শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় জ্বালানি সংকটে বাড়তে পারে দ্রব্যমূল্য

জ্বালানি সংকটে বাড়তে পারে দ্রব্যমূল্য

সার্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে আগামীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই শঙ্কার কথা জানান। জাতিসংঘের ওএইচআরএলএলএস এবং আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় এলডিসি উত্তরণ বিষয়ক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি কেবল জ্বালানি খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব পড়ছে সব ধরনের পণ্য, খাদ্যদ্রব্য এবং সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। এর ফলে সামনের দিনগুলোতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্ববাজারের উদাহরণ টেনে অর্থমন্ত্রী জানান, এটি কোনো একক দেশের সমস্যা নয় বরং একটি বৈশ্বিক সংকট। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে এবং শ্রীলঙ্কায় বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশে সরকার এখনো জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, তবে এই সহনশীলতা কতদিন বজায় রাখা সম্ভব হবে তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো জানান, জনগণের ওপর যেন অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি না হয়, সরকার সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সরকারি তহবিল যদি এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, তবে শেষ পর্যন্ত সেই চাপ জনগণের ওপরই গিয়ে পড়বে। তাই বাস্তবতা বিবেচনা করে এবং দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজগুলো ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজগুলো সম্পন্ন হলে দেশ গ্র্যাজুয়েশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবে এবং তখন বিষয়টি জাতিসংঘে উপস্থাপন করা হবে। তবে বর্তমানে সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ চলমান থাকায় এখনই গ্র্যাজুয়েশনের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি পরিষ্কার করেন।

খুঁজুন