেলার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের সব পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারকে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে
অবস্থান করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জলাবদ্ধতায় ডুবছে চট্টগ্রামবাসী
জলাবদ্ধতায় ডুবছে চট্টগ্রামবাসী
চট্টগ্রামে নগরীতে গত চার দিনের টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ডুবছে নগরবাসী। কখনো থেমে থেমে কখনো ভারী বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও হাঁটুপানি ও কোথাও কোমর পানি আবার কোথাও এক গলা পানিতে ডুবে আছে নগরী। বহদ্দারহাটের ফ্লাইওভার সংলগ্ন মেয়রের বাসভবন থেকে শুরু করে উঁচু এলাকা হিসেবে পরিচিত নন্দনকানন এলাকার সড়কও পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে নতুন নতুন এলাকা জলমগ্ন হচ্ছে।রবিবার (৬ আগস্ট) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি তলিয়ে গেছে কোমর সমান পানিতে। দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে ময়লা পানি ঢুকে যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র। পানি ঢুকে পড়ায় এসব অনেক ঘরে রেস্টুরেন্টে, হোটেলে জ্বলছে না রান্নার চুলা। অফিস, শিল্প ও কলকারখানা খোলা থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মীরা। উন্মুক্ত নালা ও ফুটপাতের ভাঙা স্ল্যাব পথচারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে পরিবহন স্বল্পতা দেখা দেয়। পরিবহন সংকটের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়ার নেওয়ার
অভিযোগও উঠেছে। বাড়তি ভাড়া হাঁকছেন রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশা চালকরা।বারইপাড়া, চেয়ারম্যানঘাটা, এক কিলোমিটার, কাপাসগোলা, চকবাজার, দেওয়ান বাজার, খলিফাপট্টি, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, শুলকবহর, মোহাম্মদপুর, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া, ফিরিঙ্গিবাজার, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, তিন পুলের মাথা, রিয়াজুদ্দিন বাজার, মুরাদপুর, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ, কালারপোল, বড়পোল, হালিশহরসহ নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রবিবার (৬ আগস্ট) ভোর ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৯টা থেকে রবিবার ৯টা পর্যন্ত) চট্টগ্রামে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ২১৮ মিলিমিটার। এটাই চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড।জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিকের একটি, চউকের দুইটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পের আওতায় ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে নগরীতে ৫,৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক’ মেগা
প্রকল্পটি সিডিএ’র তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড বাস্তবায়ন করছে।এ দিকে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ আশঙ্কার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত ২৫০ পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে। শনিবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান আকবরশাহ এলাকার বিজয়নগর ও ঝিল পাহাড়গুলোতে অভিযান চালিয়ে এসব পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠান।এ সময় জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, পাহাড়ধসে যাতে প্রাণহানি না ঘটে সেজন্য মাইকিং থেকে শুরু করে সবাইকে সচেতন করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের টিম কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে ২৫০ পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য শুকনো খাবার থেকে শুরু করে প্রতিবেলার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চট্টগ্রামের সব পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারকে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত